somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাউলিয়ানায় আজো মিশে আছে বাঙালীয়ানা

১০ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলার ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে অকৃপণভাবে যে ধারাটি সমৃদ্ধ করে গেছে, এখনো নির্ভেজাল দেশীয় এবং লোকধারার চর্চা করে যাচ্ছে তারাই বরাবর অবহেলিত এই বাংলায়। বাংলা মানে বৃহত্তর বাংলা, কাটাতার বিহীন বাংলা ভাষাভাষীদের সমস্ত অঞ্চল। বাংলার প্রাচীন বিনোদন মানেই ছিল কবিগান, বাউল গান আর বয়াতি গান। তার পর অঞ্চল ভেদে গানের ধারা পৃথক হয়েছে, নিয়েছে অনেক রূপ আর নাম।
হাওয়াইয়া, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি, ভাটিয়ালী আর ফকিরি সহ নানান রকম প্রায় বিলুপ্ত সেই সকল গান। তা গান গুলো কেনো আজ বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্ত প্রায়? এই প্রশ্ন দেশীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে যারা ভাবেন তাদের মনের একটা পুরোনো প্রশ্ন। তারপর আবার যাদের সাধ্য আছে তারা কেউ রিসার্চ সেন্টার খুলে আবার কেউ পুরোনো গান নতুন সুরে তোলে 'কভার' করে।
কিন্তু এসব করে কি বাঁচানো যাচ্ছে? কতটাই বা ফিরতে পেরেছি আমরা 'শুদ্ধ' বাঙালীয়ানায়?
শিখরে পৌছাতে হলে আগে শেকড়ে যেতে হয়, আকাশ থেকে পড়ে কিছু হয় না। আর যখন দেশ, মাটি আর মা জড়ানো কোনো বিষয় হয় তখন পৌছাতে হয় রন্ধ্রে-রন্ধ্রে, শিরায়-শিরায়।
অবহেলা আর উপহাসে বয়াতিরা আজ প্রায় হারিয়ে গেছে আর বাউলরা টিকে আছে ছেউড়িয়ায়*।
কোন রকম দাঙ্গা হাঙ্গামা না করে, কোন রকমের সামাজিক পদ মর্যাদার জন্য হানাহানিতে না জড়িয়ে কোন এক ভৌতিক কারণে সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম এই বাহকদের। নিজের আত্মার শুদ্ধি আর নিজেকে জানা, এই হলো বাউলল সাধক মূলমন্ত্র। সৃষ্টিকর্তাকে তারা খুজে বেড়ায় যেমন দৃশ্যমান ধরায় তেমনি আবার অদৃশ্য আত্মায়। তাদের পার্থিব চাওয়া যেনো শুধু অন্যের হাসি মুখ। আর তারাই আজ আমাদের পাসে থেকেও কতদূর, কত অচেনা।
স্ব-সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোন জাতি হয় অসম্মানিত আর দিক হারা। নিজস্ব দশর্ন আর আদর্শ খুজে পেতে যেতে হবে শেকড় গাথা মাটির কাছে।
কথায় আছে-
"যে পথ গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে আসে,
সেই পথই শহর থেকে গ্রামে ফিরিয়ে নেয়।"
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:১৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×