কেউ থাকেনি কাছে, কবিতাই আগলে রেখেছে
স্নেহময়ী জননীর মতোন, দুর্দিনে কবিতাই দিয়েছে প্রেরণা, বাঁচার সাত্ত্বনা ;
পরাজয়ের শেষ মুহূর্ত অবধি কবিতাই চোখের জলে ফেলেছে।
যখন আমি প্রতিপক্ষের গুলিতে বিদ্ধ হলাম
যখন জবাই করা গবাদীপশুর মতোন রক্তগুলো গড়িয়ে পড়তে থাকলো সিঁড়িতে
মুমূর্ষূ এই আমি যখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি,
তখন কবিতাই আমাকে দেখে দুফোটা চোখের জল ফেলেছিলো।
কবিতার উষ্ণ করপল্লবে আমি উজ্জীবিত হয়েছিলাম,
নতুন প্রাণ পেয়েছিলাম।
কবিতাই আমার সফেদ বিছানার বালিশের নিচে পথ্য নিয়ে গিয়েছিলো
কবিতাই দুটো কমলা দিয়েছিলো আমাকে
আমি যখন পৃথিবী থেকে প্রস্থানের কথা ভাবছি, কবিতাই আমাকে বারণ করেছিলো,
কবিতাই আর কটা দিন বাঁচতে বলেছিলো,
কবিতাই ফুঁপে ফুঁপে কেঁদে চোখ দুটো লাল করেছিলো আমার জন্য,
কবিতাই আমাকে গোলাপ শুঁকতে শিখেছে।
শেষাবধি কবিতাই আমার অন্ধের ষষ্টি
গল্পগুলো প্যাকেজ নাটক হলো, উপন্যাসগুলো পূর্ণদৈর্ঘ বাংলা ছায়াছবি
নাটকগুলো নৃত্যের ছলে বেগানা নারীর রমণ,
কবিতাই শেষাবধি থাকলো, হৃদয়ের গহীনে গোপণ অতলান্তে
কবিতাই শেখালো নিরন্ন মানুষের মুখে ভাত তুলে দেবার আনন্দ
শাকপাতা ভাতের ভাঁপের গন্ধে অমৃতের স্বাদ, জীবন অথই অগাধ।
'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়'__ সেখানে আছে প্রশান্তির পুলক, কবিতা আমাকে তাও
শেখালো।
কেউ খাকেনি কাছে
অনার্স থার্ড ইয়ারের বিলকিস ফারহানা যখন শুনেছিলো
আমি ক্ষুদে কবিতাকর্মি, সেই যে কেটে পড়ে, তাকে আর চোখে দেখেনি,
ভালোবেসে কাছে এসেছিলো জেলাসদরের অভিজাত পরিবারের জেসিকা সুলতানা,
ক্যাডার সার্ভিস হচ্ছে ভেবে তার যে কী অভিবাদন, বুকভরা ভালোবাসার সুবাসিত ঘ্রাণ __
কথা দিয়েছিলো বাল্যবান্ধবী অনামিকা বোস__
আমার শোচনীয় পরাজয়ে সেও মৌসুমী ফুলের মতোন ঝরে গেছে।
কেউ থাকেনি কাছে,
শুধু কবিতা, জন্মদুখিনী কবিতা আমার ,জননীর মতোন আমাকে আগলে রেখেছে।
কবিতা, তোমাকে কি করে ভুলি ? তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি বলো ?
তুমি যে আত্মার সাথে মিশে আছো, তুমি যে রক্তের সাথে মিশে আছো,
তুমি অর্ধাঙ্গিনী আমার।
কবিতা, কালজয়ী প্রেমিকা আমার ! তুমিই অনন্ত অপার ভালোবাসার সঙ্গি, নীলাঙ্গি।
২৩.০৬.২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




