শুধু আদর নয় শাসনও প্রয়োজন
বেশিরভাগ সময়ই আদর ও শাসনের মাঝে আমরা গুলিয়ে ফেলি । আমরা ঠিক বুঝতেও পারি না আমাদের কখন আদর প্রয়োজন কখন শাসন প্রয়োজন। আদর ও শাসন যদি ব্যালেন্সে না থাকে তবে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে । আমরা সাধারনত আদর শাসন ব্যাপারটা আমাদের সন্তানদের ব্যাপারেই প্রয়োগ করে থাকি । কিন্তু এই ব্যাপারটা আসলে সব বয়সিদের জন্যই প্রয়োজন । তবে সেেেত্র আদর শাসনকারী কতর্ৃপরে পরিবর্তন হয় মাত্র । যেমন একজন শিশু থেকে শুরু করে টিনএজার বা তার কিছু বড় পর্যন্ত মা বাবা আদর শাসনের দায়িত্ব পালন করেন । স্কুল জীবন থেকে কলেজ ইউনিভার্সিটিতে এই ব্যাপারটায় শিকরা বড় ভূমিকা পালন করেন । এর পরে কর্মেেত্রর বস এবং পারিবারিক মুরুব্বী যারা তারা এবং বিবাহের পরে স্বামী বা স্ত্রী এই ভূমিকা পালন করেন। অতিরিক্ত আদর বা শাসনবিহীন আদরে কি তি হয় তা আমরা সবাই জানি । আমরা সাধারনত বলে থাকি অতিরিক্ত আদরে ছেলেটা বা মেয়েটা নষ্ট হয়ে গেছে, উচ্ছন্নে গেছে। এই কথা বাস্তবিকই সত্য । আবার অতিরিক্ত শাসনে যারা থাকে, তাদের কি হয়? তারা নিজেদেরকে বন্দী দেখতে পায় । এবং কখনো তারা মু্ক্ত পৃথিবীর সন্ধান পেলে পথ হারিয়ে ফেলে । পরবতর্ী জীবনে তারা নিজেদের দুর্ভাগ্যের জন্য মা-বাবাকেই দায়ী করতে থাকে। তাই ব্যালেন্স দরকার । আর মনস্তাতি্বকভাবে আমরা যেখানে আদর এবং শাসনের ব্যালেন্স আছে সেখানেই নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করি। আমরা অবচেতনভাবে তৈরীই থাকি যে আমি ভুল করলে কেউ একজন আমাকে শুধরিয়ে দেবে। আমি একজন মেয়েকে জানি যে তার মায়ের চেয়ে তার শ্বাশুরীর কাছেই বেশী নিরাপদ মনে করে । কারন অনুসন্ধান করে দেখলাম যে তার মা তাকে একমাত্র মেয়ে হিসাবে যতধরনের আদর দেয়া সম্ভব তা দিয়েছেন। তিনি মেয়েকে অতি প্রয়োজনীয় কাজও শেখাননি বা শিখতে দেননি। শিখতে দেননি এজন্য বলছি যে , মেয়ে কোন কিছু করতে চাইলে বলেছেন, তোমার করতে হবে না- আমি করি বা আমি করে দেই । কিন্তু শ্বশুর বাড়ী এসে মেয়ে শ্বাশুরীকে দেখলো উল্টো । শ্বাশুড়ি ( অবশ্যই ভালো মানুষ) তাকে কাজ করতে উৎসাহিত করলো, কাজ শিখিয়ে দিলো, ভুলের জন্য যতটুকু প্রয়োজন শাসন করলো সাথে আদরও করলো। ফলে অবচেতনভাবেই এই মেয়ে শ্বাশুরীর কাছে নিজেকে নিরাপদ মনে করতে শুরু করলো। আমি এ ঘটনা থেকে এটা বলতে চাচ্ছি যে, ছোটবেলা থেকেই মানুষ আদর ও শাসনের যেখানে ব্যালেন্স থাকে সেখানে নিজেকে নিরাপদ ভাবতে শেখে। সেই পরিবেশে সে মানিয়ে নেয় , সেই পরিবেশে সে শেখে এবং বিকশিত হয়, মেধার বিকাশ ঘটায় । আসুন আমরা এই বিষয়টা নিয়ে একটু ভাবি এবং নিজেদের সঠিক উপলব্ধির আলোয় আলোকিত করার চেষ্টা করি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


