ছেলেবেলা থেকেই বাবার প্রতি ছিল আমার অন্যরকম এক অদৃশ্য টান। বাবার বেক্তিত্ত,তার দরাজ গলায় বলিষ্ঠ উচ্চারণ আমাকে ভীষণ ভাবে আন্দোলিত করতো। মনে মনে ভাবতাম আমি বড় হয়ে বাবার মত হবো। তখন থেকেই বাবাকে নিজের আদর্শ পুরুষ মানতে শুরু করেছি।
আমি ছিলাম বাবার খুব কাছাকাছি। বাবাও ছিলেন আমার পাশে ছায়ার মতন; সর্বোক্ষণ , আমার সবকিছুতে। কথা বলা থেকে শুরু করে পড়াশুনা, দৃষ্টিভঙ্গি, দেশপ্রেম, খুব সাধারন জীবন যাপন, অন্যায়ের প্রতিশব্দ এ সবই শেখা বাবার কাছে। পথে চলতে চলতে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়লে কিভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে উঠে দাঁড়াতে হয়,তাও শিখিয়েছেন বাবা।
ছোটবেলা থেকেই প্রতিবছর বাবার হাতটি ধরে বইমেলায় যেতাম। সারাদিন বইমেলার প্রাঙ্গন চষে বেড়াতাম, এক স্টলে থেকে অন্যস্টলে। বাড়ি ফিরতাম একগাদা রঙিন মলাটের সব বই নিয়ে।
সত্যিকথা বলতে কি, আলমারিতে নতুন জামার আধিক্য না থাকলেও আমার বুকশেলফে বইয়ের কমতি ছিল না। এটা অবশ্য বাবার কল্যাণে। তখন খুব মন খারাপ হত বন্ধুদের নতুন নতুন জামা দেখে। এখন আর মন খারাপ হয় না। কারণটা তখন না বুঝলেও এখন বুঝি, বাবা আমাকে জ্ঞানের আলো দিতে চেয়েছিলেন। এ আলো সবার মাঝে থাকে না।
২১ এলেই বাবা নিয়ে যেতেন শহীদমিনারে , দুজন মিলে পুষ্পাঞ্জলি দিতাম শহীদ বেদীতে।
বাবা আজ নেই। তিনি অনন্তে হারিয়ে গেছেন। তবে দিয়ে গেছেন এক আলোকিত পথের দিশা।
তার দেখানো সেই সরলসত্তের পথ ধরে আমি এগিয়ে চলেছি।জানিনা কতদূর যেতে পারবো?
এখনও আমি বই মেলায় যাই, স্টলে স্টলে ঘুরি আমার ছোট শিশুপুত্রটির হাতখানি ধরে। বাসায় ফিরি একগাদা বই কিনে। ‘ও’ বই নিয়ে নাড়াচাড়া করে, আনন্দ করে। বইএর পাতা উলটায় তাতে আদর বুলায়। আমি নিজেকে আবিষ্কার করি ওর মাঝে এবং সেই সাথে অনুভব করি বাবার অস্তিত্বকে ।
আমি জানি বাবা,
তুমি হারিয়ে গেলেও ঐ দূর আকাশের তারাটি হয়ে আমায় দেখছো-
তোমার খোকা, কেমন তোমার দেখানো পথ ধরে হেঁটে চলেছি, কেবল তুমি আমার হাতটি ধরে নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



