somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কিভাবে খেলার ফর্ম ধরে রাখি?

০৮ ই জুন, ২০১৪ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কনিষ্ঠ পুত্রের বাস্কেটবলের গুরুত্ত্বপূর্ণ একটা Tournament দেখতে গত রোববার গেলাম “নাগাসাকি”র কাছে। আমাদের শহর থেকে গাড়ীতে ঘন্টা দুয়েক লাগে।
ভোর ৭ টায় গেলাম- রাত ৮:৩০ এ ফিরলাম।
বাসায় অপেক্ষা করছে স্তূপীকৃত কাজ- পরদিন সাপ্তাহিক কর্মদিবসের শুরু।
সমস্ত শরীর মটর নিউরনে আক্রান্তের মত বোধশূণ্য নিস্তেজ মনে হচ্ছে।
দিনগুলি এতো over occupied যায় যে, বন্ধের ১ টা দিনের কয়েক ঘন্টা বিশ্রামও মরুচারীর তৃষ্ণার পানির মতই কাংখিত।
কিন্তু সব ছেলে মেয়েরই তার বাবা- মার’ কাছে চাওয়া সমান। সেই মা প্রধানমন্ত্রীই হোক , কিংবা ছুটা বুয়াই হোক! তবে, গিয়ে এক অভিজ্ঞতাই হল বটে!
জাপানীরা খাটো হয়- এটা যে ২য় বিশ্বযুদ্ধের আগের জেনেরেশনের জন্যই প্রযোজ্য তা এতদিনে খুব ভালই জানি। সর্বনিম্ন উচ্চতা কোন মেয়ের ৫’১’’ র নীচে দেখিনি- ছেলে ৫’৫’’র নীচে দেখিনি। আর বাস্কেটবল তো লম্বাদেরই খেলা।
গিয়ে দেখি ১৪ বছরের ছেলে কয়েকটা ৬’২’’ ইঞ্চির উপর লম্বা। গায়ে অসুরের শক্তি –যেটাও এই খেলায় খুবই দরকার।
আমার ছেলের সারাদিনের যে এক জিকির , “মা , আমাকে বেশী করে দোয়া পড়ে –ঠিক ঠিকটা খুজে রান্না করে খাওয়ায় লম্বা বানায়ে দাওনা কেন?? তুমি নিজে বাট্টু- আবার আরেক বাট্টুকে বিয়ে করছো কেনো? কেনো?? ” ইত্যাদি ভ্যান ভ্যানগুলি যে কত হতাশা থেকে বলে তা বুঝতে পারলাম।
ওর ১২ বছর, উচ্চতা ৪’১১” ছুঁই ছুঁই - আর মূল দলের সবচেয়ে খাটো ছেলেটাও ৫’২’’! হরমোন স্পেশালিষ্ট থেকে শুরু করে কোন চেষ্টাই বাদ রাখিনি- কিন্তু জাপানে unnatural কিছু করতে দেবে না- ডাক্তারদের সাফ কথা- “লম্বা তো ওর থেমে যায়নি- তোমাদের জিন থেকে যা পেয়েছে সেই হারেই লম্বা তো হচ্ছেই- ওর growth থেমে গেলে- বামন হলে হরমোন থেরাপীতে যেতাম।“ চুড়ান্ত হতাশ হয়েছিলাম – যে কেন চীন/ কোরিয়ায় থাকি না- থাকলে পা কেটে হাড্ড লাগিয়েও হাইট বাড়িয়ে দিত!
জুনিয়র হাই স্কুলে ও first grade এখন আছে- মূল দলে ওদের গ্রেডের একটা ছেলেই replacement player হিসেবে ঢুকতে পারছে- এছাড়া বাকী সবার কাজ রেগুলার খেলোয়ারদের খেদমত করা।
আমরা খুব ভালই বুঝলাম- ও তীব্র অনিচ্ছা নিয়ে খাদেমের কাজগুলি করছে। কারণ, সে এলিমেন্টারী লেবেলে এই শহরে ২য় শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার হয়েছিল- সবার প্রশংসা আর মুগ্ধতার দৃষ্টি দেখেই অভ্যস্ত ছিল গত মার্চ পর্যন্ত।
আমরা আন্দাজ করতে পারলাম যে আসলে “ কতটা পথ পেরুলে তবে পথিক হওয়া যায়”- অর্থাৎ জাপানের জুনিয়র হাইস্কুলের মধ্যে এই নাম্বার 1 টীমে রেগুলার খেলোয়ার হতে হলে ওর আসলে কতটা কষ্ট করতে হবে এবং আমাদেরও ওকে কিভাবে complement করতে হবে।
কোচটাও জাপানের সেরা- প্রচন্ড বদরাগী এক আধবুড়া, ৫৪ বছর বয়সে লাল টকটকা প্যান্ট, সাদা ফুল শার্ট আর চক্রাবক্রা কোট পরে কোটের বাইরে দাঁড়িয়ে ক্রমাগত চিৎকার করতে করতে পুরা ত্রাসের রাজত্ত্ব কায়েম করে আছে ( হার্ট অ্যাটাক হয়না কেম্নে বুঝলাম না!) । এক পর্যায়ে কোটও ছুড়ে ফেললো । কারো একবারের বেশী ২ বার কোন ভুল হলেই একেবারে গলার হালাকু থেকে গগনবিদারী চিৎকার করে তাকে বসিয়ে দিয়ে অপেক্ষমানদের একটার মাথায় ঠকাশ করে চাটি মেরে “ উঠ, যা” বলে নামিয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে খেলার মাঝখানেও খেলা থামিয়ে ডেকে গিয়ে সেইরকম “সামুরাই ঝাড়ী” শুরু করছে । ১২ থেকে ১৫ বছরের সব বাচ্চা- ক্রমাগত গালীর উপর ঘেমে নেয়ে পর পর ৩টা ম্যাচ খেলল এবং চ্যাম্পিয়ন হল, মাশাল্লাহ! এই পরিমাণ চাপ নিয়ে বাচ্চাগুলি খেলে বছরের ৩৬৫ দিন round the clock- কোন ছুটি নাই- তাতে নাকি ফর্ম পরে যাবে!
আর আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়াররা বলে “ ফর্ম খারাপ হলেই, বাজে খেললেই টীম থেকে বাদ পরার সম্ভাবনা- এইসব চাপ নিয়ে ভাল খেলবো কিভাবে?” আরেব বাবা !! কি তামশা——জাতীয় দল কি তোমার শ্বশুড়বাড়ী যে মেয়ের বিয়ে দিসে- এখন ফর্ম খারাপ হলেও “জামাই মানুষ” - সারাজীবন কোলে নিয়ে বসে থাকবে?
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×