somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘মতিভ্রম’ একেই বলে..

০১ লা জুন, ২০১৫ রাত ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার স্কুলের (আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল) সাবেক অনেক শিক্ষার্থীরই বিষয়টি হয়তো মনে আছে, একবার আমাদের স্কুল পরিদর্শন করতে আসেন দেশের বিশিষ্ট নাট্যকার ও স্বনামধন্য কবি ‘মমতাজ উদ্দীন’। আর সেই সময়ে দেশের গ্রাম-বাংলার অন্যতম বড় ক্রেজ ছিল শিল্পী ‘মমতাজ!’ আমরা সবাই অধীর আগ্রহে সকাল থেকে বসে ছিলাম মমতাজকে একঝলক দেখার জন্য। কতজনের কত ফন্দি। কত আশা কত প্রত্যাশা তা ভাবলেই যেন হাসি পায়।

বাহারি রঙ্গ আর শত শত ফুলে স্টেজ সাজানো হয়েছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হবে হবে প্রায়। মমতাজকে একবার দেখার জন্য স্কুলে বহিরাগতসহ স্কুলের কেন্দ্রীয় মাঠ প্রাঙ্গনে প্রায় হাজার খানেক দর্শকের ভীড়। দাড়িয়ে থাকাই যেন দায় হয়ে দাড়িয়েছিল তখন। প্রচন্ড গরমে জামা-কাপড় শরীরের সাথে লেপ্টে গিয়েছে। একজনের পায়ের উপর আরেকজনের পা। একজনের ঘাড়ের উপর আরেকজনের নিশ্বাস। সবাই যেন একাকার হয়ে গেছে। কিন্তু সেদিকে কারোও ভ্রুক্ষেপ নেই। সবার মাথায় বাসা বেঁধেছে ‘মমতাজ দর্শন’

হাজারো প্রাণের উচ্ছাস প্রমাণ করে দিচ্ছিল সবাই শিল্পী মমতাজকে দেখার জন্য একেবারে আকুল হয়ে আছে। হঠাৎ স্টেজ থেকে অপরিচিত এক গলার আওয়াজ, ‘হ্যালো হ্যালো মাইক্রোফোন টেস্টিং, আপনাদের সবার অবগতি জন্য জানাতো যাইতেছে যে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন মমতাজ উদ্দীন আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত হবেন।’ নাম বলা শেষও হয়নাই সবার মধ্যে উত্তেজনার পারদ উপচে পড়তে পড়তে শব্দের রোল মাঠকে পেড়িয়ে গ্রাম শুদ্ধু ছাড়িয়ে গেছে। হামিগুড়ি দিয়ে সবারই চোখ এখন স্টেজের দিকে। ‘এবার স্টেজে এসে সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করবেন মমতাজ’ বলতেই আবারো শোড়গোল। স্টেজে একজন বৃদ্ধ প্রায় লোকের আগমণ কিন্তু হাজারো মানুষের চোখ অন্যদিকে। যখন তিনি মাইকপিসটি হাতে নিয়ে বক্তব্য শুরু করলেন তখন সবাই যেন আকাশ থেকে পড়লো। মানুষের মনে জমানো কোটি প্রত্যাশা আর আকাঙ্খা বালির বাঁধের মতো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো। হাজারো হৃদয় তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে। মমতাজের কথা শুনেই হাজারো লোকের সমাগম নিমিষেই খালি হয়ে গেলো। তখন আসলেই মরুভূমি মনে হচ্ছিল মাঠটাকে। কেমন একা একা। সেই যে মতিভ্রম হয়েছে তারপর আর ভুলি নাই ‘মমতাজকে’!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৫ রাত ৩:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×