অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল:জনবিবৃতি
১১ নভেম্বর, ২০০৯
এআই ইনডেক্স: আশা ২০/০২০/২০০৯
ভারত: মধ্য প্রদেশ রাজ্য সরকারের আন্দোলনকারীদের হয়রানি বন্ধ করা উচিৎ
নর্মাদা বাঁচাও আন্দোলন (এনবিএ) কর্মীদের হয়রানি করা ও ভয় দেখানো বন্ধ করতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজ্য সরকারের প্রতি আজকে আহ্বান জানিয়েছে। এনবিএ হলো ভারতের অন্যতম একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি যার মাধ্যমে আন্দোলনকারীগণ নর্মাদা নদী উপত্যকা প্রকল্পের কারণে বাস্তুচ্যুৎ কিংবা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবী করছে।
গত ২৯ অক্টোবর খান্দওয়া জেলার প্রশাসনিক কার্যালয়মুখী নর্মাদা নদীতে ইন্দিরা সাগর ও ওমকারেশওয়ার বাঁধ দেয়ার কারণে কয়েকশত মানুষ বাস্তুচ্যুত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এনবিএ দাবী করেছে যে, মধ্য প্রদেশের সরকারের দিক থেকে আদালতের রায়ের সঙ্গে পূর্ণ সঙ্গতি রেখে এই দুই বাঁধের কারণে বাস্তুচ্যুত কিংবা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়া মধ্য প্রদেশের সরকারের দায়িত্ব। প্রতিবাদকারীরা আরো দাবী করেছে যে, কর্মকর্তাদের উচিৎ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা ও ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের সঙ্গে পরামর্শমূলক আলোচনা করার সুযোগ চেয়েছে।
আন্দোলনকারীরা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের সঙ্গে আলোচনা করতে তার কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে, এতে সাতজন আহত হয়। তারা এনবিএ-র নেতৃবৃন্দসহ মোট ১৯ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর অধীনে ৩২৩ ও ৩৩২ (সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বপালনে বাঁধাদান), ৩৫৩ (সরকারি কর্মকর্তার উপর আঘাত হানা কিংবা অপরাধমূলকভাবে বল প্রয়োগ করা যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার দায়িত্ব পালনে অপারগ হন) এবং ধারা ২৯৪ (অশ্লীল কার্যকলাপ ও গানবাজনা করা)ধারায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
পরের দিন রাজ্য সরকারের সন্ত্রাস-বিরোধী পুলিশ বাহিনী খান্দওয়ারের এনবিএ কার্যালয় ঘেরাও করে। তারা সংস্থার কাগজপত্র জব্দ করে, কার্যালয় এক ঘণ্টা ধরে বন্ধ রাখে এবং সেখান থেকে আরো একজন নেতাকে গ্রেফতার করে। এরপর আগের দিন গ্রেফতার করাসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে মারাত্মক ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়। এবার তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর অধীনে ১৪৭ (দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা) এবং ৩৩৩ (সরকারি কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব পালনে বিরত করতে মারাত্মকভাবে আঘাত করা) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
অলক আগারওয়াল, চিত্রারূপা পালিত, কমলা যাদব ও রামকাওয়ার রাওয়াতসহ গ্রেফতারকৃত ২০ জন আন্দোলনকারী বিভিন্ন স্থানের আদালতের রায়ে ৬ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পাওয়ার আগে এক সপ্তাহ ধরে বিনা বিচারে আটক ছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে যে মারাত্মক ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার কারণে তাদের সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে শাস্তি পেতে হতে পারে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এনবিএ কার্যালয়ে সন্ত্রাস-বিরোধী পুলিশ বাহিনী কর্তৃক হানা দেয়া ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও মারাত্মক ধরনের অপরাধের যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সেগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরো মনে করে এনবিএ-র আন্দোলনকারীদের হয়রানি করা ও তাদেরকে ভয় দেখাতেই কর্তৃপক্ষ
আরো পড়ুনঃ
ভারত: মধ্য প্রদেশ রাজ্য সরকারের আন্দোলনকারীদের হয়রানি করা বন্ধ করা উচিৎ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


