somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Arnold Schwarzenegger এর “সফলতার পাঁচটি নিয়ম” (Five rules for success) .................ভাবানুবাদ (নীল হাসান)

২৮ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Self Motivation-এর জন্য আমি মাঝে মাঝে কিছু মোটিভেশনাল স্পীচ শুনি, সেগুলোর ভিতরে বিখ্যাত অভিনেতা আর্নল্ড সোয়ারজনিগারের (Arnold Schwarzenegger) “সফলতার পাঁচটি নিয়ম” (Five rules for sucees) আমাকে অত্যন্ত অনুপ্ররানিত করে । তাই সবার জন্য (Arnold Schwarzenegger)–এর কথা গুলো কে নিজের মত করে লেখার চেস্টা করলাম-

Rule .1 : Find your vission (কি চান সেটা জানুন, উদ্দেশ্য ঠিক করুন)

আর্নল্ড সোয়াজনিগার আস্ট্রিয়ান ছিলেন জন্ম-৩০ জুলাই, ১৯৪৭ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কিছু পড়েই । দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ধ্বংস লীলার কারণে সোয়াজনিগারের কৈশর তথা বেড়ে ওঠার সময় তার জন্মভুমি অষ্ট্রিয়া তথা ইউরপের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না । এ নিয়ে সেই কিশোর বয়েসেই তার ভিতরে একটা হতাশা কাজ করত, তিনি সেখান থেকে দূরে কোথাও চলে যেতে চাইছিলেন । তখন আর্নল্ড স্কুলের ছাত্র, এ রকম একটি দিনে হঠাতই তিনি টেলিভিশনে আমেরিকার উপর একটি ডকুমেন্টারি দেখেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন তার স্বপ্নের দেশ আমেরিকা ...। কিন্তু কিভাবে আমেরিকা যাবেন এ ব্যাপারে তার সে সময় কোন আইডিয়া ছিল না, আর আমেরিকা যাওয়ার মত আর্থিক সঙ্গতি তাদের সে সময় ছিল না । এ রকম একটি সময় হঠাত সোয়াজনিগারের হাতে একটি ম্যাগাজিন আসে যেখানে হারকিঊলিস হিরো রেজ পার্ককে (REG PARK, born: 7 June 1928, dead: 22 November 2007) নিয়ে একটা আরটীকেল ছিল । রেজ পার্ক অত্যান্ত দরিদ্র পরিবারে সন্তান ছিলেন , সেই দারিদ্রের মধ্যেও তিনি দিনে ৫ ঘণ্টা বডি বিল্ডিং প্রাক্টিস করতেন এবং সে সময় তিন বার (3 times) মিস্টার ইউনিভারস ছিলেন, এবং সেখান থেকে তাকে হারকিউলিস মুভিতে কাস্ট করা হয় । রেজ পার্কের কাহিনী আর্নল্ড কে আলোরিত করে তিনি তার লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেন ।।যে তিনি মিস্টার ইউনিভার্স হবেন তারপর মুভি তে ঢুকবেন । তারপর থেকে যত কষ্টই হোক আর্নল্ড তার বডি বিল্ডিং প্রাক্টীস চালিয়ে যেতেন এবং তিনি এটা অত্যন্ত আনন্দের সংগে করতেন কারন তিনি তার ভিশন খুজে পেয়েছিলেন । শেষ পর্যন্ত তিনি তেরো বার (13 times !) মিস্টার ইউনিভার্স হয়েছিলেন ।.তাই“ Set your Vission first the rest will follow”..

Rule .2 : Never think small think big (স্বপ্ন দেখুন আকাশ ছোয়া )

আর্নল্ড শুধু মাত্র জদু-মধু হিসাবে মুভিতে কাজ করতে চাননি, তিনি মুভি স্টার হতে চেয়েছিলেন , তিনি সেটা হয়েছিলেন । তার বিখ্যাত মুভি “টারমিনেটর” রিলিজ হওয়ার পর তিনি হলিউডের হাইয়েস্ট পেইড আভিনেতা ছিলেন । তাই চলুন স্বপ্ন দেখার সাহস করি ...স্বপ্নই বড় হতে অনুপ্রানিত করে ।(Dream something larger than life)

Rule .3 : Don't Give a shit to the Naysayers (পাছে লোকে কিছু বলে সেই ভয় ফেলে দিন )

আর্নল্ড তেরো বার (13 times!)মিস্টার ইউনিভার্স হওয়ার পর হলিউডের প্রডিউসারদের কাছে গেলেন মুভি করার আগ্রহ নিয়ে । প্রডিউসাররা তাকে নিয়ে হাসা-হাসি করলেন ! তারা বললেন , তোমার পক্ষে আমেরিকাতে মুভি করা সম্ভব নয় । তোমার চেহারা দানবের মত, তোমার ইংলিশ উচ্চারণ জার্মান, তোমাকে দিয়ে আমেরিকা তে মুভি বানালে চলবেনা । তিনি হাল ছাড়লেন না তিনি অসম্ভব কে সম্ভব করার চেস্টা করে গেলেন । এক সময় তিনি টিভি শোতে ছোট-ছোট চরিত্র পাওয়া শুরু করলেন, তার প্রথম ব্রেকথ্রু মুভি the sword-and-sorcery এবং Conan the Barbarian রিলিজ হয় ১৯৮২ সালে তারপর তো বাকীটা ইতিহাস ।।যে গলার স্বর শুনে প্রডিউসাররা প্রথমে হাসা হাসি করেছিল ।। বিখ্যাত পরিচালক জেমস ক্যমেরুন “টারমিনেটর” মুভি করার পর বলেছিলেন “আর্নল্ড এর গলার কারণে মানুষ এটাকে অনেক বেশি পছন্দ করেছে, কারণ আর্নল্ড গলার স্বর মেশিনের মত” ।(So Ignore the naysayers)

Rule .4 : Work your ass off (ফাটিয়ে কাজ করুন )

ভিশন ঠিক করলেন , স্বপ্ন দেখলেন লোকের কথা পাত্তা দিলেন না ; এগুলো সব করার পর যদি কাজ না করেন তাহলে সব বৃথা যাবে ।এ প্রসংগে আর্নল্ড গ্রেট মুষ্টি যোদ্ধা মুহাম্মদ আলীর একটা উদাহরণ দিয়ে থাকেন । । কেউ একজন মুহাম্মদ আলী কে জিজ্ঞাসা করেছিল যে আপনি দিনে কতটি বুক ডাউন দেন ...আলী বলেছিলেন (I starts counting when it hurts).
আর্নল্ড জীবিকার জন্য কন্সট্রাকশন ফার্মে কাজ করতেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বডি-বিল্ডিং ট্রেইনিং নিতেন, রাতে ইংরেজী শিখার ক্লাস করতেন, উচ্চারণ ঠিক করার ক্লাস করতেন । সুতরাং কোঠর পরিশ্রমের কোন বিকল্প নাই ..(Work your butt off, go deep)!!

Rule .5 : সুযোগ থাকলে সমাজের জন্য কিছু করুন (Don't Just take, give something back)

আপনি সমনে এগিয়ে যাওয়ার পর একটু সময় করে পেছনে তাকান, দেখেবেন অসংখ্য মানুষের আপনার সাহায্য দরকার, তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন, হাত টা বাড়ীয়ে দিন । সব সময় মনে রাখবেন যদি আপনি না করেন তবে কে করবে অথবা যদি এখন না করেন তবে কখন করবেন । (If not us then who, if not now then when??)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:৩১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×