somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনের আধার পেরিয়ে

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিস্তি-১

ফুটকী থেকে রাত্রি। এ বাড়িতে কেউ ওকে বৌমা বলে ডাকে না। ঠিক বিয়ের পর শাবশুড় দু’একবার মুখ ফসকে বৌমা বলে ফেলতেন। দু’একবারই শুধু। মনে পড়লে রাত্রির এখনও হাসি পায়। সঙ্গে সঙ্গে শ্বাশুড়ির সে কি দাবড়ানি। চোখে কড়া ধমক দিয়ে বলে উটেছিল, তুমি বুড়ো হতে চাও হও, আমি সেকেলে শ্বাশুড়ি হব না। একটা কমা না সেমিকোলন দিয়ে, রাত্রির মনে পড়ে, নিলয়ের মা, মানে রাত্রির শ্বাশুড়ি মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে যেতে বলেছিল, কেন রাত্রি বলে ডাকতে কি জিভে তেতো লাগে...এত সুন্দর নাম।
রাত্রি বলে বাপের বাড়িতে কেউ ডাকতো না। সেখানে ও সবার মুখে ফুটকী। বেশ বাজে নাম।স্কুলের মেয়েরা কেউ কেউ জেনে গিয়েছিল বলে প্রথম প্রথম ক্ষ্যাপাত। ডাক নামগুলোর কি সব সময় কোন ইতিহাস থাকে! বাবা-মা আদও করতে গিয়ে সেই মুখে কথা না ফোটার বয়সে কত যে ইকড়ি-মিকড়ি নাম দিয়ে বসে, সেটাই হয়ে যায় ডাক নাম। আর বেচারী বড় হওয়ার পর সেটাই হয়ে যায় অস্বস্তি। বিয়ের পর নিলয় ওদেও বাড়ি গিয়ে যেদিন জানতে পারেছিল, রাত্রির সে কি লজ্জা। ফুটকি ছিল শুধু স্কুল করেজের গন্ডির মধ্যে, ছেলেবেলাতেই তাকে রাত্রি বানিয়ে নিলে কত ভালো হত। তা হলে নামটা নিশ্চয়ই খুব আপন লাগতো। এখন লাগে না, কেমন একটা দুরত্ব আছে। বড় হওয়ার পর কি নাম বদল হয়।
ফুটকি বা রাত্রি কোনটাই অবশ্য ওর কাছে সুন্দর নাম বলে মনে হয় না। শ্বাশুড়ি যাই বলুক, ও বোধহয় মন রাখা কথা। আর ফুটকি নামটাতে ওর যতই লজ্জা তাক, বাপের বাড়িতে গেলে কেউ যখন ফুটকি বলে ডাকে কি ভালো লাগে। কত নিজের মনে হয়। ছোটবেলাতে একটু ছোটখাটো দেখতে ছিল বলে, নাকি মুখে খই ফুটতো বলে, মা একবার হাসতে হাসতে কাকে যেন বলেছিল। নিলয় জানে না, জানলে বলতো, তখন যদি এত কথা ফুটতো, এখন এত চুপচাপ কেন?
রাত্রি এখন যে একটু চুপচাপ তা অবশ্য নয়। তবে ওর মর্ডান শ্বাশুড়ির মতো অতিরিক্ত প্রগলভতা, অত্যধিক হাসি মস্করা ওর পছন্দ নয়। শ্বাশুড়ি শ্বাশুড়ির মত হলেই যেন বেশি মানায়। মীনা বলেছিল, তোর মতো শ্বাশুড়ি পেলে আমি বর্তে যেতাম। পেয়েছিস তো, তাই জানিস না তুই কি লাকি। শুনে বিষন্ন হেসেছে রাত্রি-দ্যাখ মীনা এদেও কারো বাইরেরটা মর্ডাণ, হাসিকুশি, কেউ ব্যকডেটেড, তারপরও বেতেও ভেতেও সব এক, শুনতে তো পাস।
মীনার সঙ্গে তুই তোকারিতে নেমে এসেছে এই ক’মাসেই। আরো কয়েকজনের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। কারণ অন্তরের অসন্তোষ বোধহয় সকলেরই এক। একজন শুরু করলেই ভেতরের ক্ষোভ বের করে আনে অন্যজন। শুধু জয়া যা একটু পৃথক। বেশ চাপা ধরণের। শোনে, কিন্তু পেট থেকে একটা কথাও বের করে না। হাসি হাসি মুখে এমন একটা ভাব কেও যেন বেদম খুশির জীবন। সংসােও কোন অতৃপ্তি নেই। অতচ তাকে তো জয়েন্ট ফ্যামিলিতে। জয়েন্ট ফ্যামিলি! বাপরে। শুনে রাত্রি মীনা দু’জনেই বলে উঠেছিল, হেসে ফেলেছিল। তখন খেয়াল হয়নি, ওদেও নিজেদের গুলোও তো তাই, তুলনায় একটু ছোট এই যা।
জয়া কে সেজন্যই ওরা কুব একটা পচন্দ করে না। দুঃখ এক না হলে কি এক হওয়া যায়। সর্ম্পক গড়ে উঠে? দুঃখ নেই তা হতে পারে না। তবে এত চাপা স্বভাব কিছুতেই মানতে দেবে না। কুটিয়ে খুটিয়ে জিগ্যেস করলে হ্যাঁ অথবা না। মনি, সেমাদেও তাও বোঝা যায়। ওরা দিব্যি স্বামি আর বাচ্চা নিয়ে আলাদা ফ্লাটে থাকে, শ্বশুড় শ্বাশুড়ির সাথে কোন সর্ম্পক নেই। দুপুেও চট কেও বাপের বাড়ি যাওয়া যায়। টেলিফোনে আধঘন্টা গল্প করে বলা যায় মা একটু আমের আচার করো তো, গিয়ে নিয়ে আসবো।
আসলে রাত্রিদেও একটা ক্লাব আছে। যে কেজি স্কুলটায় রাতুলকে ভর্তি করেছে তার সামনের মাঠে এই ক্লাব। অনেক মায়েরাই সকাল বেরা ছেলেকে স্কুলে পৌছে দিতে এসে বসে থাকে, গল্পগুজব করে, যাকে বলে আড্ডা। ছুটির পরও তাদের গল্প চলতে থাকে, ক্ষিধে পেটে ছেলেটার কথা মনেই থাকে না, সে তাড়া দিলে উল্টে ধমক দিয়ে ফেলে।
(চলবে…)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:১২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×