somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিশপ্ত কফিন।।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অদ্ভূধ কিছু আলৌকিক ক্ষমতা ছিল মেয়েটার।
ইংল্যান্ডের এক রাজ্যের এক ছোট্ট গরীব গ্রামে বাস করত মেয়েটা। সময়টা তখন সতের শতকের কোন এক সাল।
সেই সময়ে এক রহস্যগল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজো এক অধরা রহস্য হয়ে রয়েছে রহস্যপ্রেমীদের মনে। মেয়েটা যে রাজ্যে বাস করত সেই রাজ্যে শাসন করত এক অত্যাচারী রাজা।

সেই রাজা খাজনা আদায় করার জন্য প্রজাদের উপর নানা রকম অত্যাচার করত।
সেই রাজা নানা চাপ প্রয়োগ করে সব গ্রাম থেকে খাজনা আদায় করলেও মেয়েটা যে গ্রামে থাকত, সেই গ্রাম থেকে অত্যাচার করে ইচ্ছেমত খাজনা আদায় করতে পারত না। তার কারণ ছিল মেয়েটার আলৌকিক ক্ষমতা !!
মেয়েটা ভবিষ্যত বলতে পারত (কিংবা মেয়েটার অনুমানশক্তি খুব তীব্র এটাও বলা যায়)! রাজার সৈনিকরা কখন আক্রমণ করবে মেয়েটা তার আলৌকিক ক্ষমতাবলে আগে থেকে জেনে যেত, আর
সেটা সে গ্রামবাসীকে বলে দিত, ফলে গ্রামবাসী প্রস্তুত থেকে রাজার সৈনিকদের মোকাবেলা করতে পারত। যার কারণে ঐ গ্রামে রাজার সৈনিকদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হতে লাগল।
ঘটনা জানতে পেরে রাজা মিটিং এ বসলেন সবাইকে নিয়ে, সেইখানে সবাই মত দিল
মেয়েটাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সিদ্ধান্ত অনুসারে মেয়েটাকে মেরে ফেলতে গুপ্ত ঘাতক পাঠানো হল।
মেয়েটা এটা বুঝতে পেরে সে তার প্রতিবেশীদের বলল তার নিজের উপর বিপদ আসতেছে।
কিন্তু কেউ তো আর মেয়েটাকে পাহারা দিয়ে রাখে নাই, তাই ঘাতক মেয়েটাকে ঠিকই মেরে ফেলল।
মেয়েটার কফিন মাটিচাপা দেওয়া হল গ্রামের পাশে এক বনে।
মেয়েটা মারা গেল, ঘটনা এইখানেই শেষ হতে পারত, কিন্তু নাহ ! আসল ঘটনা মূলত শুরু হল !!
কিছুদিন পর দেখা গেল যেখানে মেয়েটার মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে, তার চারপাশের বিশাল একটা জায়গার সব ঘাস পুড়ে গেছে! সবাই ভয় পেয়ে গেলেও অবাক হল না,কারণ সবাই জানত মেয়েটা সাধারন কেউ না।
তাই ঐদিকে কেউ আর ভয়ে যেত না।
এরপর বছরের পর বছর চলে গেল।
মেয়েটার কাহিনী সবার মুখে মুখে হয়ে গেল।
একশ বছর পর, আটার শতকের কোন এক সময়ে লন্ডনের তিন সাংবাদিক বন্ধু,যারা নাকি মেয়েটার গল্পটা জানে, তারা সিদ্ধান্ত নিল সেই গ্রামে গিয়ে মেয়েটার কফিন তুলে আনবে, মেয়েটার রহস্য ভেদ করবে।
তারা যখন মাটি খুড়ে মেয়েটার কফিনটা তুলল, দেখল কফিনের গায়ে হিব্রু বাসায় লেখা আছে, ‘স্পর্শ কর না’।
তারা কফিনটাকে শহরে নিয়ে আসল, তিনজনের মধ্যে একজন কফিনটা নিজের কাছে রাখল।
এক সপ্তাহ পর দেখা গেল সে মারা গেল (যার বাসায় কফিন ছিল)। মানুষের মৃত্যু হতেই পারে, তাই ঘটনাটাকে সবাই সাভাবিকভাবে নিল।

তার মৃত্যুর পর কফিনটা আর এক সাংবাদিক তার বাসায় রাখল, কিছুদিন পর সেও মারা গেল, একইভাবে তৃতীয় সাংবাদিকও মারা গেল! তিনজনই যখন মারা গেল, এরপর শোরগোল পড়ে গেল, ডাক্তাররা অবাক হয়ে দেখল যার বাসায় কফিন গেছে সেই মারা গেছে এক অজ্ঞাত রোগে !!
এরপর কেউ আর কফিনটা ভয়ে নিতে চায় না, তাই স্থানীয় প্রশাসন সেটা এক যাদুঘরে রাখল.. কিছুদিন পর হঠাৎ করে অজ্ঞাত কারণে আগুন ধরে সম্পূর্ণ যাদুঘরটাই পুড়ে গেল, শুধু কফিনটা অক্ষত রইল !!
এরপর প্রশাসন অভিশপ্ত কফিনটা আর নড়াচরা না করে ঐ অবস্থায় রেখে দিয়ে যাদুঘরসহ জায়গাটাকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে যাদুঘরটা সিলগালা করে দিল। এরপর আরো অনেকগুলো বছর চলে গেল……প্রায় একশত বছর গেল। উনিশ শতকের শুরু হল, প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই সময়ে বিজ্ঞান সব আলৌকিক ঘটনাকে challange জানাচ্ছে। আমেরিকা সেই আলৌকিক কফিন নিয়ে গবেষণার আগ্রহ দেখিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে কফিনটা চাইল।
ব্রিটিশ সরকার কফিনটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
ইংল্যান্ডের রাজকীয় কমান্ডার এডওয়ার্ড জন স্মিথের নেতৃত্বে টাইটানিক নামের এক বিশাল জাহাজ ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সেই জাহাজে করে সেই অভিশপ্ত কফিনটা পাঠানো হয়।
তারপরের ইতিহাস সবার জানা।
যাত্রার মাত্র কয়টা দিন পরই বিশাল এই জাহাজ এক বরফখন্ডের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়,মারা যায় ১৫১৭ জন যাত্রী !!
রহস্যবাদীদের দাবি, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার অন্যতম একটা কারণ ঐ অভিশপ্ত কফিন,সেই মেয়েটা !!

লেখক: চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, এম সি কলেজ।
(সংকলিত কাহিনি)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×