somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হবুদের পরিণতি

২২ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হবুচন্দ্রের আইন
__ সুনির্মল বসু
,
হবুচন্দ্র রাজা বলেন গবুচন্দ্রে ডেকে– আইন
জারী করে দিও রাজ্যেতে আজ থেকে,
মোর রাজ্যের ভিতর–
হোক্ না ধনী, হোক্ না গরীব, ভদ্র কিংবা
ইতর।
কাঁদতে কেহ পারবে নাক, যতই মরুক শোকে
হাসবে আমার যতেক প্রজা, হাসবে যত
লোকে।
সান্ত্রী-সেপাই, প্যায়দা-পাইক ঘুরবে
ছদ্মবেশে,
কাঁদলে কেহ, আনবে বেঁধে, শাস্তি হবে
শেষে।
,
বলে গবু-
হুজুর, ভয় যদি কেউ পায় কখনো দৈত্য দানা
জুজুর;
কিম্বা যদি পিছলে পড়ে মুণ্ডু ফাটায় কেহ,
গাড়ীর তলে কারুর যদি থেঁতলিয়ে যায়
দেহ;
কিম্বা যদি কোনো প্রজার কান দুটি যায়
কাটা,
কিম্বা যদি পড়ে কারুর পিঠের ওপর ঝাঁটা;
সত্যিকারের বিপন্ন হয় যদি, তবুও কি সবাই
তারা হাসবে নিরবধি ?
,
রাজা বলেন-
গবু, আমার আইন সকল প্রজার মানতে হবে তবু।
কেউ যদি হয় খুন বা জখম, হাড্ডিতে ঘুণ ধরে,
পাঁজরা যদি ঝাঁঝরা হয়ে মজ্জা ঝরে পড়ে;
ঠ্যাংটি ভাঙে, হাতটি কাটে, ভুঁড়িটি
যায় ফেঁসে,
অন্ধকারে স্কন্ধ কাটা ঘাড়টি ধরে ঠেসে;
কিম্বা যদি ধড়ের থেকে মুণ্ডুটি যায় উড়ে,
কাঁদতে কেহ পারবে নাক বিশ্রী বিকট
সুরে।
হবুচন্দ্রের দেশে–
মরতে যদি হয় কখনো, মরতে হবে হেসে।
,
পিটিয়ে দিলো ঢ্যাঁড়া গবু- রাজার আদেশ
পেয়ে,
কাঁদতে কেহ পারবে না আর, পুরুষ কিম্বা
মেয়ে;
যতই শোকের কারণ ঘটুক হাসতে হবে তবু,
আদেশ দিলেন রাজাধিরাজ হবু;
রাজার আদেশ কেউ যদি যায় ভুলে, চড়তে
হবে শূলে।
,
সেদিন হতে হবুর দেশে উল্টে গেল রীতি;
হররা-হাসির হট্টগোলে, অট্টহাসির
অট্টরোলে,
জাগলো তুফান নিতি।
হাসির যেন ঝড় বয়ে যায় রাজ্যখানি জুড়ে,
সবাই হাসে যখন তখন প্রাণ কাঁপানো সুরে।
প্যায়দা পাইক ছদ্মবেশে হদ্দ অবিরত, সবাই
হাসে আশে পাশে, বিষম খেয়ে ভীষণ
হাসে, আস্তাবলে সহিস হাসে, আস্তাকুঁড়ে
মেথর,
হাসছে যত মুমূর্ষরা হাসপাতালের ভেতর।
আইন জেনে সর্বনেশে
ঘাটের মড়া উঠছে হেসে, বেতো-রোগী
দেঁতো হাসি হাসছে বসে ঘরে; কাশতে
গিয়ে কেশো-বুড়ো হাসতে শুরু করে।
হাসছে দেশের ন্যাংলাফ্যাচাং
হ্যাংলা হাঁদা যত,
গোমড়া উদো-নোংরা-ডেঁপো-চ্যাংরো
শত শত;
কেউ কাঁদে না কান্না পেলেও,
কেউ কাঁদে না গাট্টা খেলেও;
পাঠশালাতে বেত্র খেয়ে ছাত্রদলে
হাসে,
কান্না ভুলে শিশুর দলে হাসছে অনায়াসে।
,
রাজা হবু বলেন আবার গবুচন্দ্রে ডাকি-
আমার আদেশ মেনে সবাই আমায় দিলে
ফাঁকি ?
রাজ্যে আমার কাঁদার কথা সবাই গেল
ভুলে, কেউ গেল না শূলে ?
একটা লোকো পেলাম না এইবারে শূলে
চড়াই যারে।
নিয়ম আমার কড়া– প্রতিদিনই একটি
লোকের শূলেতে চাই চড়া।
যা হোক, আজই সাঁঝের আগে শূলে দেবার
তরে– যে করে হোক একটি মানুষ আনতে হবে
ধরে।
,
গবুচন্দ্র বল্লে হেসে চেয়ে রাজার মুখে,
কাঁদতে পারে এমন মানুষ নাই যে এ মুল্লুকে;
আমি না হয় নিজেই কেঁদে আইন ভেঙে
তবে চড়ব শূলে, মহারাজের নিয়ম রক্ষা হবে।
কিন্তু একি, আমিও যে কাঁদতে গেছি ভুলে,
কেমন করে চড়ব তবে শূলে ?
রাজা বলেন- তোমার মত মূর্খ দেখি না-
যে, কাঁদতে তুমি ভুলে গেলে এই ক’দিনের
মাঝে?
এই দ্যাখো না কাঁদে কেমন করে– এই না
বলে হবু রাজা কেঁদে ফেল্লেন জোরে।
মন্ত্রী গবু বল্লে তখন- এবার তবে রাজা–
নিজের আইন পালন করুন গ্রহণ করুন সাজা।
বলেন হবু- আমার হুকুম নড়বে না এক চুল,
আমার সাজা আমিই নেব তৈরি কর শূল।
.......................................................

যুগে যুগে হবুচন্দ্র রাজা আর
গবুচন্দ্র মন্ত্রীরা ছিল, আছে এবং
থাকবে।
আর তাঁরা যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন,
তাঁদের পরিণতিও একইরকম হবে ইনশা আল্লাহ...!!!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×