somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার গল্প

২১ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম বর্ষায় শেষ বর্ষণের গল্প…

কিছু টুকরো কথা বার্তা কি কখনো গল্প হতে পারে? হয়তোবা পারে। হয়তোবা পারে না। কে জানে! তবে কিছু ভালোলাগার মুহূর্ত একটি জীবন হতে পারে। পারে এক ছাদের নিচে একটি একটি সংসার গড়তে। তোমার কি মনে পড়ে সে দিন আকাশের খুব মন খারাপ ছিল। হয়তোবা তোমাকে কষ্ট দিয়েছিলাম বলে আমার অলক্ষে আকাশটা তোমার হয়ে কেঁদেছিল! তবু আমি তোমার পাশে এসেছিলাম, আমার হাতে ছিল কচি কলাপাতা রঙের রংচটা একটি ছাতা! তোমাতে আমাতে সংকুলনের কোন অবকাশ ছিল না। তবু তোমার কি আকুতি আমার পাশে থাকার। সেই রংচটা ছাতা বোধকরি ঊর্ধ্বাংশে ছেঁড়া ছিল, ভিজে যাচ্ছিলে তুমি আর আমি। তবু আমার লজ্জা বোধ ছিল না। ছিল না কোন সংকোচ। আমার অর্থনৈতিক অক্ষমতা আমাদের ভালোলাগা কেড়ে নিতে পারে নি।।
তবু আমি কি নিষ্ঠুর! কতটা পাশবিক। সেবার তোমার জন্মদিন আসলো বছর ঘুরে। সারাটা রাত আমি ঘুমাতে পারি নি। তুমি ভেবেছ বিশেষ একটি দিনের জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম বলে আমার এত সব উত্তেজনা। না। আমি নির্ঘুম রাত কাটিয়েছিলাম আমার সমস্ত সঞ্চয়ের হিসাব নিকাষ কষে। না হিসাব মিলাতে পারলাম না কোন ভাবেই। স্কুল জীবনে অংকে কাচা ছিলাম না কখনোই। তবু আমি হেরে গেলাম হিসাব মিলাতে গিয়ে। মাটির ব্যাঙ্কটা ভেঙ্গে ফেললাম। আমার সঞ্চয় এতই কম। কোন ভাবেই হাজার টাকাও ও জোড়াতালি দিয়ে মিলাতে পারলাম না। সকালে দামি দামি রেস্টুরেন্ট গুলুর সামনে এলোমেলো উদাস মনা ভাব নিয়ে হাঁটলাম কয়েকবার। জোড়ায় জোড়ায় বসে আছে মানব আর মানবী। কত বাহারি রঙের আলোর ঝলকানি, কত না জানি দামি দামি খাবার , না ও খানে যাওয়া আমার মানা। তবু আমি হার না মানা একগুঁয়ে সস্তা মানসিকতার মানুষ! হেরে গেলে তো চলবে না। অনেক ঘুরে শ্রান্ত আমি শেষ পর্যন্ত হেরেই গেলাম। এই টাকায় কোন ভালো জামা পাওয়া যাবে না। ফুল কেনা যাই, তবে ফুল দিয়ে কি হবে? আমি চেয়েছিলাম এমন কিছু দিয়ে যা তোমার পাশে থাকবে সবসময়, যার অনুভতি তোমাকে সবসময় আমার কথা মনে করিয়ে দিবে। তবে সত্যি কি হেরে গেলাম। না , দুইশ টাকা রিক্সা ভাড়া আর একশো টাকায় কোন আইসক্রিম, দুপুরে আর মাত্র দেড়শ টাকার নীলক্ষেতের সস্তা বিরানি, খুব বেশী মন্দ ছিল কি? জানি না! সেদিন ও আমার অক্ষমতা আর মন খারাপ দূর হয়ে গিয়েছিলো শুধু তোমার উচ্ছাস মাখা মুখ খানি দেখে।
সেদিন তোমার সাথে দেখা করতে আমার দেরি হয়ে গিয়েছিলো তাই না? বিশ্বাস কর আমার কোন অপরাধ ছিল না। সকালে অনেক হাঁটতে গিয়ে আমার একটা জুতুর বোধয় আয়ু ফুরিয়ে গিয়েছিলো। রাস্তার পাশে দারিয়ে সেলাই করে কিছুটা সুস্থ করেছিল। কি লজ্জা! কি লজ্জা! বিশ্বাস করো পাশের একটা চার দোকানের টিনের চালের উদাস মনে তাকিয়ে থাকা কাকটা সাক্ষী ছিল। আমার কোন দোষ ছিল না।
তবু আমি বলতে কার্পণ্য করি নি। না আজ ও করবো। আমার সেই রংচটা কচি কলাপাতা রঙের ফুটু হয়ে যাওয়া ছাতা কিংবা আমার সেই মাটির ব্যাংক, আমার অক্ষমতা কিংবা দশ টাকা দিয়ে আমার ছেঁড়া জুতা সেলাই, কোন কিছুই আমার লজ্জা নয়। একবার তাকিয়ে দেখো সব কিছু ছাপিয়ে কতটা ব্যকুলতা ছিল আমার, শুধু একটি বার তোমার মুখটি দেখার জন্য। তোমার কিছু কথা শুনার জন্য, তোমার সাথে কিছু মুহূর্ত পাওয়ার জন্য।
আমার এই চিঠিটা তোমাকে আজ ও দেয়া হয়নি। তবে আজ দিয়ে দিলাম। আমার সমস্ত সত্তা, স্বপ্ন, অনুভতি, হাঁসি, কান্না, লজ্জা, আর সর্বোপরি আমার সমস্ত ভালোবাসা কাগজের খামে বন্দী করে দিলাম। আমার আমি হয়তো কখনোই তোমাকে বুঝাতে পারি নি, তবে আমার এই চিঠিই তোমাকে জানিয়ে দিলে কি খুব বেশী ক্ষতি হবে?.......আমি তোমাকে ভালোবাসি।
ভালো থেকো তুমি। নিজেকে নিজের মত করে গুছিয়ে রেখো, ভালো রেখো ঠিক ততটুকু যতটুকু ভালো থাকলে স্বপ্ন দেখা যায় আরও একটি দিন বেঁচে থাকার।
ভালো থেকো …………………………….




৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×