![]()
আষাঢ় মাস, ঝর ঝর বৃষ্টি হবে তা না সূর্যের প্রচন্ড তাপে গরমে মানুষের প্রান যায় যায় অবস্থা।
এরই মধ্য চলছে রমজান মাস। এই গরমের মধ্য রোজা রাখা বেশ কষ্ট। আফজাল হোসেন একজন খুবই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। চারজনের ছোট সংসার। শহরের এক গলিতে বসবাস করছে। টানাটানিরর সংসার, কোনরকম খেয়ে পড়ে বেচেঁ আছে তারা।সাজু আর সিফা এই দুটি সন্তান তার। সাজু ১২ বছরের আর সিফা ৮ বছরের।
আফজাল সাহেবের ফুটপাতে দোকান ।প্রতিদিন বিকেলে বসে। বিকেল থেকে নিচু শ্রেণীর মানুষরা এই ফুটপাতের দোকান থেকে নানানপ্রকার জিনিস কিনে থাকে। আফসাল সাহেব তার ছোট্ট দোকানে খেলনার পসরা সাজিয়ে বসে থাকে। কখন মানুষ আসবে কখন বিক্রি হবে খেলনা তাই নিয়ে ভাবনার জগতে সময় কাটে তার। বিক্রি হলেই ছেলে মেয়ের মুখে দুটো ভাত দিতে পারবেন।
সাজু আর সিফা দুজনেই রোজা রাখে। ইফতারে তাদের খুব বেশি ভাল খাবার জুটেনা। তারপর ও দুই ভাই বোন আনন্দের সহিত রোজা রাখে। যেদিন অনেক গরম পড়ে সেদিন বলে কয়ে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাজু বরফ মিল থেকে বরফ নিয়ে আসে। শরবত করে খাবে বলে। কারন গরমে এত খারাপ লাগে যে ঠান্ডা পানি বা শরবত খেতে খুব ইচ্ছে করে ওদের।
সাজু আর সিফা গরম বেশি পড়লেই শুধু বলে আল্লাহ বৃষ্টি দেও আল্লাহ বৃষ্টি দেও। আর এই শুনে সাজুর বাবা বলে – এই চুপ কর বদমাশের দল, বৃষ্টি হলে খাবি কি তোরা? আমার বেচা বিক্রি সব বন্ধ হয়ে যায়।
সাজু আর সিফার কথা বুঝি বিধাতা শুনেছিল তাইতো কয়েকদিন বেশ বৃষ্টি হল। আর আফজাল সাহেব শুকনো মুখে বসে থাকেন। কারন ক্রেতা আসেনা তার খেলনা বিক্রিও হয় না। সকুরুণ চোখে তাকিয়ে থাকে আকাশ পানে, আর মনে মনে বলে হে আল্লাহ বৃষ্টি কমিয়ে দাও। আমি যাতে আমার ছেলে মেয়ের মুখে দুটো ভাত দিতে পারি। দুদিন পরেই বৃষ্টি কমে যায়। প্রচণ্ড গরম পরে আবার ।
সেদিন যখন খুব গরম পড়ল, সাজুর বোন সিফা বলছিল
-ভাই আজও কিন্তু তুই বরফ আনবি। ঠান্ডা পানির শরবত খামু। খুব খারাপ লাগতাছে গরমে। আত্মাডা কাঠ হইয়া গেছেরে ভাই।
- দাড়া মার কাছ থিকা টেকা নিয়া আসতাছি। মা ওমা বরফ কিনবার টেকা দেওনা।
- প্রত্যেক দিন এত টেকা পামু কই বাবা? আইজত তর বাপে টেকা দেয় নাই।
- মা গরমে খুব খারাপ লাগতাছে। সিফা আর আমার আত্মাডা কাঠ হইয়া গেছে। ইফতারে খুব ঠাণ্ডা পানি খাইতে মন চাইছে।
- আইজ খাওন লাগব না বাপ। টেকা নাইত।
-ইস মা আমগো যদি একটা ফ্রিজ থাকত! কত মজা হইত না? খালি ঠান্ডা পানি খাইতাম।
-হ ওত টেকা পামু কই আমরা? যা’ত জ্বালাইছ না, ভাল লাগেনা।
মন খারাপ করে সাজু ঘর ছেড়ে বাহিরে আসে আর বার বার সিফার শুকনো চেহেরাটা মনে পড়ে। সাজুর মনে হতে থাকে বোনের এই ছোট্ট আব্দার কি পূরন করতে পারবনা? একটু ঠাণ্ডা পানি সেটাও কি এনে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই?
সাজু তার পাশের বিল্ডিং এর দিকে তাকায়। সাজু এক দৌড়ে সে বিল্ডিং এর ভেতর ঢুকে। একটা ফ্ল্যাটের কলিং বেল চাপে। ইফতারের প্রায় সময় হয়ে গেছে। বিরক্ত মুখে দরজা খুলে একটা ভদ্র মহিলা
- এই কি চাই?
- খালাম্মা আমারে কিছু বরফের টুকরা দিবেন?
- আরে বলে কি ছেলে বরফের টুকরো নেই যা ভাগ।
- খালাম্মা আমারে এক বোতল ঠান্ডা পানি দিবেন? আমরা ওই পাশের টিন শেড বাড়িতে থাকি। আমাদের ফ্রিজ নাই।
- ফ্রিজ নাই আবার ঠান্ডা পানি খাওয়ার শখ, যা ভাগ।
- খালাম্মা একটা বোতলই দেন না?
- আরে সাহস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি, যা বলছি নইলে মার খাবি।
সাজুর বুকের ভেতরে অনেক খানি মেঘ জমে, কালো মুখ করে ফিরে আসে । ঘরে প্রবেশ করতেই সাজুর বোন জিজ্ঞেস করে
-ভাই বরফ কই?
- সাজু নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। বোনকে ধরে কাঁদে আর বলে আমি
- তর লাইগা বরফ আনতে পারি নাই বোন।
- সিফা সাজুর কান্না দেখে কাঁদে
সাজুর মা এই দৃশ্য দূর থেকে দেখে নিজেও কাঁদেন। কাছে এসে বাচ্চাদের জরিয়ে ধরে আদর করতে থাকেন। সাজু তার মাকে বলে
- মা আমি বড় হইয়া তোমারে ফ্রিজ কিনা দিমু। তখন আমরা অনেক ঠাণ্ডা পানি খাইতে পারমু। দেইখ মা একদিন আমি সত্যি তোমারে ফ্রিজ কিনা দিমু।
আসুন জেনে নেই পানি পান করালে কি হয়ঃ
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম সদকা হলো মানুষকে পানি পান করানো। (আহমদ, আবু-দাউদ)
হজরত ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন দানটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, অন্যকে পানি পান করানো। ইমাম কুরতুবি একটি আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলেছেন, যার গোনাহ বেশি হয়ে গেছে, সে যেন মানুষকে পানি পান করায়।
সহিহ বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর বদৌলতে এক পাপী ব্যক্তিকেও আল্লাহ পাক মাফ করে দিয়েছেন।
( সূত্র বাংলা নিউজ ২৪-একটু পানি অনেক পূণ্যের হাতছানি)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




