somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসা চোখের জল।।

২০ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাহেদ ঝিম ধরে বসে আছে। এই ঝিম ধরে বসে থাকার কারণ তিসা। কারণ তিসার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তিসা আর সাহেদ ছোট বেলা থেকে এক সাথে বড় হয়েছে। তিসা সাহেদের চাচাত বোন। তারা দুজনে একসাথেই পড়ত তবে আলাদা স্কুলে। তিসা পড়ত একটি বালিকা স্কুলে আর সাহেদ বালক স্কুলে। কিন্তু যাওয়া আসার সময় যেন কেউ কাউকে ছড়া যেতেই পারত না। কখনো যদি সাহেদের আগে ছুটি হয়ে যেত তবে সাহেদ তিসার জন্য অপেক্ষা করত আর যদি তিসার আগে ছুটি হত তবে তিসা অপেক্ষা করত, তবে যেদিন তিসা অপেক্ষা করত সেদিন সাহেদ আসার পর সে অনে রাগ দেখাত, কখনো বা কান্নাকাটি করত। যেদিন স্কুল বন্ধ সেদিন সাহেদ তিসার বাসায় গিয়ে দেখা করত। তাদের এই বন্ধুত্বের কথা কারো অজানা নয়। একদিন সাহেদের মা সাহেদকে বললেন, কি রে তিসা কে না দেখে কি তোর ঘুম আসেনা? ওর যখন বিয়ে হবে তখন কি করবি? ওর সাথে চলে যাবি নাকি?
কিছু না বুঝেই সাহেদ বলেছি্‌ ওকে যেতে দিলে তো যাবে।
তাদের সম্পর্ক শুধু মাত্র বন্ধুত্বের ছিল। এর চেয়ে বেশি কিছু কেউ কোন দিন বলতে পারেনি। তবে সাহেদ জানত তিসা তাকে ভালবাসে আর সাহেদ তো তিসাকে ভীশন ভালবাসে। তাদের এই না বলা ভালবাসাটার ইতি হতে চলেছে।
সাহেদের ফোন বাজছে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখল তিসার মা ফোন করেছেন। ফোন রিসিভ করতেই অপাশ থেকে বাজখাই কণ্ঠে, কিরে ফোন ধরছিস না কেন? তুই হারামি হয়ে গেছিস। জানিস শুক্রবারে তিসার বিয়ে অথচ একটিবারও খবর নিতে এলিনা। তোর চাচা কি সব একা একা সামলাতে পারবেন?
সাহেদ কিছু বলতে পারছেনা। ভালবাসা বড়ই পাষাণ শুধু নীরবে কাদায়। যারা ভালবাসাকে মূল্য দেয়না তারা হয়ত পৃথীবির সব চেয়ে সুখী লোক।
কি কথা বছিস না কেন? এখন চুপচাপ থাকার সময় না। চটজলদি একটু বাসায় আয় তিসা শপিং এ যাবে। বিয়ের আগে মেয়েকে একা ছাড়া ঠিক হবেনা।
সাহেদ ফোন রেখে দিল। সে কিভাবে গিয়ে তিসার সামনে দাঁড়াবে বুঝতে পারছেনা। যদি সে উলট পালট কিছু করে তবে তিসারও খারাপ লাগবে। অথচ তিসাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষটা তার নিজেরই কারণ সময় থাকতে সে বলতে পারেনি। ভালবাসা অলস মানুষকে পাত্তা দেয়না, ভালবাসা শুধু মাত্র সবলদের জন্য।
দুপুরের দিকে সাহেদ তিসার বাসায় উপস্থিত হল, তিসাকে খুব একটা খুশি খুশি লাগছেনা। তবে কেন লাগছেনা তা সাহেদ বুঝতে পারছেনা।
তিসা আজ একটি নীল শাড়ি পরে বেরিয়েছে। নীল শাড়িতে তিসাকে খুব ভাল লাগে আজো খুব ভাল লাগছে। গাড়িতে বসে তাদের কোন কথা হলনা। সাহেদ কথা বলার চেষ্টা করেছে কিন্তু তিসার মুড অফ থাকার কারণে কিছু বলেনি।
দোকানে গিয়ে তিসা কয়েকটা শাড়ি কিনল। অন্যান্য দিন কিছু কিনতে গেলে এটা না ওটা এসব করে কিন্তু আজ কিছু করল না। দোকানদার যা দেখিয়েছে তা পছন্দ করেছে। কেনা কাটা শেষে তিসা বলল, কিছু খাবে?
সাহেদ বলল, খাওয়া যেতে পারে।
তিসা সাহেদের সামনে চুপচাপ বসে আছে। তিসার মুখে যেন কাল বৈশাখী ঝড় নেমে এসেছে। তিসার এ অবস্থা দেখে সাহেদ কি করবে বুঝতে পারছেনা।
হঠাত কিরে তিসা ফুপিয়ে কেদে উঠল। তিসার কান্নার আওয়াজে চারপাশ যেন ভারি হয়ে উঠেছে। সাহেদ কি করবে বুঝতে পারছেনা। কান্না থামিয়ে তিসা রাগি কণ্ঠে বলল, তুই জানিস না তোকে আমি ভালবাসি। আমি তো ভেবেছিলাম তুই আমার বিয়ে খবর শুনে অন্তত একটা কিছু করবি কিন্তু তোর মাঝে আমি কোন পরিবর্তনই দেখিনি। তুই বরং খুশি হয়েছিস, আপদ বিদেয় হল।
সাহেদ কিছু বলতে পারছেনা। নিজেকে খুব অপরাধি মনে হচ্ছে।
তিসা বলল, এই কিছু বলবিনা? বলবি কিভাবে তোর তো কিছু বলার নাই। তুই থাক আমি চললাম।
তিসা ঝড়ের মত বেরিয়ে গেল। সাহেদ জায়গায় বসে রইল। হঠাত করে টুপ করে এক ফোটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল।

(বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে)
লেখকঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান,
এম সি কলেজ, সিলেট।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×