somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লায় চালায়...আল্লায় রাখে: ভূমিকম্পে দেশে তেমন হতাহত হবে না ইনশাল্লাহ

২৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ২০১০ এর পরপর বলেছিলাম, সমূদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও বাংলাদেশ ডুবে যাবে না। এই সামুতেই আমি পোস্ট দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, কারন সাগরের পানির উচ্চতা বাড়লে উজান থেকে নেমে আসা শতাধিক নদীর পানি স্থির বা গতিহীন হয়ে পড়বে। পলি জমতে জমতে উঁচু হতে থাকবে। যা অন্য নদী বিহীন দেশে সম্ভব না। আমার এই লজিক প্রকাশের কয়েক বছর পর সেটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমান হয়েছে। মজার কথা হল, বাংলাদেশ এখন সমূদ্রের পানিতে না ডুবলেও বন্যার পানিতে যখন তখন ডুবে যায়।

বঙ্গোপসাগরে এখন নতুন নতুন চর পড়ছে। আয়তন বাড়ছে, আরও বাড়বে। কোথাও কোথাও সাগর তীর ক্ষয়ে যাচ্ছে, সেটা বাঙ্গালীদের মূর্খতার কারনে। তবুও সেটা খুব একটা বেশি নয়। ১ লক্ষ্ ৪৪ হাজার বর্গ কিমি এখন বেড়ে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গকিমি হয়েছে। ভবীষ্যতে আরও বাড়বে।



যাই হোক এবার আমি বলছি, ভূমিকম্পের কথা। রিক্টার স্কেলের ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে বড় আকারের মৃত্যুর মিছিল দেখা যাবে না। ঢাকা শহরে মানুষ মরবে মূলত: বিশৃঙ্খলার কারনে, বিনা চিকিৎসায় এবং বিলম্ব উদ্ধার তৎপরতার কারনে। ভৌগলিক অবস্থানের কারনে আমাদের এদেশে ৮ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হবে না।


কিন্তু তেমন হতাহত হবে না: কেন বললাম বা লজিকটা কি যে ?

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা দেশে দুটি প্রধান ফাটলরেখা থাকার কথা বলে আসছিলেন। তা হলো ডাউকি ফাটলরেখা এবং ইন্দোবার্মা মেগাথ্রাস্ট (মেগাথ্রাস্ট হলো পৃথিবীর বড় প্লেটগুলো একে অপরের নিচে চাপ দেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া বড় ভূমিকম্প-সৃষ্ট ফল্ট বা চ্যুতি)। এর বাইরে সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় ফাটলরেখা, মধুপুর, শাহজিবাজার, জাফলং ও কুমিল্লা ফাটলরেখা রয়েছে। আর সবশেষে জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত ফল্ট।

ইতিহাস বলে, ঢাকা অঞ্চল এবং চট্রগ্রাম অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকশ্প হেয়েছে, যেখানে সবোর্চ্চ ২০০ জন মারা গিয়েছিল এবং রিক্টার স্কেলে ৮ এর নীচে ছিল। আগে মানুষ কম ছিল, সাথে বহুতল ভবনও কম ছিল। বর্তমানে বেশি জনসংখ্যা, সেই অনুপাতে বেশি মৃত্যু হতেই পারে। তবে আগের মত মাটির তৈরী ঘরবাড়ি এখন আর নেই, যে দেয়াল চাপা পড়ে মরবে।

ডাউকি ফাটলরেখা এবং ইন্দোবার্মা প্লেটের ভূমিকম্পের কারনে ঢাকার চেয়ে সিলেট বা চট্রগ্রামে বেশি ক্ষতি হবে। বহু ভবন ধসে পড়তে পারে। তবে আশার কথা হল, ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আফগানিস্তান, তুরষ্ক বা ইরাকে বা পাথুরে দেশ গুলোতে যতটা ক্ষতি করবে, পলি বেষ্টিত বাংলাদেশের মত ব-দ্বীপে তেমন একটা ক্ষতি করবে না। কারন অনেক শক্তি খেয়ে ফেলবে উপরি স্তরের নরম মাটি এবং শত শত নদী-নালা। তার উপর ফাটলগুলোতে শক্তি কতটা জমে আছে সেটাও একটা প্রশ্ন। আমরা তো গভীর অগভীর নলকূপ থেকে দেদারচে পানি উঠিয়ে ফেলেছি, প্রচুর গ্যাস ছিল, যার বড় অংশ উঠিয়ে ফেলেছি। ডাউকি প্লেটে ইন্ডিয়া বডার লাইন ধরে সিলেট থেকে পঞ্গড় পর্যন্ত ৩০০ ফুট পর্যন্ত নুড়ি পাথর উঠিয়ে ফেলেছি। আহা... ভাবতেই ভাল লাগে !!!

একটা ভাইব্রেশন শক্ত বস্তুর মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যতটা শক্তি না হারিয়ে প্রবাহিত হয়, নরম বস্তুর মাধ্যমে তা কম হয়। ধরুন স্টিল আর ফোম। একটা টেবিলের উপর একটা স্টিলের দন্ড আর একটা শক্ত ফোমের দন্ড দাড় করিয়ে টেস্ট করলে দেখবেন, ফোমে ভাইব্রেশন কম। কিন্তু পুরো টেবিল যখন নড়ছে তখন সেটাতেও কিছুটা কম থাকবেই। জাপান যেমন, তাদের হাইরিচ বিল্ডিংগুলো স্প্রিং এর উপর বসাচ্ছে শক এবজর্ব করার জন্যে। বাংলাদেশের জন্যে অনেকটা করবে মাটি নিজেই, অনন্ত ঢাকা-উত্তারঞ্চল-খুুলনাঞ্চল। কিন্তু সিলেট বা পার্বত্য অঞ্চলের জন্যে সেটা উল্টো হবে পাথুরে ভূ-প্রকৃতির জন্যে।



যেসব বিল্ডিঙের দেয়ালে বা টাইলসে ফাটল ধরেছে, তারা দুশ্চিন্তা করবেন না। যদি ফাটলটা বিম বা কলামে ১ ইঞ্চির বেশি হয়, ইন্জিনিয়ার দিয়ে দেখিয়ে নেবেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রিপায়ার বা রিবাইন্ড করে নিতে পারবেন। বিল্ডিঙের বয়স ৪০ বছর পার হলে, আল্লাহু আকবার। কারন, সিমেন্টের একটা লাইফ টাইম আছে।

টিভি চ্যানেলগুলা একটু বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কারন ওটাই ওদের কাজ। সত্য ধামাচাপা দেয়া, মিথ্যা কে সত্য বলে চালিয়ে দেয়া ইত্যাদি। দেখবেন ভূমিকম্পে যদি ১০০০ মানুষ মারা যায়, বলবে ১০ হাজার বা উল্টো টা। মনে রাখবেন, গ্রাউন্ড ফ্লোরে আপনি যতটা দুলুনি অনুভব করবেন, ১০ তলার ফ্লাটে তার চেয়ে ১০গুন বেশি দুলুনি অনুভব করবেন। চলন্ত অবস্থায় তো কিছু বুঝবেনই না। বিল্ডিং কোড ভেঙ্গে ৭ তলা বাসা যারা ১০ তলা করেছেন, তারা প্রেশারের ওষূধ পকেটে রাখবেন। আর যারা ভাড়াটিয়া , তারাও।

সিলেট অঞ্চলে বহু আগে এত হাওড় বাওড় ছিল না। আবার এমনও হতে পারে, ভবিষ্যতে আরও অনেক হাওড় তৈরী হবে। এদিকে মধ্য অঞ্চলে নদীর বেড উঁচু হয়ে যেতে পারে। জমি ডেবে বিল হয়ে যেতে পারে এক রাতেই। বর্তমানে ঢাকা এবং চট্রগ্রাম প্লেটে প্রচন্ড চাপ। ঢাকা শহর পুরোটা কয়েকফুট ডেবে গেলে আমি বিষ্মিত হব না। বগুড়ার মহাস্থান গড় যেমন ৩ ফুট ডেবে গেছে, কিন্তু পাশেই বয়ে চলা করোতোয়া নদীর বেড অনেক উচু হয়ে গেছে। সেখানে নদী এখন আবাদী জমি। এ ঘটনা প্রাকৃতিক কিন্তু ধীর গতির। তাই্ আমরা খালি চোখে বুঝি না।

যাই হোক, সবাই ভাল থাকবেন। মা-বাবা আত্মীয় স্বজনের সাথে অন্যায় করলে মাফ চেয়ে নেবেন। এমনও হতে পারে, শেষ ফোন কলটি করার সুযোগ আর পেলেন না। কার জীবন উপন্যাসের গল্প কোথায় কিভাবে সমাপ্তি হবে, সৃষ্টিকর্তাই ভাল জানেন। প্রতি ১১০-১৫০ বছরের মধ্যে বঙ্গীয় অঞ্চলে একটা বড় ভুমিকম্প হয়, কেন যেন মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই আমরা সেটার মুখোমুখি হবো। সেটা হয়ত রিক্টার স্কেলে ৮ চেয়ে বেশি হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গণজাগরণের ১৩ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত বাংলাদেশ ‼️ প্রজন্মের ভুল পথে চলা .....!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৫


গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা খুবই অকল্পনীয় ছিল/ ব্লগারদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিচার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংকটের কারণেই ছিলো এই জাগরণ।আমারও সৌভাগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×