somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইমু ও একটি বিয়ের শাড়ি।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিং বাজতেই আমি ফোন ধরলাম। ওপাশ থকে সাজেদা খাল, , , , , ,
ইমু সর্বনাশ হয়ে গেছে।
সর্বনাশ হওয়ার মত এমন কি কাজ তুমি করেছ?
ইমু তুই কথা পাকাবি না , আমি যা বলছি তুই মন দিয়ে শুন।
জ্বি আচ্ছা।
আমার ভাগ্নি মাইশাকে তো তুই চিনিস?
চিনি।
মেয়েটা আজ সকালে কি করেছ জানিস?
আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি এমন ভঙ্গিতে বললাম, কি করেছে খালা, চট জলদি বল তো।
ইমু তুই রসিকতা করছিস?
খালা তুমি কি বল? রসিকতা করব কেন?
তুই তো জানিস আমার কোন মেয়ে নাই । আমি মাইশাকে আমার মেয়ের মতো দেখি।
হ্যা জানি।
মেয়েটা যা করেছে তা বলতে আমার খুব লজ্জা লাগছে। তবু তোকে বলতে হবে। তুই আমার শেষ ভরসা।
খালা জলদি বল কি করেছে, আমি ধৈর্য ধরে রাখতে পারছিনা।
মেয়েটা তার বাবার বয়সি একটা বজ্জাতকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আমি বললাম, কি বল খালা।
শুধু তাই না। কড়াকড়ি ভাবে বলে দিয়েছে ওই বজ্জাত ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবেনা।
এতই যখন চাচ্ছে তাহলে বিয়ে দিয়ে দাও।
কি বলিস ইমু? একটা বুড়ো বজ্জাতের হাতে তুলে দিব আমার পরির মতো ভাগ্নিকে।
তুমি তুলে দিতে যাবে কেন? সে তো নিজেই চলে যাচ্ছে। আর তাড়াছা মহিলারা বুড়ো হলেও পুরুষরা কখনো বুড়ো হয়না। তারা চির কিশোর।
তোকে বক বক করতে বলিনি চুপ থাক।
আচ্ছা চুপ।
ইমুরে আমার প্রেসার উঠছে আর নামছে। তুই আমার বাসায় আয়। তুই না এলে শান্তি পাইনা।
সাজেদা খালার এ অস্থিরতা নতুন কিছুনা। তিনি প্রায়ই এমন করেন।

আমি বিকালের দিকে খালার বাসায় উপস্থিত হলাম। খালা সোফায় বসে ঘাড়ে গরম পানির শেক দিচ্ছেন। আমাকে দেখে তিনি খুব খুশি হয়েছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন, ইমু তুই এসেছিস? তোর হাতে এটা কিসের ব্যাগ?
বিয়ের শাড়ি?
কার?
আমার আর মাইশার।
খালা একটি অকৃত্রিম হাসি দিয়ে বললেন, কি বলিস ইমু তুই মাইশাকে বিয়ে করবি? এটা আগে বললে কি হত? আমাকে কি আর শুধু টেনশন করতে হত।
খালা তোমাকে কোন টেনশন করতে হবেনা। এখন বল আমার হবু বউ কোন রুমে আছে?
তার রুমে বসে আছে। বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে আটকিয়ে রেখেছি। তুই খুলে ঢুকে পড়িস।
মাইশা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে সাজছে। তার সাজের জিনিসগুলোও দেখতে খুব সুন্দর। সাজের জিনিস দেখতে সুন্দর না হলে সাজতে ভাল লাগেনা। তার সাজের জিনিসগুলোও সুন্দর আর সেজেছেও খুব সুন্দর করে। তাকে যে ঘরে আটকিয়ে রাখা হয়েছে এটা তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছেনা। মাইশা খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে। কোন কিছুতেই অস্থিরতা দেখায় না। যারা সব সময় অস্থির তাদেরকেই বিপাকে পড়তে হয়।
মাইশা এমনিতে দেখতে খুবই সুন্দর। আজ মেক আপ করার জন্য তাকে পরির মত লাগছে। আমাকে দেখে সে বলল, হাতে ওটা কিসের ব্যাগ?
বিয়ের শাড়ি।
কার?
তোর আর আমার। স্যারি বউকে তুই করে বলতে নেই। তোমার আর আমার।
মাইশা নরম গলায় বলল, ওহ আচ্ছা।
যেন আমার সাথে তার বিয়ে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।
আমি বললাম, চলো যাই।
কোথায়?
বিয়ে করতে।
বিয়ে করতে যেতে হবে কেন?
যেতে হবে কারণ বিয়ে আমারা কাজি অফিসে বিয়ে করব।
খালার সামনে দিয়ে মাইশাকে নিয়ে আমি বেরিয়ে আসলাম।
রেদোয়ান বাহিরে অপেক্ষা করছিল। শাড়িটা রেদোয়ানের কিনা। রেদোয়ান হল মাইশার সেই বুড়ো বজ্জাত। কিন্তু আসলে সে মোটেও বুড়ো না। মাইশার চেয়ে মাত্র দু বছরে বড়। খালা রিদোয়ান কে পছন্দ করেনা না, কেন করেন না তা তিনি নিজেও জানেন না।
রেদোয়ানকে দেখে মাইশা নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলনা। শক্ত করে রেদোয়ানকে জড়িয়ে ধরল।
মাইশাকে রেদোয়ানকে মিলিয়ে দিয়ে আমি হাটতে শুরু করলাম, দুটি ভালোবাসাকে একত্রে মিলিয়ে দেওয়ার মতো আনন্দ পৃথিবীতে আর কিছুতে নেই। এই আনন্দ কেবল ইমুদের স্পর্শ করতে পারেনা। তারা কখনোই আনন্দে ভাগ বসায় না।

লেখকঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান।
এম সি কলেজ, প্রাণীবিদ্যা বিভাগ।
র বাজতেই আমি ফোন ধরলাম। ওপাশ থকে সাজেদা খাল, , , , , ,
ইমু সর্বনাশ হয়ে গেছে।
সর্বনাশ হওয়ার মত এমন কি কাজ তুমি করেছ?
ইমু তুই কথা পাকাবি না , আমি যা বলছি তুই মন দিয়ে শুন।
জ্বি আচ্ছা।
আমার ভাগ্নি মাইশাকে তো তুই চিনিস?
চিনি।
মেয়েটা আজ সকালে কি করেছ জানিস?
আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি এমন ভঙ্গিতে বললাম, কি করেছে খালা, চট জলদি বল তো।
ইমু তুই রসিকতা করছিস?
খালা তুমি কি বল? রসিকতা করব কেন?
তুই তো জানিস আমার কোন মেয়ে নাই । আমি মাইশাকে আমার মেয়ের মতো দেখি।
হ্যা জানি।
মেয়েটা যা করেছে তা বলতে আমার খুব লজ্জা লাগছে। তবু তোকে বলতে হবে। তুই আমার শেষ ভরসা।
খালা জলদি বল কি করেছে, আমি ধৈর্য ধরে রাখতে পারছিনা।
মেয়েটা তার বাবার বয়সি একটা বজ্জাতকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আমি বললাম, কি বল খালা।
শুধু তাই না। কড়াকড়ি ভাবে বলে দিয়েছে ওই বজ্জাত ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবেনা।
এতই যখন চাচ্ছে তাহলে বিয়ে দিয়ে দাও।
কি বলিস ইমু? একটা বুড়ো বজ্জাতের হাতে তুলে দিব আমার পরির মতো ভাগ্নিকে।
তুমি তুলে দিতে যাবে কেন? সে তো নিজেই চলে যাচ্ছে। আর তাড়াছা মহিলারা বুড়ো হলেও পুরুষরা কখনো বুড়ো হয়না। তারা চির কিশোর।
তোকে বক বক করতে বলিনি চুপ থাক।
আচ্ছা চুপ।
ইমুরে আমার প্রেসার উঠছে আর নামছে। তুই আমার বাসায় আয়। তুই না এলে শান্তি পাইনা।
সাজেদা খালার এ অস্থিরতা নতুন কিছুনা। তিনি প্রায়ই এমন করেন।

আমি বিকালের দিকে খালার বাসায় উপস্থিত হলাম। খালা সোফায় বসে ঘাড়ে গরম পানির শেক দিচ্ছেন। আমাকে দেখে তিনি খুব খুশি হয়েছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন, ইমু তুই এসেছিস? তোর হাতে এটা কিসের ব্যাগ?
বিয়ের শাড়ি?
কার?
আমার আর মাইশার।
খালা একটি অকৃত্রিম হাসি দিয়ে বললেন, কি বলিস ইমু তুই মাইশাকে বিয়ে করবি? এটা আগে বললে কি হত? আমাকে কি আর শুধু টেনশন করতে হত।
খালা তোমাকে কোন টেনশন করতে হবেনা। এখন বল আমার হবু বউ কোন রুমে আছে?
তার রুমে বসে আছে। বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে আটকিয়ে রেখেছি। তুই খুলে ঢুকে পড়িস।
মাইশা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে সাজছে। তার সাজের জিনিসগুলোও দেখতে খুব সুন্দর। সাজের জিনিস দেখতে সুন্দর না হলে সাজতে ভাল লাগেনা। তার সাজের জিনিসগুলোও সুন্দর আর সেজেছেও খুব সুন্দর করে। তাকে যে ঘরে আটকিয়ে রাখা হয়েছে এটা তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছেনা। মাইশা খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে। কোন কিছুতেই অস্থিরতা দেখায় না। যারা সব সময় অস্থির তাদেরকেই বিপাকে পড়তে হয়।
মাইশা এমনিতে দেখতে খুবই সুন্দর। আজ মেক আপ করার জন্য তাকে পরির মত লাগছে। আমাকে দেখে সে বলল, হাতে ওটা কিসের ব্যাগ?
বিয়ের শাড়ি।
কার?
তোর আর আমার। স্যারি বউকে তুই করে বলতে নেই। তোমার আর আমার।
মাইশা নরম গলায় বলল, ওহ আচ্ছা।
যেন আমার সাথে তার বিয়ে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।
আমি বললাম, চলো যাই।
কোথায়?
বিয়ে করতে।
বিয়ে করতে যেতে হবে কেন?
যেতে হবে কারণ বিয়ে আমারা কাজি অফিসে বিয়ে করব।
খালার সামনে দিয়ে মাইশাকে নিয়ে আমি বেরিয়ে আসলাম।
রেদোয়ান বাহিরে অপেক্ষা করছিল। শাড়িটা রেদোয়ানের কিনা। রেদোয়ান হল মাইশার সেই বুড়ো বজ্জাত। কিন্তু আসলে সে মোটেও বুড়ো না। মাইশার চেয়ে মাত্র দু বছরে বড়। খালা রিদোয়ান কে পছন্দ করেনা না, কেন করেন না তা তিনি নিজেও জানেন না।
রেদোয়ানকে দেখে মাইশা নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলনা। শক্ত করে রেদোয়ানকে জড়িয়ে ধরল।
মাইশাকে রেদোয়ানকে মিলিয়ে দিয়ে আমি হাটতে শুরু করলাম, দুটি ভালোবাসাকে একত্রে মিলিয়ে দেওয়ার মতো আনন্দ পৃথিবীতে আর কিছুতে নেই। এই আনন্দ কেবল ইমুদের স্পর্শ করতে পারেনা। তারা কখনোই আনন্দে ভাগ বসায় না।

লেখকঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান।
এম সি কলেজ, প্রাণীবিদ্যা বিভাগ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×