সু-সাহিত্য কু-সাহিত্য ব্যাপারটা কি আপনি মানেন ? সম্ভবত মানেন না । মানলে বোঝাতে সুবিধা হত । তবুও চেষ্টা করি । তবে তার আগে আপনার চমৎকার গোছান লেখার প্রশংসা করছি । এবার মূল কথায় আসি ।
আমার ধারনা অনেক লেখকের (দেশি-বিদেশি) অনেক লেখা আপনি পড়েছেন । তাই আপনি পরিস্কার উপসংহার টানতে পেরেছেন, "সাহিত্যে তাই শ্লীলতা বা অশ্লীলতার অভীযোগ প্রমান অসম্ভব ।" আমি আপনার মতের সাথে দ্্বিমত পোষন না করেও বলতে চাই, আপনি যেখানে যা খুশি করতে পারেন না । কেন পাড়েন না তার ব্যাক্ষা হচ্ছে, যখন কোন লেখক একটা লেখা প্রকাশ করেন তখন তা নিয়ে মুক্ত আলোচনায় বসার কোন সুযোগ থাকে না । আপনি লক্ষ করবেন, মুক্ত আলোচনার সমাপ্তি কখনই সবার মনোপুত হয় না । এর কারন হচ্ছে, তাতে বিভিন্ন শ্রেনী'র মানুষের অংশ গ্রহন থাকে । যে যার নিজের মত করে আলোচনা করে, যুক্তি দেখায়, তর্ক-বিতর্ক করে । ধরে নিন আলোচনার বিষয়, " আমাদের অর্থনীতি ।" এই বিষয়ে যতই তর্ক-বিতর্ক হউক আমার ধারনা তা সহ্য শক্তির বাইরে যাবে না । কিন্তু বিষয়টা যদি আপনি একটু পরিবর্তন করেন, "আমাদের অর্থনীতি এবং সরকারের ভুমিকা"-তাহলেই আলোচনার টেবিল মুহুর্তের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে যাবে বলেই আমার ধারনা । আপনার কি মনে হয় ?
এবার আরও একটু জটিল বিষয় চুজ করা যাক । এবারের বিষয়, "ধর্মিয় অনুশাসন (গোড়ামি) এবং সরকারের ঔদাশীন্যই আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম প্রতিবন্ধকতা"- এবার আলোচনার আবস্থা কি হবে আপনিই আমাকে বলেন ? সেখানে অন্তত চারটি দল হবে । সরকারি দল, বিরোধী দল, ধর্মের ধ্বজাধারি দল এবং মুক্তমনা দল । আর তর্কের এক ফাঁকে কোনও কু-তার্কিক যদি কারও ধর্ম সম্পর্কে বা ধর্মিয় নেতা সম্পর্কে একটা উস্কানিমূলক কথা বলে ফেলে তাহলে আমি বাঁজি রেখে বলতে পাড়ি, সেই আলোচনা হাতাহাতি তে পৌছাবে । আমি জানিনা আপনি আমার সাথে একমত কি না । তবে আপনি যদি বাস্তবের কাছাকাছি থেকে বিশ্লেষন করেন তাহলে আমার মত আপনাকে মানতেই হবে । (না মানলেও আমি আমার ব্যার্থতা স্বীকার করতে প্রস্তুত) ।
আমার এত কথা লেখার পিছনে একটাই কারন, আর তা হচ্ছে এই সাইট একটা মুক্ত আলোচনার জায়গা । এখানে আমরা অবশ্যই যুদ্ধ কিংবা হাতাহাতি চাইনা । চাই কি ?
আমরা চাই এখানে আমরা তর্ক করব কিন্তু যুদ্ধ না । এর জন্য হয়ত কোনও কোনও ক্ষেত্রে একটু সমঝোতা করতে হবে । কিন্তু যুদ্ধংদেহী যদি না হই, তাহলে সমঝোতা করার মানুষিকতা তো আমার আছেই । তাই না ?
হয়ত কখনও কখনও মনে হতে পাড়ে সাহিত্য তার শক্তি হারাচ্ছে । কিন্তু সাহিত্য কে পুরো শক্তি দিতে যেয়ে যদি আমরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ শুরু করি, তাহলে কি সাহিত্যের জন্য তা লাভজনক হবে ?
আমি তো বরং বলবো, আগে প্রয়োজন ঐক্য, তারপর সাহিত্যের বিশ্লেষন । ঐক্য যদি থাকে তাহলে সাহিত্যও একদিন পুরো শক্তি ফিরে পাবে । রবীন্দ্র - নজরুলের সাহিত্য কি পুরো শক্তি পায়নি ? বলেন ?
আমার মনেহয়, এই লেখেটা সাহিত্যের মানদন্ডে উত্তীর্ন না হলেও সুধী সমাজের কাছে সময়ের প্রয়জনে সঠিক পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



