প্রথমেই বলে নিতে চাই, আমার এই ব্লগ এবং আমার ব্লগের লেখাগুলো সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মতামত। তাই সরাসরি বলতে চাই যে কেউ এগুলোকে কোন গুরুত্ব না দিলেই ভালো। কারন আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই। আর আমার ধারনাগুলি যে একেবারে স্বতঃসিদ্ধ এটা ও আমি মনে করি না। আজকে আমার যে ধারনা কাল তা পরিবর্তন হতে পারে। কারন আমি মনে করিনা যে সব কিছু জেনে ফেলেছি অথবা কোন বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত আমি জেনে ফেলেছি। আমি সব সময় নিজের মনকে উন্মুক্ত রেখেছি যুক্তি দিয়ে নতুন কিছু গ্রহন করার জন্য। তাই প্রতিনিয়ত জানতে চাই। বিশুদ্ধ হতে চাই।
যারা আমার লেখাগুলোর সঙ্গে একমত হবেন তাদের আমার শ্রদ্ধা এবং ভালোলাগা তো থাকবেই আবার যারা একমত হবেন না কিন্তু একমত না হবার পেছনে গ্রহণযোগ্য যুক্তি আছে তাদের মতামতের প্রতি ও আমার শ্রদ্ধা থাকবে এবং গ্রহণযোগ্য অন্য মতের তথ্য এবং ভিত্তি সম্পর্কে আমার উৎসুক্য থাকবে। অতএব যিনিই আমার বক্তব্যের অথবা উপস্থাপিত বিষয়ের সমালোচনা করতে চান তিনি যদি তথ্য এবং যুক্তির মাধ্যমে তার ভিন্ন মতামত তুলে ধরেন তাহলেই তার ভিন্ন মতামতটাকে আমি গুরুত্ব সহকারে নেব।
তবে আমার কোন লেখাই কাউকে অথবা কারো বিশ্বাসকে অসম্মান করার কোন উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা নয়। এরপরে ও কেউ যদি মনে করেন কোন লেখাতে কাউকে ছোট করা হয়েছে অথবা কারো বিশ্বাসকে হেয় করা হয়েছে তাহলে ধরে নেবেন সেটি একটি ‘ফালতু’ লেখা যাকে আপনার কোন গুরুত্ব না দিলে আপনার কিছুই আসে যায় না।
আমার লেখা মানুষ, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিবর্তনের জন্য আমার নিজস্ব চিন্তা থেকে উদ্ভূত তবে তা অনেক সময়ই উপদেশমুলক মনে হতে পারে। সেগুলোকে কেউ গুরুত্ব না দিলেই ভালো।
তবে মজার ব্যাপার হলো আমি যখন থেকে অনেক অনেক ভাবতে শুরু করে দিলাম মনে হয়েছিলো যে আমি বোধ হয় আমার চিন্তা চেতনা দিয়ে পৃথিবীটাকে পাল্টে দিতে পারবো, ধীরে ধীরে আমার চিন্তাগুলো আরো পূর্ণতা পেলো। ভাবতে শুরু করে দিলাম কি অসম্ভব এবং মানুষের জন্য কত সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমার মাথায় খেলা করছে। শুধু লিখতে শুরু করে দিলেই হলো। আস্তে আস্তে লিখা শুরু করলাম। বাংলাতে নয়, ইংরেজীতে, কারন আমি কখনই বাংলা লিখা (টাইপিং) শিখিনি। এরপর যা হলো, লিখতে লিখতে চিন্তাগুলো আরো বেশী ডালপালা গজিয়ে উঠলো। তবে খুব শীঘ্রিই বুজে ফেললাম যে আমাকে ইংরেজীতে লিখলে হবে না। লেখা অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। অনেক বেশী মানুষের সেটা পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। একদিকে বেড়ে গেলো লেখার পরিধি অথচ অন্যদিকে লেখার গতি হয়ে গেলো শামুকের গতির মত। এক পাতা লিখতে আমাকে ব্যয় করতে হয় পুরো একদিন।
এরপর অন্য এমন এক চিন্তা এসে এক সময় আমার লেখার চিন্তাই মাথা থেকে চলে গেলো। হঠাৎ একদিন মাথায় এলো যে, আরে! আমি যে বিষয় নিয়েই ভাবছি এবং যা লিখতে চাই, তা এর আগেই অনেক মহা জ্ঞানী ব্যক্তিরা লিখে গেছেন। তাহলে, মানে কি? কোন মানে আছে আমার আর এসব নিয়ে নিয়ে চিন্তা করার? নিজের কাছে নিজের চিন্তাগুলো হাস্যকরই মনে হলো। ব্যস, বেশ অনেক অনেক দিনই চিন্তাগুলোকে আর পাত্তা দেইনি। ওরা মাথায় এসেছিলো কিন্তু আমি পাত্তা দেইনি মোটেও।
তারপর, অনেক অনেক দিন পর আমার মাথায় আবার উলটো চিন্তা ভর করলো। আরে! কেউ লিখে গেছে তো কি হয়েছে, আমার চিন্তা গুলো আমার অবশ্যই লিখে ফেলা উচিত, অন্তত নিজের ডাইরী লেখার মতো আর এতে একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে উঠবে অন্তত যে আমি কে। আমার লেখাই তো হবে আমার পরিচয়।
তার মানে আমার লেখার আসল মানে হলো, আমি চাইছি আমি কে, কি আমার চিন্তা এসব লিপিবদ্ধ করা। আমি লিখবো আমার চাওয়ার কথা। মানুষ, মানব শিশু, নারী, পরিবার, শিক্ষা, সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র নিয়ে আমার চিন্তার কথা। যেভাবে আমি মানুষকে দেখতে চাই। যেভাবে আমি আমার সমাজ এবং আমার রাষ্ট্রকে দেখতে চাই। যেভাবে এই পৃথিবীটাকে দেখতে চাই।
আমি কোন লেখক নই। আগে ডাইরী লিখতাম অন্য কেউ সেটা জানতে পারতো না। আর আজ একই ডাইরী আমি লিখছি অথচ পুরো বিশ্বকে তা জানাতে পারছি। কি এক অসীম সুযোগ ভাবতেই অবাক এবং আহ্লাদ লাগছে। উপরন্তু আমার কোন বিষয়ের চিন্তা বা ধারনার প্রেক্ষিতে কোন চিন্তাশীল কারো মন্তব্যও জানতে পারবো। বিষয়টি আরও মজার।
আরেকটি কথা। অনেকের অনেক মতামত বা মন্তব্যের উত্তর হয়তো দিতে পারবো না শুধুমাত্র সময়ের অভাবের কারনে সেজন্য আগে থেকে বিষয়টি সহজ ভাবে নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি তবে এটুকু জানবেন যারা আমার মতের সঙ্গে কিছুমাত্র নিজেদের মতামতের মিল পাবেন এবং যদি সেটা আমাকে মন্তব্যের মাধ্যমে জানান তাহলে সময় পেলেই হয়তো আপনার ব্লগে ঘুরে আসবো। ধন্যবাদ আপনাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


