
বাংলার ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে অকৃপণভাবে যে ধারাটি সমৃদ্ধ করে গেছে, এখনো নির্ভেজাল দেশীয় এবং লোকধারার চর্চা করে যাচ্ছে তারাই বরাবর অবহেলিত এই বাংলায়। বাংলা মানে বৃহত্তর বাংলা, কাটাতার বিহীন বাংলা ভাষাভাষীদের সমস্ত অঞ্চল। বাংলার প্রাচীন বিনোদন মানেই ছিল কবিগান, বাউল গান আর বয়াতি গান। তার পর অঞ্চল ভেদে গানের ধারা পৃথক হয়েছে, নিয়েছে অনেক রূপ আর নাম।
হাওয়াইয়া, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি, ভাটিয়ালী আর ফকিরি সহ নানান রকম প্রায় বিলুপ্ত সেই সকল গান। তা গান গুলো কেনো আজ বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্ত প্রায়? এই প্রশ্ন দেশীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে যারা ভাবেন তাদের মনের একটা পুরোনো প্রশ্ন। তারপর আবার যাদের সাধ্য আছে তারা কেউ রিসার্চ সেন্টার খুলে আবার কেউ পুরোনো গান নতুন সুরে তোলে 'কভার' করে।
কিন্তু এসব করে কি বাঁচানো যাচ্ছে? কতটাই বা ফিরতে পেরেছি আমরা 'শুদ্ধ' বাঙালীয়ানায়?
শিখরে পৌছাতে হলে আগে শেকড়ে যেতে হয়, আকাশ থেকে পড়ে কিছু হয় না। আর যখন দেশ, মাটি আর মা জড়ানো কোনো বিষয় হয় তখন পৌছাতে হয় রন্ধ্রে-রন্ধ্রে, শিরায়-শিরায়।
অবহেলা আর উপহাসে বয়াতিরা আজ প্রায় হারিয়ে গেছে আর বাউলরা টিকে আছে ছেউড়িয়ায়*।
কোন রকম দাঙ্গা হাঙ্গামা না করে, কোন রকমের সামাজিক পদ মর্যাদার জন্য হানাহানিতে না জড়িয়ে কোন এক ভৌতিক কারণে সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম এই বাহকদের। নিজের আত্মার শুদ্ধি আর নিজেকে জানা, এই হলো বাউলল সাধক মূলমন্ত্র। সৃষ্টিকর্তাকে তারা খুজে বেড়ায় যেমন দৃশ্যমান ধরায় তেমনি আবার অদৃশ্য আত্মায়। তাদের পার্থিব চাওয়া যেনো শুধু অন্যের হাসি মুখ। আর তারাই আজ আমাদের পাসে থেকেও কতদূর, কত অচেনা।
স্ব-সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোন জাতি হয় অসম্মানিত আর দিক হারা। নিজস্ব দশর্ন আর আদর্শ খুজে পেতে যেতে হবে শেকড় গাথা মাটির কাছে।
কথায় আছে-
"যে পথ গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে আসে,
সেই পথই শহর থেকে গ্রামে ফিরিয়ে নেয়।"
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



