somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুদে গল্প ১

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক যে মুহূর্তে নিলয় সিদ্ধান্ত নিলো তিশার হাতটি ধরবে, সে মুহূর্তেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি৷ অগত্যা হাতের কথা ভুলে গিয়ে তাকে ধরতে হলো ছাতা৷ প্রথম প্রথম এই বৃষ্টিটার ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি হলেও ধীরে ধীরে ভালো লাগতে আরম্ভ করলো৷ ছাতার পরিধি অতিক্রম করে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো এমনভাবে পড়ছে যেন চাইলেই একটা একটা করে বৃষ্টিফোঁটাগুলো গুণে ফেলা যায়৷ তিশা হাত বাড়িয়ে দিলো ছাতার ওপাশে, আঁজলা ভরে জল নিয়ে নিলয়ের মুখে ছুড়ে দিল; নিলয়ের তৃষ্ণার্ত হাত কেঁপে উঠলো খানিকটা, তিশার হাত যেন ফোঁটায় ফোঁটায় ছুঁয়ে গেল তার মুখ-চোখ-ঠোঁট! এ মুহূর্তে বৃষ্টিটাকে মনে হচ্ছে যেন দেবদূত; কোটি কোটি বছর ধরে যে স্পর্শের জন্য সে তিলে তিলে মরেছে, এই আকাশবৃষ্টি সে স্পর্শের সাথে তার সাক্ষাৎসাক্ষী!


বৃষ্টি কমেছে! ছাতাটি গুটিয়ে নিলয় সেটা নিজের ডান পাশে রেখে দিল; তার বাম পাশে তিশা, তাদের মধ্যে কোনো দেয়াল রাখতে চায় না সে, তা সে ছাতারই হোক না কেন৷ চোখ নামিয়ে চালিয়ে দেয়া হয়েছে তিশার আঙুলগুলোর দিকে; হায়, এভাবে নির্দ্বিধায় যদি হাতটাকে রাখা যেত তিশার হাতের উপর— জীবনটা পূর্ণ হয়ে যেত! নিলয়ের আঙুলে মৃদু কম্পন— ছোঁবে, না কি ছোঁবে না?
তিশা হেসে উঠলো, বিদ্যুৎতরঙ্গ খেলে গেল নিলয়ের বুকের ভেতর— এ হাসি অমৃত!
নিলয় বললো, "তিশা, তুমি কি জানো, তোমার আঙুলগুলো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি?"
তিশা তাকিয়ে আছে আকাশে, শুভ্রনীল আকাশে মিশে গেল তার আলোড়িত চোখ৷
তিশার মুখের দিকে তাকিয়ে নিলয় বললো, "আমি কি তোমার হাতটি একবার স্পর্শ করতে পারি তিশা?"
তিশা নির্বিকার!

কিছু সময়ের জন্য নিলয়ের নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হলো! যে কথাগুলো সে মনে মনে এতবার করে বলছে, সে কথাগুলো একবার যদি মুখ ফুটে বলে ফেলতে পারতো, কে জানে, হয়তো আঙুলগুলো ছোঁয়া হয়ে যেত এতদিনে! আজকের কথা তো না; গত তিন মাস ধরে নিলয়ের হৃদয়কম্পনগুলো আঙুলের ডগায় এসে অস্থির সময়যাপন করছে, অথচ মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরত্বে থাকা আঙুলগুলো স্পর্শ করা যাচ্ছে না! কখনো কখনো এত কাছে থেকেও কত দূরে থাকা হয়; কখনো কখনো কাছে এসেও যেন কাছে আসা নয়!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৪৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গজব পরিস্থিতি দেশের: বিদ্যুৎ নেই বিল ডাবল

লিখেছেন অর্ক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



হাহাকার পড়ে গেছে দেশে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার নিয়েছে, নিচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অপরদিকে ভূতুড়ে বিল। অদ্ভুত ব্যাপার। বিদ্যুৎ নেই, নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই বিল কম হওয়ার কথা। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×