somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শারফুর সাথে একদিন....

২৯ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওমরায় যাব বলে অনেক আগে থেকেই চিন্তা ভাবনা করে রেখেছি। তবে তারিখটা কি হবে সেটা ঠিক করা হয়নি। আমাদের কম্পানির কয়েকজন কলিগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম একটা রেন্ট কার নিয়ে মক্কা ও মদীনা ওমরা ও রওযা জিয়ারত করে আসবো। কিন্তু পাকা পুক্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কেউ ই।

হঠাৎ আমার নেট পরিচয়ের আরেক বন্ধু আমাকে বললো তারা নাকি নিজ গাড়ী নিয়ে ওমরা করতে যাচ্ছে। আমি বললাম আমিও যাব। এই বলে আমরা ৫ জন ২৩/০৮/১০ সোমবার বিকালে আছরের নামাজ পরে মক্কার উদ্দশ্যে রওয়ানা হলাম।

রাত প্রায় ২ টায় আমরা মক্কায় পৌছলাম। সেখানে ওমরা করলাম। পরের দিন সন্ধায় দেখি শারফু অনলাইনে আছে। আমি বললাম আমি তো মক্কাতে আছি। কোন জবাব পাইলাম না।

ভোরে সেহরী খেলাম অনেক পুরনো বন্ধু শহীদুল্লাহ কায়সার এর বাসায়। ওর আন্টি ফাটাফাটি তরকারী বানিয়েছিল। ৫/৬ আইটেমের তরকারী বহুদিন যাবত খাওয়া হয়নি। সেই যে কবে বাড়ি থেকে এলাম তার পর থেকে এত আইটেমের তরকারী কখনোও খাওয়া হয়নি। খাওয়ার পরে আংকেল আমাদের সাথে কিছুক্ষন গল্প করেছে। আমার সাথে ৫ জনের ৩ জন ই চট্টগ্রামের। তাই আংকেল নিজের এলাকার মানুষ পেয়ে ভালই গল্প জমালেন। শুধু আমি ও ইদরিস ভাই ছিলেন অন্য জেলার।

আংকেল এখানে ব্যাবসার সূবাদে আন্টিকে নিয়েই থাকেন।

যাইহোক সেহরী শেষে কায়সার থেকে বিদায় নিয়ে মদীনা যাওয়ার পথে শারুফু কল দিল। বললো আপনি যে সময় লাইনে ছিলেন সে সময় আমি রান্না করতে ছিলেন। বুঝলাম শারফু মাঝে মাঝে রান্না ও করে। :)
আমাকে বললো কার সাথে দেখা করার জন্য। আমি কথা দিলাম" ইনশাল্লাহ মদীনা থেকে ফেরার পথে দেখা করবো।

যথা ক্রমে আমরা রওযা জিয়ারত করে জেদ্দা চলে এলাম। কারন আমাদের ফেরার পথ জেদ্দা দিয়েই। সুতরাং শারফুর সাথে দেখা করা যাবে বলে আশাবাদী ছিলাম। জেদ্দা ঢুকে তো আমাদের দম বন্ধ হ্ওয়ার অবস্থা। একে তো গরম আবার ঘাম।শরীরের অলরেডি বারটা বাইজা গেছে আর লেবাসের তো তেরটা বাজছে। গাড়ীতে এয়ারকন ছিল না বলে এই সমস্যাটা বেশী হয়েছে।
জেদ্দা শহরে ঢুকার আগেই শারফুকে কল দিলাম। শারফু জায়গার নাম বললো আমরা ওখানে পৌছলাম। আমি কর্নিচ কমার্সিয়াল সেন্টারের ২ নং গেইটে দাড়ালাম। একটু পরেই আমার মোবাইলে কল দিল শারফু। রিসিভ করার আগেই দেখি শারফু পিছন থেকে বলতেছে " পাইছি পাইছি" হাসি মুখে আমার কাছে এল, দোজনে কোলকোলি করলাম।

ওকে দেখে মনে হয়নি যে এই প্রথম আমরা একজন আরেক জনকে দেখছি। মনে হয়েছিল আমরা হয়তো অনেক দিনের পরিচিত মানুষ।
শারফু কথার ফাকে ফাকে আমার দিকে তাকায় আবার আমিও শারুফুকে দেখি। বহুত হ্যান্ডসাম একটা পুলা। চোখে একটা চশমা লাগানো। বুঝা যাচ্ছিল না চশমাটা কি নাম্বার ওয়ালা নাকি জিরো নাম্বারের। :)

যাই হোক চশমাটা ওকে মানিয়েছিল। শারফু আমার দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে আন্দাজ করতে পারছিলাম ও অল্প বয়সে আমার মাথায় চুল পড়া নিয়ে চিন্তা করতেছে। :D

আমি ওরে বুঝাইলাম বউ পাওন যাইবো না এই সংকা আমার ভিতরে নাই, কারন বিয়া তো কইরা ফালাইছি। বউ বলে ও নাকি আমার মনটারেই বেশী লাইক করে। B-)

অবশেষে শারফুর কাছ থেকে বিদায় নিতে হলো। ইচ্ছে ছিল ওর সাথে অনেক্ষন গল্প করবো। তার পর শারফু থেকে বিদায় নিয়ে আমরা আমাদের গাড়ী নিয়ে চলে এলাম। ভাবতে লাগলাম আমারদের বন্ধুত্বের মিলনের ক্ষনটাকে। কোথায় ব্লগে পরিচয়, চ্যাটিং, মোবাইল নাম্বার নেয়া, কথা বলা, অবশেষে সরাসরি দেখা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৫:০৩
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×