কারও ধর্ষণে শান্তি আর কারও দর্শনে ।
বর্তমানে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ আর দর্শন এক ধরনের আর্ট বলা যেতে পারে । এই আর্টের মধ্যে দর্শন কেবল দেখাদেখির মাঝেই সীমাবদ্ধ । আর ধর্ষণের ক্ষেত্রে কেবল দেখাদেখির মাঝে সীমাবদ্ধ নয় । এটাতে দেখাদেখি গড়িয়ে করা অবধি চলে । সোজা বাংলায় বলতে গেলে,কেউ দেখে শান্তি পায় আর কেউ করে শান্তি পায় ।
ধর্ষণ আর দর্শন এক ধরনের মানসিক বিকৃতি । অপসংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে না চলা এর মূল কারণ হলেও আরও অনেক কারণ আছে ।
যৌনতা একটি সাধারণ বিষয় হলেও মানসিক বিকৃতি একে এক ধরনের আর্টে পরিণত করছে । লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে,দেশের কোথাও না কোথাও নারী ও শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে । এর মূল কারণ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলা । এতক্ষণে নিশ্চয় ভাবছেন,আমি নারীদের পর্দা নিয়ে কথা তুলব ! তবে সত্য এটায় যে,শুধুমাত্র পর্দা করে ধর্ষণকে ঠেকানো যাবে না । যেখানে পাঁচ বছর বয়সী শিশু নিরাপদ নয়,সেখানে আপনি পর্দার প্রশ্ন তুলতে পারেন না । নারীর পর্দা করা ফরয । পুরুষের পর্দা করা ফরয নয় কি ?
কথা উঠতে পারে,ধর্ষণ এক ধরনের যৌনতা । একজন ধর্ষক বলতেই পারে,নারীর পোশাক-পরিচ্ছদে তার যৌনতা অনুভব হয়েছে বলেই সে ধর্ষণ করেছে । তবে এক্ষেত্রে ধর্ষকের কথা পুরোপুরি ভিত্তিহীন । কেননা,ধর্ষণে কোন যৌনতা নেই । এক্ষেত্রে ধর্ষণ হলো এক ধরনের ভায়োলেন্স । ধর্ষণের মধ্যে আদৌ কোন সেক্সোয়াল আনন্দ পাওয়া যায় না । বরং,একজন নারীর স্বকীয়তা,ইজ্জত,সম্মান ও ভার্জিনিটি হরণের আনন্দ পাওয়া যায় । চোর-ডাকাত যেমন সম্পত্তি হরণের মধ্য দিয়ে আনন্দ পায়,তেমনি একজন ধর্ষক একজন নারী বা শিশুর ইজ্জত হরণের মাধ্যমে আনন্দ পায় ।
স্বাভাবিকভাবে একজন নারীর শারিরীক গঠন দেখে আপনার মনে যৌনতা অনুভব করতেই পারেন । তবে তাই বলে যে,আপনার ধর্ষণ করতে হবে এমনও তো না । একজন নারীকে দেখে যৌনতা অনুভব করা মেনে নেওয়া যায় । কিন্তু পাঁচ বছর বয়সী কিংবা নয় বছর বয়সী শিশুকে দেখে আপনি যৌনতা অনুভব করার কোন প্রশ্নই উঠে না । এক্ষেত্রে বলাই যায়,আপনার মানসিক বিকৃতি এর মূল কারণ ।
আপনি যদি যৌনতা অনুভব করেন তার জন্যে আপনার স্ত্রী রয়েছে । আর আপনি যদি অবিবাহিত হয়ে থাকেন,তবে বিয়ে না করা পর্যন্ত আপনার অপেক্ষা করা উচিত । আপনার যৌনতার জন্যে কোন নারী বা শিশুর উপর মানসিক ও শারিরীক অত্যাচার কখনো সহ্য করা যায় না ।
আর বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় দর্শনের মাত্রাও দিন দিন বেড়ে চলেছে । সেক্ষেত্রে,আপনি আর আমি দর্শনে নিজেদের উত্তেজনা প্রশমনের জন্য যে মাস্টারবেট করি তাও এক ধরনের মানসিক বিকৃতি । কারণ,আরেকজনের যৌনতা প্রকাশের মাধ্যমে আপনি নিজেও যৌনতা অনুভব করছেন । তাতে করে আপনার নারী লোভ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক । আর নারী লোভ বাড়ার ফলে আপনারও এই ধরনের আনন্দ পাওয়ার ইচ্ছে হবে । যার ফলাফল হতে পারে কোন নারী বা শিশুর উপর যৌন হয়রানি ।
অন্যদিকে আমাদের বিচার ব্যবস্থার অবস্থা এমন যে,যদি তুমি ক্ষমতাধর হও তবে তুমি ধর্ষণে সেন্ঞ্চুরী করো । তোমাকে বাঁচানোর মালিক আমরা । বলা বাহুল্য,যতদিন পর্যন্ত দেশের বিচার ব্যবস্থা ঠিক হবে না,মানুষ আইন ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলবে না,ততদিন পর্যন্ত ধর্ষণ ঠেকানো যাবে না । আর যতদিন পর্যন্ত ওয়েবসাইট ব্যবহারে ও অপসংস্কৃতি রোধে সরকার ব্যবস্থা নিবে না,ততদিন পর্যন্ত দর্শন ঠেকানো যাবে না ।
মনে রাখবেন,একজন নারী আপনার মা,আপনার বোন,আপনার বন্ধু,আপনার স্ত্রী । সম্মান করুন তাদের ।
নিজেকে সংযত রাখুন,নিজের দৃষ্টিকে সংযত রাখুন ।
মানুষ বদলাবে,দেশ বদলাবে ।।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১৭ রাত ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



