somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রেষ্ট মানুষ এবং কিভাবে

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে আজ অবধি অসংখ্য মহা মানবের জন্ম হয়েছে। তারা এ নিরশ পৃথিবী ছেরে চলে গেলেও বেঁচে আছেন আজ সবার মনে।তাদের কর্ম তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে এ ধরাপৃষ্টে। সেই মানুষ গুলোর মনে বিচরণ করছে এ মহা মানব গন, যাদের অসহায়ত্বের শ্রীঙ্খল ভাংতে তারা সারা জীবন পরিশ্রম করে গেছেন। সম্পদ আর গরিবের প্রতি সহানুভুতি দুটো বিপরিত মুখি। যে কারো কোন একটা থাকলে অন্যটির অবস্থান থাকবে শুন্যে। কেউ এর বিপরিত হতে পারলেই সে মহা মানবের দাড়প্রান্তে। একটু সুক্ষ ভাবে পর্যবেন করলে খুব সহজেই চোখে পড়বে ব্যাপারটা।

ঢাকা এসেছিলাম কোন কারনে। ভাইগ্না টিপু নিয়ে চললো ওর বন্ধুর বাসায়। ট্রাফিক সিগনালের সবুজ লাইট জ্বলার অপেক্ষায় ট্যাক্সিতে বসে আছি। জানালা খোলা থাকায় ওল্ড ইজ গোল্ড মডেলের একটা গোল্ডেন গান কানে ভেসে এল " মানুষ মানুষের জন্য " পাশে তাকিয়ে দেখি গাড়িতে ভদ্র মহিলা কোলে রাখা কুকুরটাকে আদর করছে আর গানটা শুনছে। ভদ্র মহিলার রুচি দেখে না বলা ধন্যবাদ পেয়ে গেল। কিন্তু আর রইলো না সে ধন্যবাদ, কারন যখন দেখলাম একজন ভিক্ষুক এক টাকা চেয়েও খালি হাতে ফিরে এল। কিছু মানুষের গরিবের প্রতি সহানুভুতি শুধু মুখেতেই সীমাবদ্ধ। কাজে কর্মে কিছু নেই। উপদেশ সবাই দিতে জানে,সেটা পালন সবাই করতে পারে না। যারা পারে তারাই ব্যাতিক্রমি মানুষ। আর এরাই শ্রেষ্ট মানুষ হিসেবে পৃথিবীর বুকে আজও বেঁচে আছে।

মাদার তেরেসা কে আজ সবাই মনে করে থাকে। কোন ধর্মিয় দৃষ্টিকোন থেকে নয়, ভাল মানুষ হিসেবেই এরা পরিচিত।সমাজের সাধারন মানুষের দুঃখ গুলো কে তারা দেখেছে নিজের দুঃখ হিসেবে। পাশে দাঁড়িয়েছে আপনজন হয়ে।
( পুরনো কথার যের ধরে ) সম্পদ আর গরিবের প্রতি সহানুভুতি বিপরিত মুখি। )আমার যখন সম্পদ থাকবেনা তখন হয়তো ভাববো, আমার যদি অধিক অর্থ সম্পদ থাকতো তাহলে এই দরিদ্র মানুষের পাশে এসে দাড়াতাম। ওদের দুঃখ গুলোকে শেয়ার করতে পারতাম। আমার এ ভাবনার শীগ্রই পরিবর্তন হবে যখন অঢেল ধন সম্পত্তি আমার হস্ত গত হবে।

সমাজের বিত্তবানদের ঐ নিচ তলার মানুষদের কথা ভাববার সময় হয় না। কেও খেয়ে অতিরিক্ত খাবার ফেলে দিচ্ছে আবার কেও না খেয়ে উপবাস থাকছে। এ বিষয়টা হয়তো প্রিন্সেস ডায়নার ভাল লাগেনি। হয়তো হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে বিষয়টা তার। তাইতো ডায়না পাশে এসে দাড়িছেন সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে।চেষ্টা করছেন তাদের দুঃখ কে লাঘব করতে। পেরেছেন কি? হয়তো বা। যদিও পেরেছেন,তবুও সুদূর প্রশারি কোন ফল বয়ে আসেনি তাতে। কারন এ ভাল মানুষ গুলোর কর্ম কান্ড থেমে গেছে তখনই, যখন তাদের নিঃশ্বাস এ পৃথিবী ছেরেছে।

এ ধরার সৃষ্টির লগ্ন থেকেই ভাল মানুষের সাথে সাথে খারাপ মানুষও এসেছে। খারাপ না থাকলে ভাল'র কোন সম্মানই থাকতো না। এই ভাল খারাপের প্রার্থক্যকে বুঝে ভালকে গ্রহন করার জন্যই হয়তো স্রষ্টা খারাপের জন্ম দিয়েছেন। নিজের ভাল আর পরের ভাল, এ দুটি থেকে নিজের ভালটা সবাই চায়। পরের ভালটা সবাই ভাবে না ,যেমনটা ভাবে না পরের দুঃখ টা।

আমাদের দেশে ড. মোহাম্মদ ইউনুস এটা ভেবেছেন একটু অন্য ভাবে। যেভাবেই ভাবুক, তিনি ভেবেছেন সেটাই বড়। কিছু দুখি মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে উনার ভাবনায়। যা অন্য কেউ ভাবেনি। ড. মোহাম্মদ ইউনুস কে সুদ ব্যাবসায়ী বা সময়ের সদ ব্যাবহার কারী সহ যা-ই বলেন না কেন আমি উনাকে সমর্থন করবো। ুক্ষুদ্র ঋনের মাধ্যমে তিনি দারিদ্র বিমোচনের চেষ্টা করছেন।আংশিক সফলও হয়েছেন।
আমাদের দেশে কোন প্রতিষ্টিত লোককে দেখা হয় তার সাময়িক যোগ্যতা দিয়ে। সে আগে কি ছিলো বা কেমন ছিল,সেটা তেমন একটা দেখা হয়না। এখন সে কেমন বা কি হয়েছে সেটাই মুখ্য বিষয়। আমাদের দেশের কেও নবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে সেটাই আমার কাছে অনেক বড় মনে হয়েছে। যারা বাংলাদেশকে চিনতো না,জানতো না, তাদের দেশের টিভি চ্যানেল বা পত্র পত্রিকাতে দুদিনের জন্যে হলেও ড.মোহাম্মদ ইউনুস কে ও বাংলাদেশকে স্বরন করেছে। একজন প্রবাসি হিসেবে আমার কাছে যা অনেক বড় একটা গর্ভের বিষয় বলে মনে হয়েছে।

(প্রথম পাতায় প্রকাশ করা হয়নি )
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খরচ

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯


কোন কোন রাত্রি শেষের বেগুনী আলোয়
বাতাস যখন রতিতৃপ্ত দৃষ্টির মত কোমল-
উন্মোচনের আগ্রহে উদগ্রীব আলো
কী এক দ্বিধায় থমকে আছে পুবের দরজায়,
হঠাৎ যেন কেউ মাছের মত
ছেকে তোলে জালে।
লাগায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদের বায়না : ৩০ সেট গয়না

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

একসময় এই প্রবাদটি খুব প্রচলিত ছিল, এমনকি পণ্ডিত মহলেও এটি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হতো।
সময় বদলে গেছে; যমুনা নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছে।



বাস্তবতার নিরিখে আমাদের সমাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×