somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মূর্খ এবং বাটপাররা পরিকল্পনা পর্ষদে ছিল/আছে সরকারী উদ্দ্যেগ দেখলেই বোঝা যায়...

০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঢাকার সড়কে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস নামানোর পরিকল্পনা : কোন আহাম্মক এই পরিকল্পনা করল বা কেন গ্রান্টেড হল আমার মাথায় আসে না। এরা কি সিঙ্গাপুর বা বেইজিং এ বসে পরিকল্পনা করে নাকি দেশের টাকা মেরে দেবার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরী করে?


যে ঢাকা শহরে ঠিক মত দোতলা বাস চলে না, যে শহরে ট্রাফিক সিগনাল ঠিক মত চলে না, যে শহর ৪মিলি বৃষ্টিতে কমড় পানিতে ডুবে যায়, যে শহরে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা যায় না, যে শহরে দেশের অন্যপ্রান্তে লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ চাহিদা ব্যালেন্স করা লাগে, যে শহরে বিদ্যুৎ নিশ্চিত না করতে পেরে গার্মেন্টস বা ডাইং ইন্ডাস্ট্রিগুলো লসে পড়ে, যে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য অপারেশন রুমে রুগি মারা যায়, যে শহরে ব্যাটারী রিক্সা / অটো চুরি করে গ্যারেজে চার্জ দেয়, যে শহরে প্রায় সাড়ে ৩০০ বস্তিতে অবৈধ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ পায়, যে শহরে কোন বিদ্যুৎ রিচার্জের ডিপো নেই , সেই শহরে কি করে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস নামানোর অনুমোদন পায়।

সারা দেশে বিআরটিসি ডিপোতে প্রায় ১৩০০ বাস অচল হয়ে পরে আছে। সেগুলো কি কাজে লাগানো যায় না? আদানীর কাছে এখনও দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হয়, সেখানে কেন এই বড়লোকি আয়োজন।

১৯৭৪ এর যখন দেশে দুর্ভীক্ষ চলছিল, আর মুজিব পরিবার বিশাল আলীশান বিয়ের আয়োজন করেছিল, একইভাবে বৈদ্যুতিক বাস নামানো দেশের এই ক্রান্তিকালে এক বিশাল বাড়াবাড়ি?

যে দেশে প্রতি ১০ কিমি রাস্তায় ৩০টার বেশি স্পিডব্রেকার থাকে, ২০ মিনিটের জায়গায় ২ ঘন্টা লাগে ট্রাফিক জামের কারনে, যে দেশে টিকিটের দাম ২ টাকা বাড়ানোয় বাস কন্ডাক্টরের হাতে যাত্রী নিহত হয়, সে দেশে কেন পান্তা খেয়ে হাতির পিঠে চড়ে হাগতে যাওয়ার পরিকল্পনা?

আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি সরকারের এই সময় ও অবস্থার বাস্তবতায় অযাচিত - অবান্তর পরিকল্পনার জন্যে। একই সাথে অনুরোধ রইল. ১৩০০ অচল বাসের রক্ষনাবেক্ষনের জন্যে। বাংলাদেশ বলতে শুধু ঢাকা জেলা নয়, সারা দেশের কথা সরকারের ভাবা দরকার। নয়ত সারা দেশ থেকে ঢাকায় মানুষ ভীড় বাড়াতে থাকবে। ঢাকা কেন্দ্রিক ব্যয়বহুল পরিকল্পনা হলে, দেশের মানুষ মনস্তাত্ত্বিক হতাশায় পড়বে। রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলেও আমি মনে করি না যে, বৈদ্যুতিক বাস চালুর উপযোগিতা থাকবে।

কার্বন নি:সরন কমানো অঙ্গীকার যদি থাকে তবে অন্য ভাবেও সেটা করা সম্ভব। যেমন প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধ করা, থ্রি হইলার বন্ধ করা, গন পরিবহন বাড়ানো, সরকারী অফিসে এসি ব্যবহার বন্ধ করা, তীব্র গরমেও সরকারী আমলারা কোট টাই পড়ে এসি ছেড়ে রাখেন কোন দু:খে জানি না। এসবের পাশে কাঠ পোড়ানো বন্ধ করতে বেশি করে এলপিজি গ্যাস আমদানি বা নতুন গ্যাস ক্ষেত্র খোজা, ইট ভাটায় কয়লার পরিবর্তে ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করা।

ব্যাটারী চালিত যে কোন ইন্জিন জীবাস্য জ্বালানীর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। প্রথমত, ব্যাটারী থেকে সালফার, সিসা বা এসিড পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিআরটিসির কি নিজস্ব ব্যাটারী ডাম্পিং / রিসাইক্লিনিং স্টেশন আছে? নেই।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসে কয়লা বা জীবশ্ম জ্বালানী পুড়িয়ে। সেই এসি বিদ্যুৎ থেকে ডিসি তে কনভার্ট করে ব্যাটারী রিচার্জ করতে প্রচুর সিস্টেম লস হয়। অর্থাৎ কার্বন বেশি নি:সরন হবে, মানে পরিবেশের আরও বেশী ক্ষতি হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নাকি বিদ্যুৎ বিভাগের ছাদের সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম থেকে আনবে পরিক্লপনা রয়েছে। যেটা বাস্তবায়ন হয়নি, হবে নিকট ভবিষ্যতে সেটার ভিত্তিতে ৪০০ বাস কেনা শেষ... রাস্তায় ছাড়া বাকি। কুত্তায় কামড়ায়ছে হালাগো...

চীন প্রায় ১৫০টার মত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে, যেখান থেকে ৩৬৯ gigawatts বিদ্যুৎ আসে, সোলার প্যানেল থেকে 1,100 Gigawatts (GW) বিদ্যুৎ আসে, ওদের সব কিছু বৈদ্যুতিক করা সাজে। আমাদের তার ধারে কাছেও সামর্থ্য নেই। আমরা কেন হুজুগে লাফাবো?


পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে অঙ্গীকার করেছে, সেটা কেউ চাপিয়ে দেয়নি। যদি এটা বাস্তবায়ন করা না যায়, সেটা হবে লজ্জার।

বাংলাদেশ এমন অঙ্গীকার কেন করবে যেটা তার সামর্থের বাইরে? দেশের মানুুষের উপর এসব আজাইরা খরচ চাপানোর মানে কি? কর্ণফুলী টানেল কি খুব একটা কাজে এসেছে? মাঝখান থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা নাই... সাথে ঋণ তো আছেই।

এরপর পায়রা গভীর সমূদ্র বন্দর বানালো, যেটা পুরোটাই একটা লস প্রজেক্ট। সেখানেও ৫০০০ কোটি টাকা লস। পরিবেশ প্রতিবেশ ভৌগলিক অবস্থা দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ, উপযোগিতা বহুমাত্রিক জিনিসের উপর নির্ভর করে... সেসব ভাবার কি কেউ নেই?

ঢাকার সড়কে ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস নামানোর পরিকল্পনা

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×