somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটগল্পঃ বরফ

১৬ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আষাঢ় মাস, ঝর ঝর বৃষ্টি হবে তা না সূর্যের প্রচন্ড তাপে গরমে মানুষের প্রান যায় যায় অবস্থা।

এরই মধ্য চলছে রমজান মাস। এই গরমের মধ্য রোজা রাখা বেশ কষ্ট। আফজাল হোসেন একজন খুবই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। চারজনের ছোট সংসার। শহরের এক গলিতে বসবাস করছে। টানাটানিরর সংসার, কোনরকম খেয়ে পড়ে বেচেঁ আছে তারা।সাজু আর সিফা এই দুটি সন্তান তার। সাজু ১২ বছরের আর সিফা ৮ বছরের।

আফজাল সাহেবের ফুটপাতে দোকান ।প্রতিদিন বিকেলে বসে। বিকেল থেকে নিচু শ্রেণীর মানুষরা এই ফুটপাতের দোকান থেকে নানানপ্রকার জিনিস কিনে থাকে। আফসাল সাহেব তার ছোট্ট দোকানে খেলনার পসরা সাজিয়ে বসে থাকে। কখন মানুষ আসবে কখন বিক্রি হবে খেলনা তাই নিয়ে ভাবনার জগতে সময় কাটে তার। বিক্রি হলেই ছেলে মেয়ের মুখে দুটো ভাত দিতে পারবেন।

সাজু আর সিফা দুজনেই রোজা রাখে। ইফতারে তাদের খুব বেশি ভাল খাবার জুটেনা। তারপর ও দুই ভাই বোন আনন্দের সহিত রোজা রাখে। যেদিন অনেক গরম পড়ে সেদিন বলে কয়ে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাজু বরফ মিল থেকে বরফ নিয়ে আসে। শরবত করে খাবে বলে। কারন গরমে এত খারাপ লাগে যে ঠান্ডা পানি বা শরবত খেতে খুব ইচ্ছে করে ওদের।

সাজু আর সিফা গরম বেশি পড়লেই শুধু বলে আল্লাহ বৃষ্টি দেও আল্লাহ বৃষ্টি দেও। আর এই শুনে সাজুর বাবা বলে – এই চুপ কর বদমাশের দল, বৃষ্টি হলে খাবি কি তোরা? আমার বেচা বিক্রি সব বন্ধ হয়ে যায়।

সাজু আর সিফার কথা বুঝি বিধাতা শুনেছিল তাইতো কয়েকদিন বেশ বৃষ্টি হল। আর আফজাল সাহেব শুকনো মুখে বসে থাকেন। কারন ক্রেতা আসেনা তার খেলনা বিক্রিও হয় না। সকুরুণ চোখে তাকিয়ে থাকে আকাশ পানে, আর মনে মনে বলে হে আল্লাহ বৃষ্টি কমিয়ে দাও। আমি যাতে আমার ছেলে মেয়ের মুখে দুটো ভাত দিতে পারি। দুদিন পরেই বৃষ্টি কমে যায়। প্রচণ্ড গরম পরে আবার ।

সেদিন যখন খুব গরম পড়ল, সাজুর বোন সিফা বলছিল
-ভাই আজও কিন্তু তুই বরফ আনবি। ঠান্ডা পানির শরবত খামু। খুব খারাপ লাগতাছে গরমে। আত্মাডা কাঠ হইয়া গেছেরে ভাই।
- দাড়া মার কাছ থিকা টেকা নিয়া আসতাছি। মা ওমা বরফ কিনবার টেকা দেওনা।
- প্রত্যেক দিন এত টেকা পামু কই বাবা? আইজত তর বাপে টেকা দেয় নাই।
- মা গরমে খুব খারাপ লাগতাছে। সিফা আর আমার আত্মাডা কাঠ হইয়া গেছে। ইফতারে খুব ঠাণ্ডা পানি খাইতে মন চাইছে।
- আইজ খাওন লাগব না বাপ। টেকা নাইত।
-ইস মা আমগো যদি একটা ফ্রিজ থাকত! কত মজা হইত না? খালি ঠান্ডা পানি খাইতাম।
-হ ওত টেকা পামু কই আমরা? যা’ত জ্বালাইছ না, ভাল লাগেনা।

মন খারাপ করে সাজু ঘর ছেড়ে বাহিরে আসে আর বার বার সিফার শুকনো চেহেরাটা মনে পড়ে। সাজুর মনে হতে থাকে বোনের এই ছোট্ট আব্দার কি পূরন করতে পারবনা? একটু ঠাণ্ডা পানি সেটাও কি এনে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই?

সাজু তার পাশের বিল্ডিং এর দিকে তাকায়। সাজু এক দৌড়ে সে বিল্ডিং এর ভেতর ঢুকে। একটা ফ্ল্যাটের কলিং বেল চাপে। ইফতারের প্রায় সময় হয়ে গেছে। বিরক্ত মুখে দরজা খুলে একটা ভদ্র মহিলা
- এই কি চাই?
- খালাম্মা আমারে কিছু বরফের টুকরা দিবেন?
- আরে বলে কি ছেলে বরফের টুকরো নেই যা ভাগ।
- খালাম্মা আমারে এক বোতল ঠান্ডা পানি দিবেন? আমরা ওই পাশের টিন শেড বাড়িতে থাকি। আমাদের ফ্রিজ নাই।
- ফ্রিজ নাই আবার ঠান্ডা পানি খাওয়ার শখ, যা ভাগ।
- খালাম্মা একটা বোতলই দেন না?
- আরে সাহস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি, যা বলছি নইলে মার খাবি।

সাজুর বুকের ভেতরে অনেক খানি মেঘ জমে, কালো মুখ করে ফিরে আসে । ঘরে প্রবেশ করতেই সাজুর বোন জিজ্ঞেস করে
-ভাই বরফ কই?
- সাজু নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। বোনকে ধরে কাঁদে আর বলে আমি
- তর লাইগা বরফ আনতে পারি নাই বোন।
- সিফা সাজুর কান্না দেখে কাঁদে
সাজুর মা এই দৃশ্য দূর থেকে দেখে নিজেও কাঁদেন। কাছে এসে বাচ্চাদের জরিয়ে ধরে আদর করতে থাকেন। সাজু তার মাকে বলে
- মা আমি বড় হইয়া তোমারে ফ্রিজ কিনা দিমু। তখন আমরা অনেক ঠাণ্ডা পানি খাইতে পারমু। দেইখ মা একদিন আমি সত্যি তোমারে ফ্রিজ কিনা দিমু।


আসুন জেনে নেই পানি পান করালে কি হয়ঃ

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম সদকা হলো মানুষকে পানি পান করানো। (আহমদ, আবু-দাউদ)
হজরত ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন দানটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, অন্যকে পানি পান করানো। ইমাম কুরতুবি একটি আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলেছেন, যার গোনাহ বেশি হয়ে গেছে, সে যেন মানুষকে পানি পান করায়।

সহিহ বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর বদৌলতে এক পাপী ব্যক্তিকেও আল্লাহ পাক মাফ করে দিয়েছেন।

( সূত্র বাংলা নিউজ ২৪-একটু পানি অনেক পূণ্যের হাতছানি)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:২৩
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×