ইদানীং মাঝে মাঝেই রুমির কোন অবুঝ কিশোরীর মত ধুপ করে প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে করে। ভালবাসার মানুষটার জন্য বুকের মধ্যে ঢিবঢিব শব্দটা কানে কেমন বাজে শুনতে ইচ্ছে করে তার। সেই ভালবাসার মানুষকে দেখে লজ্জায় লালপরী হয়ে বেঁহুশ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। রাতে অকারনে হাহাকার করে কেঁদেকেটে কোলবালিশ ভিজিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। আবার ফুরফুরে সকালে ঘুম ভাংগতেই অজান্তেই মুচকি মুচকি হাসতে ইচ্ছে করে তার। বিকেলবেলাতে ডায়রি হাতে ছাদে বসে সেদিনকার ভালবাসার মানুষটার টি-শার্টের রংটাও লিখে রাখতে ইচ্ছে করে। মন খারাপের রাতগুলো জেগে জেগে সেই মানুষটাকে চিঠি লিখতে ইচ্ছে করে।
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে লাফিয়ে হৈহুল্লোড় করে আবার মন খারাপ করে ফেলতেও ইচ্ছে করে।
কিন্তু কিছুই করা হয়না তার।
সে নিজেও জানেনা কেমন করে চলে গেল এতটা সময়!! কিভাবে চলে গেল এতগুলো দিন!! সব কেমন ধোঁয়াশা লাগে তার।
রুমি, মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। দারুন এম্বিশাস ছিল বলেই আজ সে প্রতিষ্ঠিত একজন।
চাইলেই নিজের একাকীত্বকে বিদেয় জানাতে পারতো সে। হাত বাড়ানো প্রেমিকের তো অভাব ছিলনা তার। তবে?
তবে কোথাও কাঁটা পড়ে গিয়েছিল তার স্বচ্ছ বিশ্বাসের কাঁচ। তা কি আর জোড়া দেয়া চাট্টিখানি কথা!! সময় লাগবে। অনেক সময় নিতে হবে তার, সব ঠিক হয়ে যাবে।
রুমি সময় নিয়েছে। ফ্যামিলির কাছ থেকে, বৃদ্ধ নানার কাছ থেকে, ছোট বোনটার কাছ থেকে। আর তার নিজের কাছ থেকেও।
রুমির ধারনা, ভালবাসা জিনিসটা এখনো শিখতে পারেনি সে। ভালবাসা ধরে রাখতে পারার ক্ষমতা তার নেই তবে একদিন হয়তো হবে। আরে হবে, হবে।
এইতো এক বছর,দু বছর....।
আজ রুমি চুয়াল্লিশে। আচ্ছা, খুব দেরী হয়ে গেছে কি?
রাত সাড়ে তিনটা। রুমি বারান্দায় তার প্রিয় রকিং চেয়ারে বসে আকাশের চাঁদটার দিকে তাকায়।
মনে পড়ে, এরকম একটা জোছনার রাত অন্যরকম হওয়ার কথা ছিল। হাতে একটা হাত জড়ানোর কথা ছিল আর এই মুহুর্তে তার ওই গানটা গাওয়ার কথা ছিল। কি যেন গানটা,কি যেন!! আরে!!
রুমি মনে করতে পারেনা। অথচ দূরে কোথাও নাম না জানা একলা পাখি করুণ সুরে ডাকতে ডাকতে উড়ে যায়। কেউ দেখেনা, চাঁদের আলোয় রুমির চোখ চিকচিক করে ওঠে!

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৫:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



