somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

ডিমের দাম বাড়ায় সরকারী এ্ট্রি ফি বেড়ে গেছে...

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৩ বিকাল ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সবটাই ধারনা প্রসূত। কিন্তু আমার চিন্তায় এটাই মনে হয়েছে:"ডিমের দাম বাড়ায় সরকারী এ্ট্রি ফি বেড়ে গেছে"। আর তো কারন দেখতে পাচ্ছি না।

ঘটনা হল, স্বস্ত্রীক ঘুরতে গেলাম বাগেরহাটের ষাটগুম্বুজ সমজিদ দেখতে। যাওয়ার সময় ভাঙ্গা থেকে চমৎকার রোড পেলাম পুরো সময়। যদিও গোপালগঞ্জ রোডে এসে বাস-ট্রাক ড্রাইভাররা ছোট যানবাহন কে থোরাই কেয়ার করে চালাচ্ছিল। মরতে মরতে বেঁচে গেছি রাস্তার পাশের ৩ ফুট করে যে কাচা অংশ, সেদিকে বাইক নামিয়ে দিয়ে। পরে নিজেকে নিজে বললাম, ব্যাটা কোন এলাকায় আসছোস বুঝতে হবে, যেভাবে দেশ চলে সেভাবেই গোপালগঞ্জে গাড়ি চলে...

যাই হোক বাগেরহাট পৌছে যাটগুম্বুজের টিকিট কাটলাম। বড় ব্যানারে লেখা দেখে বুঝলাম ২০ জুলাই ২০২৩ থেকে বর্ধিত হারে এট্রি ফি আদায় হচ্ছে। সে সময় ডিমের দাম ধুম করে মানে এক লাফে ৪২ থেকে ৪৮টাকা হয়েছে। প্রশাসনেরও তো ডিম খেতে হয়। তারা তো আর ডিম পাড়ে না। তাদেরও তো খরচা পাতি আছে। ধরেই নিলাম ঘটনা এটাই। প্রবেশ মূল্য বাড়ানো খুবই যুক্তি সংগত হয়েছে। আপনারা চাইলে সুংযুক্ত ছবিটি বড় করে দেখতে পারেন।



যাই হোক বাইক পার্কিং লেখা স্থলে পার্কিং করতে গেলে গার্ড ছুটে এলো। প্রথমে ভেবেছিলাম, টিকিট দিবে হয়ত। গার্ড এসে বলল, আজ এখানে পার্কিং হবে না। ২০০ হাত সামনে আমরা পার্কিং এর ব্যবস্থা করেছি। ওখানে রাখেন। বললাম, কেন? সরকারী সাইন বোর্ড তো এখানেই রাখার নির্দেশ দিচ্ছে। জানালো, আজ প্রশাসনের লোক আসছে। সিকিউরিটির ব্যাপার আছে।

ভাল কথা। আমি বাধ্য ছেলের মত ২০০হাত সামনে গেলাম। পেলাম একটা অস্থায়ী পাকা ঘর যেটা পার্কিং টিকিট ঘর আর সামনে কাদা পানিতে ভরপুর এক মাঠ। কেউ হয়ত আমার আগে বাইক ঢুকাতে গিয়ে পড়ে গেছে। টায়ার স্লিপ করে গড়াগড়ি করার মত চিহ্ন দেখলাম। যাইহোক টিকিট ২০ টাকা, ভ্যাট নিল ৩ টাকা। মোট ২৩ টাকা হবার কথা। নিল ২৫ টাকা। বললাম, চালান পত্র দেন। সরকার কে ভ্যাট দিছি তো। আমার ওপর সেই খ্যাপা খেপলো। বাইক রাখলে রাখেন, না হলে যান। আমি সরকারী স্লিপ নিয়ে বসছি, ভ্যাট একবারে জমা দিব। প্রত্যেককে দেবার চালানপত্র নাই। আমি বললাম, আপনি যে আমার ভ্যাট জমা দিবেন, আমি কি করে জানব। এমনকি টিকিটের কোথাও লেখা নাই যে ভ্যাট প্রোজেয্য।

তখন উনি দরজায় লাগান একটা প্রিন্টেড কাগজ দেখিয়ে বলল, দেখেন ভ্যাট আদায় হবে লেখা আছে। আমি ৩ টাকার জন্যে আর কিছু বললাম না। টিকিট মাস্টারের নাম ছিল মাসুদ।

টিকিটের গায়ে যা লেখা, সেটা দেখে নিজের গালে নিজে থাপ্পর মারতে ইচ্ছে করছিল। লেখা ছিল, হেলমেট এবং বাইক নিজ দায়ীত্বে রাখুন। হারনো গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। প্রথমে ভাবলাম, লক না করলেও চলবে। বাইক রেখে চলেই আসতেছিলাম। আবার ফিরে গিয়ে লক করলাম।

আমি এবং আমার স্ত্রী ষাটগুুম্বুজের চেকপোস্ট পার হতেই ২টি সরকারি জীপ ঢুকলো। ভিআইপি দের কোন টিকিট কাটতে হল না(টিকিট শুধু আমজনতার লাগে), গাড়ি পার্কিং করতে হল না। সরাসরি যাদুঘরের সামনে গিয়ে থামল। ৩ জন মহিলা, দুটি বাচ্চা এবং একজন ড্রাইভার। অন্যগাড়িতে দুজন পুরুষ লোক নামল। ১০ মিনিটের জন্যে আমরা যাদুঘরে ঢুকতে পারলাম না। রোদের ভেতরে অনেকেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলাম।

বাইরে থেকেই দেখতে পেলাম, সুন্দরি মহিলা ৩ জন যাদুঘরের ভেতরেই অনেক সেলফি তুলছে। অথচ বড় বড় করে বিভিন্ন জায়গায় লেখা যাদুঘরের ভেতরে কোন প্রকার ছবি বা ভিডিও তোলা নিষেধ। যাই হোক, আমরা সবাই তো জানি বাংলাদেশের আইন সবার জন্যে নয়। কি আর করা। হজম করে ফেললাম।



যাদুঘর দেখার পর গেলাম ষাটগুম্বুজ মসজিদে। খুবই তাজ্জব বনে গেছি আমি। পুরোটাই পাথর কেটেকেটে বানানো। একটার পর একটা পিলার দাড়িয়ে আছে। নিখুঁত ডিজাইন। বর্তমান সময়ের ব্যাঙের ছাতার মত যেমন তেমন ডিজাইন বা পরিকল্পনা বিহীন কোন স্থাপত্য নয়। সমজিদে ঢোকার পরপরই মন শান্ত হয়ে যায়, ইবাদতে বসে যেতে ইচ্ছে করে, বিশালত্যের ছোয়া সেখানে।

মসজিদের খাদেমের কাছে অনেক তথ্য পেলাম। একজন চাইনিজ স্ট্যুডেন্ট কে পেলাম। দুজন ফরেনার কে দেখলাম, সাথে গাইড ছিল। দুই হুজুর কে দেখলাম, ৬ টা জীবন্ত কালো তাবু আর ৩টা বাচ্চা কে নিয়ে পিকনিকের মত করে মসজিদ চত্ত্বরের একপাশে লাঞ্চ করতে বসেছে। তখন বেলা সাড়ে বারটা।

তারপর পুকুর ঘাট দেখে বেরিয়ে এলাম। টেনশন হচ্ছিল বাইকটা আদৌ আছে কি না...আলহামদুলিল্লাহ ঠিকঠাক ছিল। বাইক নিয়ে বের হয়ে ৯০টাকা করে ২টা ডাব খেলাম। ১ লিটারের বোতল ডাবের পানিতে ভরেও নিলাম।

বাইক চালাতে চালাতে ভাবছিলাম, চেষ্টা করলেই হয়ত বিসিএস ক্যাডার হতে পারতাম। মেধা কম ছিল না। মনে হয় ২০ বছর আগের সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। তখন বুঝিনি স্বাধীনভাবে নিজের মত করে বাঁচা বাংলাদেশে সম্ভব নয়।

ভাল থাকবেন সবাই...
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৩ বিকাল ৩:৪৪
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সুখ

লিখেছেন সামিয়া, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে সুমনের, জিপিএ ৫ পেয়েছে জানার পর পুরো দিনটিই বদলে গিয়েছে ওর আনন্দে।যেন পৃথিবীর সব খুশির দরজা একসঙ্গে খুলে গেছে ওর জীবনে।
ছেলেটা ওর বাবা মায়ের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল: আমার বৈষয়িক ভাবনা

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

এবার এসএসসিতে ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। ২২৬ মাদ্রাসায় একজনও পাশ করতে পারেনি। স্কুল মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি, শতভাগ ফেল!

এ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×