somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অন্যরকম মানুষ (বেটা ভার্সন)
সে ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেয় এবং নিজেও সৎকাজ করে, আর বলে আমি মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত। (সূরা- হা-মীম সিজদাহ্, আয়াত- ৩৩)

প্রসঙ্গ ফেসবুক এবং ২০১৭ সালের কোন একদিন!!!

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল পৌণে সাতটায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে শাওন, এখন সাড়ে দশটা, লাইন যেয়ে মেইনরোড পর্যন্ত ঠেকেছে, আগারগাঁও জাতীয় ফেসবুক অফিসের সামনে প্রতিদিনই এমন ভিড়বাট্টা হয় আজকাল। মাঝখানে কয়েকবার দুয়েকজন দালাল এসে শাওনকে চোখ টিপি দিয়ে গেছে, শাওন পাত্তা দিচ্ছেনা, সে দালাল ছাড়াই ফেসবুক একাউন্ট খুলবে সেটা তার জেদ। দালালদের দৌরাত্ন্য খুব বেশী, দালাল এড়াতে ফেসবুক একাউন্ট বানানোর দায়িত্ব সেনাবাহিনীর উপর ন্যস্ত করার চিন্তা ভাবনা চলছে।

জাতীয় ফেসবুক অফিসে এটা শাওনের তৃতীয় দিন, এর আগে দুইবার এসেছিলো। যারা দালাল ধরেছিলো তাদের কিছু করতে হয়নাই, কাগজপত্র নিয়ে দালাল ভেতরে ঢুকে গেছে তারপর হাসি হাসি মুখ করে সবাইকে এসে টোকেন দিয়ে দিয়েছে, টোকেন পাওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে সেটাও দালালরাই দেখবে বলেছে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর আবার অফিসে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আর ছবি দিয়ে ফেসবুক একাউন্ট খুলতে হয়। দালালদের কিছু টাকা বেশী দিলে নাকি দুই তিনবার ছবি তোলে ভালো ছবিটা ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে দেয় আর নইলে একটা ছবি তুলে সেটাই দেয়, সেই ছবি বেশীরভাগ সময়েই জাতীয়তা পরিচয়পত্রের ছবির মতো হয়।

ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারী আইনকানুন বেশ কড়া, সরকারকে না জানিয়ে প্রোফাইল পিকচার পাল্টালে মোবাইল কোর্টে অনধিক দেড় মাসের কারাদন্ড হয়, আবার নিয়ম মেনে প্রোফাইল পিকচার পালটানো ঝামেলা, নোটারী পাবলিক দিয়ে এফিডেভিট করতে হয়, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হয়, তারপর ফার্স্টক্লাশ গেজেটেড অফিসার দিয়ে ছবি সত্যায়িত করাতে হয়!

দালাল ধরেনাই বলেই ফেসবুক অফিসে আজ শাওনের তৃতীয় দিন, দালাল ধরবে না সেটা তার জেদ, দালালের ফি ই বা সে পাবে কোথায়, এম্নিতেই ফেসবুক একাউন্ট খোলার যে সরকারী রেট সেই টাকা জোগাড় করতেই বাপের পকেটে হাত দিতে হয়েছে। সে বার্থ সার্টিফিকেট, জাতীয়তা পরিচয়পত্র, এসএসসি/এইচএসসি সার্টিফিকেট, কমিশনার থেকে সত্যায়িত করে আনা নাগরিকত্ব সনদ এর ফটোকপি আর পাসপোর্ট সাইজ দুই কপি ছবি জমা দিয়েছিলো। প্রথমবার কাগজপত্র দেখে সরকারী অফিসার গম্ভীর স্বরে বলেছে এইগুলা কিছুই হয়নাই, বার্থ সার্টিফিকেট নরমাল কাগজে ফটোকপি করে আনলে গ্রহনযোগ্য হবেনা, অফসেট কাগজে ফটোকপি করে আনতে হবে! দ্বিতীয়বার তাকে ফেরত যেতে হয়েছে ফটোকপিতে কালি বেশী হয়ে গেছে বলে, অফিসার বলেছে সেইটা নাকি ন্যাচারাল দেখাচ্ছে না পাল্টায়ে আনতে। সে জানতে চেয়েছিলো ফটোকপির ন্যাচারাল লুক জিনিসটা কি, তবে অফিসার ব্যস্ত ছিলো তাই উত্তর দেয়ার সময় ছিলোনা দূর দূর করে হাত নেড়ে চলে যেতে বলেছে!

বেলা তিনটা। আগারগাঁও জাতীয় ফেসবুক অফিস থেকে বেরিয়ে এসে সামনের টঙ এ একটা কলা আর বনরুটি খায় শাওন। সবশেষে একটা সিগারেট ধরিয়ে ধূয়ার সাথে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। তার আজো হয়নি, কি কারন দেখিয়েছে অফিসার সেটা বড় কথা না, দালাল ছাড়া কাজ হবেনা সেইটাই বড় কথা। বাড়ির পথ ধরে বাস স্ট্যান্ডের দিকে হাঁটতে হাঁটতে সে ভাবে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ এই ফেসবুক তার না, ফেসবুক বড়লোকদের, যাদের টাকা আছে কিংবা লিঙ্ক লবিং আছে তাদের… বাসস্ট্যান্ডে বিটিসিএল এর বিলবোর্ডে চোখ পড়ে তার, বাংলাদেশ সরকার প্রযোজিত, আইসিটি মিনিস্ট্রি পরিচালিত ‘একটি বাড়ি একটি ফেসবুক একাউন্ট’ প্রকল্পের বিলবোর্ড। অভিমানে চিকচিক করে শাওনের চোখ

.....সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫৩
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×