somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্যাজার চিঠি

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দাদা,
একবার সেই রথের মেলায় নিয়ে যাবে? লুকুমদানা (নকুলদানা) খাব। কতদিন যে খাইনা! উফফ্ খুউব খেতে ইচ্ছে করছে। সেই যে কবে- ছোটবেলায়, যতীন কাকুর ডালি থেকে একপাটা লুকুমদানা হাতে নিয়ে বলতে- কাকু, এটা ঠোঙ্গায় ভরে শ্যাজাকে দিয়ে দিও। দুআনার লুকুমদানা পেয়ে খুশীতে ডগমগ সেই আমি, বেণী দেলোতে দোলাতে এক দৌড়ে বাড়ী ফিরতাম।

শুনতে পেতাম যতীন কাকু পিছন থেকে বলছে, পাগলী মেয়ে! দাঁতে পোকা হবে সে ভয় নেই! লুকুমদানা, কদমা, প্যারা, বাতাসা, হাওয়াই মিঠাই সবই তার চাই। দাদাবাবু আমায় কত নিষেধ করে, বকা দেয়। দুষ্টু মেয়ে ওসব কথা কী কানে তোলে! আমি কাকুর দিকে তাকিয়ে কখনও চোখ পাকাতাম, কখনও খিলখিলিয়ে হাসতাম। বলতাম, ডালিতে ওসব সাজিয়ে রেখেছো কেন তবে! দেবে না মানে! পয়সা দিইনা বুঝি! যতীন কাকু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকাত। বিড় বিড় করে বলতো, না দিয়ে কী উপায় আছে! দাদাবাবু শুধু শধু আমাকে শাসায়! আদরের বোনকে কিচ্ছু বলবে না।

দেখতে দেখতে সেই আমি একদিন বড় হয়ে গেলাম। বিয়ে দিয়ে দিল দাদা তার এক পছন্দের ছেলের সাথে। দেশের বাড়ী এপাড়ে হলেও থাকে কোলকাতা। বিয়ের পর চলে এলাম ওপাড় ছেড়ে এপাড়ে। যতীন কাকু আজ হয়তো বেঁচে নেই। হারিয়ে গ্যাছে তার সেই লুকুমদানা। চিনির গাঁদে বাদাম দেয়া বরফি আর পাপড়ির মত কী যেন সব পাওয়া যায় লুকুমদানার মত। তবে স্বাদটা অন্যরকম। যতীন কাকুর সেই লুকুমদানা কোথাও খুঁজে পাই না।

সেই যে পঞ্চবটির মাঠ। ছড়ানো ছিটানো পাঁচটা বট গাছ ছিল মাঠ জুড়ে। তাইতো লোকে বলতো পঞ্চবটির মাঠ। সেই মাঠের একপাশে নদীর গা ঘেঁষে ছিল একটা শশ্মানঘাট। আজকাল ওটা নাকি ঈদগাহ্ মাঠ হয়ে গ্যাছে। সেখানে আর আগের মত রথের মেলা বসেনা। আলুপট্টির মোড়ে আজকাল আর ভাজেনা সেই কালিজিরা দেয়া মুচমুচে পাঁপড়। পদ্মার সেই বাঁধে শ্যাজা আর দৌড়ে আসেনা, যায়না যতীন কাকার খোঁজে। আজ আর শ্যাজার পিঠে সেই দোলানো বেণী নেই। শ্যাজার দাঁতে এখনও পোকা ধরেনি বটে, তবে আজকাল পান খায় সে ঠেসে, সখ করে। চিঠির পরে চিঠি লিখি প্রতি মাসে মাসে। অভিযোগ করে দাদা, তুমি আগের মত উত্তর দাওনা নিয়মিত।

দাদা, এবার দেশে ফিরলে আমায় কোন মেলায় নিয়ে যাবে? যতীন কাকুর সেই লুকুমদানা আজও আমার খেতে সাধ হয়। আর কী তা কোথাও যায়না পাওয়া, কোনখানেই? দেখবে খুঁজে? পেলে জানিও। স্বামী সংসার নিয়ে দিব্বি সুখে আছি। পাল্কীতে করে সব সুখতো সেই কবেই একজনের সাথে করে দিয়ে দিয়েছিলে। সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম তোমাদের ছেড়ে আসার কষ্ট, রক্তের বাঁধন ছিঁড়ে চলে যাবার কষ্ট। সব মিলিয়ে বুকে এক ধরণের হাহাকার নিয়ে চলে এসেছিলাম। এসব কষ্ট থিতু হতে অনেক সময় লেগেছিল। জীবনের প্রথম পাল্কীতে চড়ার অনুভূতি আজও একবিন্দু ভুলতে পারিনি। পাল্কীতে চড়ার স্মৃতি আমার জন্য মোটেও সুখকর কিছু নয়। সবরকম পিছুটান জলাঞ্জলী দিয়ে চলে এসেছিলাম তোমাদের ফেলে। কিন্তু কী আশ্চর্য তোমার সেই লুকুমদানা কিনে দেবার স্মৃতিটা কেন জানি ভুলতে পারিনা। বেঁচে আছি ওই স্মৃতিটুকু বুকে নিয়েই। ইতি।
-শ্যাজা
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১:২৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উথাল কিশোর

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

উথাল কিশোর নদীর বুকে
কাঁদার বাঁধে
মাছের ঘেরে জল সেচে যায়
ভরবেলাতে,
সে কী জানে বর্ষা এলে
ঢেউ এর জলে
উথাল পাথাল নদীর বুকে
চর ফেলাতে ।

উথাল কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিটিভির আর্কাইভে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখা

লিখেছেন অর্ক, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×