somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বালির বাঁধ

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বালির বাঁধ
বাঙালিরা খুব শৌখিন জাতি! শখ করে প্রেম করে,শখ করে ছ্যাঁকা খায়,শখ করে ধুমপান করে,শখ করে মানুষ কে কষ্ট দেয়, এমন কি শখের নেশায় মৃত্যু মুখে পতিত হতেও দ্বিধাবোধ করে না! প্রবাদে বলা অাছে, একে তো নাচন বুড়ি তার উপর ঢলের বাড়ি! আমরা এমনিতেই শৌখিন আর যদি দিবস আসে তাহলে তো কথাই নেই! এই দিবসের আসল গুরুত্ব না বুঝে পালন করতে করতে ধ্বসে গেল আমাদের মেরুদন্ড! গ্রামের অশীতিপর নামায পড়তে পড়তে পড়তে কপালে ঘা গেল অবশেষে সে জানতে পারল যে তার সুরা ফাতেহা পাঠ শুদ্ধ নয়! তেমনি আমরাও দিবস পালন করে এত বছর পরেও জানতে পারলাম না কেন আমার এটা পালন করছি? কি ইহার শানে নযুল? আজও এমন হাজারো ছাত্র এই বাংলায় পাওয়া যাবে, যাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, ১৪ই ডিসেম্বর তিন জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম বলতে ? তাহলে তারা এমন ভাব করবে যেন সদ্যজাত শিশু! অথচ তারাই আবার ১৪ তারিখে একটি গোলাপ নিয়ে বেদিতে বসে মুখটি ৩০ ডিগ্রি এঙ্গেল করে ছবি তুলছে! যতক্ষণ না দেশের সব মানুষ না জানবে এই সব দিবসের (১৪,১৬,ডিসেম্বর) আসল মর্মকথা ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ অশীতিপর বৃদ্ধের মতই শুধু কপালে ঘাই হবে!! আসছে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস! মাথার ওপরে যারা আছেন তারা ইতোমধ্যেই কিছু বিশেষ জায়গা ধোঁয়ামোছার কাজ শুরু করে দিয়েছেন,মাইকে,বেতারে,গনমাধ্যমে,স্যাটেলাইটে,সামাজিক গনমাধ্যমে বিশেষ দিবসের জন্য প্রচারণা! কথায় আছে প্রচারেই প্রসার।গ্রাম বাংলায় ওয়াজকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,যত জোড়ে সুবহানআল্লাহ তত বেশি সওয়াব! তাই শুনে মুছল্লিরা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে... । তাই যত প্রচার তত এই দিনগুলির মহাত্না তত বেশি! শরীরের বিশেষ স্থান যদি মানুষ বছরে একবার চন্দন ও গোলাপ এবং আরবের আঁতর দিয়ে ৪ ঘন্টা পরিষ্কার করে আর বাকি ৩৬৪ দিন পানি ও হাতও না দিই তাহলে কি প্রিয়তমা তার রক্ত বর্ণসম চঞ্চু দিয়ে লেহ্য করবে? সূর্য হাজার বছরের পুরনো হলেও যেমন প্রতিদিন তার নতুন আলো নিয়ে পৃথিবীর তমসা দুরীভুত করে, তেমনি এসব গৌরবোজ্জ্বল দিন (স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস,বুদ্ধজীবী দিবস...) এর শিক্ষা প্রতিদিনের জীবনে, মনে,চেতনায়,কর্মে ধারণ করতে হবে। তাহলই দেশ আর ৪৫ বছর পেরিয়ে এই অপবাদ পেতে হবে না যে, আমাদের দেশ এখনও শিশু! অথচ তা না করে আমরা শুধু বিশেষ দিনে কথা ও বাণীর ব্যঞ্জনে আকাশ বিদীর্ণ করে ফেলছি!বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস অথবা বুদ্ধিজীবী দিবস গুলো কে আমরা একটি দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি।ইহার থেকে প্রেরনা নিয়ে সারা বছর কিভাবে কর্মউদ্দোম থাকা যায় তা উপলব্ধিতে আমরা ব্যর্থ! তার বাস্তব প্রমাণ যখন দিবস গুলো পার হয়ে যায় সেখানে (স্মৃতি স্তম্ভ) দেখা যায় জুতো পরিহিত প্রেমক যুগল নইতো আবর্জনার একটা স্তর জমে আছে। প্রশ্ন হল কেন সেখানে ময়লা জমবে? সারাবছর নোংরা হয়ে থাকবে আর দিনে ধুয়ে মুছে ফুল দিয়ে বিশ্ব কে দেখাবে যে,বাঙালিরা স্মরণ কিভাবে করে! কত বড় ভন্ড আমরা! আমরা আমাদের স্মৃতিকে করে ফেলেছি ক্ষণস্থায়ী! বিশেষ দিন ছাড়া কিছুই মনে করতে পারি না আর প্রাত্যহিক কাজে এগুলোর শিক্ষা কে কাজে পরিণত করব কি ভাবে! হুমায়ুন আজাদের একটি বাণী এক্ষেত্রে প্রনিধাণযোগ্য, "বাঙালিরা আন্দোলন করে, ব্যর্থ হয়, মাঝেমাঝে জয় লাভ করে কিন্তু পরে কেন জয় লাভ করেছে তা ভুলে যায় "। আমরা এখন জানতে পারি নাই শহীদুল্লা কায়সার কে? মুনীর চৌধুরি কে? আনোয়ার পাশা কে? জহির রায়হান কে? জোতির্মহ গুহ কে? ৪৫ বছর ধরে দিবস পালন করেও যদি এ প্রজন্ম বলতে পারে না তারা কে,? কি তাদের অবদান ছিল দেশ নির্মানে?তাহলে এত সব আয়োজনের দরকার কি! রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, আমরা জীবিতদের কবর দিই আর মৃতদের পুজা করি! ১৬ টি মোমবাতি অথবা ১৪ টি বন্দুকের আওয়াজ দিয়ে কখনও বুদ্ধি জীবী ও বিজয় দিবসের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায় না! অথবা ফুলের ডালা দিয়ে পাশে ঐ সুটেডবুটেডের তিন বা চারবার লাথি মেরে মেদেনী কে কাঁপিয়েও তাদের (শহিদের) আশার প্রতিফলন হয় না! অথচ ঐ ইতিহাস গুলো জানলে কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে চোখে অশ্রু ধরে রাখার কথা নয়! এই প্রজন্ম কি দিবস পালন করতে গিয়ে এ কথা ভাবে যে, আর কোন কালজয়ী কবর নাটোক সৃষ্টি হবে না! লিখবে না আর কেউ আরেক ফালগুন! লিখবে না আর কেউ রাইফেল রোটি আওরাত! গুনীজনরা বলেন, কোন দেশ কে ধ্বংশ করতে হলে সে দেশের বুদ্ধিজীবীদের বিনাশ করতে হয় আগে। নেকড়েরা আমাদের দেশকে শেষ বারের মত কামড় দিয়ে যে বিষ ত্যাগ করে গেছে তা কখনো পুরনীয় নয়! তাদের বিষাক্ত ছোবলে যে সমস্ত গুনীজনরা আমরা হারিয়েছি তাদের অবদানের কথা কি জানি? কি অমানবিক নির্যাতন এর শিকার হয়ে ছিলেন তারা! বুকের কলিজাটা কত বড় হলে দেশের জন্য হাসিমুখে জীবনটা ত্যাগ করা যায়! তাই কোন সস্তা শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে না আসুন সত্যিকারের দেশ প্রেম নিয়ে শহিদের অসমাপ্ত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি! গায়ে মশা বা মাছি পড়লে আপনাআপনি যেমন হাত চলে যায় মশার দিকে, তেমনি আমাদের সবার ভেতরে এমন দেশপ্রেম জাগ
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×