somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ব্লগ এবং আমার ব্লগের সকল লেখার ভূমিকাঃ

২৩ শে নভেম্বর, ২০১২ ভোর ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই বলে নিতে চাই, আমার এই ব্লগ এবং আমার ব্লগের লেখাগুলো সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মতামত। তাই সরাসরি বলতে চাই যে কেউ এগুলোকে কোন গুরুত্ব না দিলেই ভালো। কারন আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই। আর আমার ধারনাগুলি যে একেবারে স্বতঃসিদ্ধ এটা ও আমি মনে করি না। আজকে আমার যে ধারনা কাল তা পরিবর্তন হতে পারে। কারন আমি মনে করিনা যে সব কিছু জেনে ফেলেছি অথবা কোন বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত আমি জেনে ফেলেছি। আমি সব সময় নিজের মনকে উন্মুক্ত রেখেছি যুক্তি দিয়ে নতুন কিছু গ্রহন করার জন্য। তাই প্রতিনিয়ত জানতে চাই। বিশুদ্ধ হতে চাই।

যারা আমার লেখাগুলোর সঙ্গে একমত হবেন তাদের আমার শ্রদ্ধা এবং ভালোলাগা তো থাকবেই আবার যারা একমত হবেন না কিন্তু একমত না হবার পেছনে গ্রহণযোগ্য যুক্তি আছে তাদের মতামতের প্রতি ও আমার শ্রদ্ধা থাকবে এবং গ্রহণযোগ্য অন্য মতের তথ্য এবং ভিত্তি সম্পর্কে আমার উৎসুক্য থাকবে। অতএব যিনিই আমার বক্তব্যের অথবা উপস্থাপিত বিষয়ের সমালোচনা করতে চান তিনি যদি তথ্য এবং যুক্তির মাধ্যমে তার ভিন্ন মতামত তুলে ধরেন তাহলেই তার ভিন্ন মতামতটাকে আমি গুরুত্ব সহকারে নেব।
তবে আমার কোন লেখাই কাউকে অথবা কারো বিশ্বাসকে অসম্মান করার কোন উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা নয়। এরপরে ও কেউ যদি মনে করেন কোন লেখাতে কাউকে ছোট করা হয়েছে অথবা কারো বিশ্বাসকে হেয় করা হয়েছে তাহলে ধরে নেবেন সেটি একটি ‘ফালতু’ লেখা যাকে আপনার কোন গুরুত্ব না দিলে আপনার কিছুই আসে যায় না।

আমার লেখা মানুষ, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য আমার নিজস্ব চিন্তা থেকে উদ্ভূত তবে তা অনেক সময়ই উপদেশমুলক মনে হতে পারে। সেগুলোকে কেউ গুরুত্ব না দিলেই ভালো।

তবে মজার ব্যাপার হলো আমি যখন থেকে অনেক অনেক ভাবতে শুরু করে দিলাম মনে হয়েছিলো যে আমি বোধ হয় আমার চিন্তা চেতনা দিয়ে পৃথিবীটাকে পাল্টে দিতে পারবো, ধীরে ধীরে আমার চিন্তাগুলো আরো পূর্ণতা পেলো। ভাবতে শুরু করে দিলাম কি অসম্ভব এবং মানুষের জন্য কত সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমার মাথায় খেলা করছে। শুধু লিখতে শুরু করে দিলেই হলো। আস্তে আস্তে লিখা শুরু করলাম। বাংলাতে নয়, ইংরেজীতে, কারন আমি কখনই বাংলা লিখা (টাইপিং) শিখিনি। এরপর যা হলো, লিখতে লিখতে চিন্তাগুলো আরো বেশী ডালপালা গজিয়ে উঠলো। তবে খুব শীঘ্রিই বুজে ফেললাম যে আমাকে ইংরেজীতে লিখলে হবে না। লেখা অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। অনেক বেশী মানুষের সেটা পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। একদিকে বেড়ে গেলো লেখার পরিধি অথচ অন্যদিকে লেখার গতি হয়ে গেলো শামুকের গতির মত। এক পাতা লিখতে আমাকে ব্যয় করতে হয় পুরো একদিন।

এরপর অন্য এমন এক চিন্তা এসে এক সময় আমার লেখার চিন্তাই মাথা থেকে চলে গেলো। হঠাৎ একদিন মাথায় এলো যে, আরে! আমি যে বিষয় নিয়েই ভাবছি এবং যা লিখতে চাই, তা এর আগেই অনেক মহা জ্ঞানী ব্যক্তিরা লিখে গেছেন। তাহলে, মানে কি? কোন মানে আছে আমার আর এসব নিয়ে নিয়ে চিন্তা করার? নিজের কাছে নিজের চিন্তাগুলো হাস্যকরই মনে হলো। ব্যস, বেশ অনেক অনেক দিনই চিন্তাগুলোকে আর পাত্তা দেইনি। ওরা মাথায় এসেছিলো কিন্তু আমি পাত্তা দেইনি মোটেও।

তারপর, অনেক অনেক দিন পর আমার মাথায় আবার উলটো চিন্তা ভর করলো। আরে! কেউ লিখে গেছে তো কি হয়েছে, আমার চিন্তা গুলো আমার অবশ্যই লিখে ফেলা উচিত, অন্তত নিজের ডাইরী লেখার মতো আর এতে একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে উঠবে অন্তত যে আমি কে। আমার লেখাই তো হবে আমার পরিচয়।
তার মানে আমার লেখার আসল মানে হলো, আমি চাইছি আমি কে, কি আমার চিন্তা এসব লিপিবদ্ধ করা। আমি লিখবো আমার চাওয়ার কথা। মানুষ, মানব শিশু, নারী, পরিবার, শিক্ষা, সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র নিয়ে আমার চিন্তার কথা। যেভাবে আমি মানুষকে দেখতে চাই। যেভাবে আমি আমার সমাজ এবং আমার রাষ্ট্রকে দেখতে চাই। যেভাবে এই পৃথিবীটাকে দেখতে চাই।

আমি কোন লেখক নই। আগে ডাইরী লিখতাম অন্য কেউ সেটা জানতে পারতো না। আর আজ একই ডাইরী আমি লিখছি অথচ পুরো বিশ্বকে তা জানাতে পারছি। কি এক অসীম সুযোগ ভাবতেই অবাক এবং আহ্লাদ লাগছে। উপরন্তু আমার কোন বিষয়ের চিন্তা বা ধারনার প্রেক্ষিতে কোন চিন্তাশীল কারো মন্তব্যও জানতে পারবো। বিষয়টি আরও মজার।

আরেকটি কথা। অনেকের অনেক মতামত বা মন্তব্যের উত্তর হয়তো দিতে পারবো না শুধুমাত্র সময়ের অভাবের কারনে সেজন্য আগে থেকে বিষয়টি সহজ ভাবে নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি তবে এটুকু জানবেন যারা আমার মতের সঙ্গে কিছুমাত্র নিজেদের মতামতের মিল পাবেন এবং যদি সেটা আমাকে মন্তব্যের মাধ্যমে জানান তাহলে সময় পেলেই হয়তো আপনার ব্লগে ঘুরে আসবো। ধন্যবাদ আপনাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×