somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মরনীয় সেই দিনটি।।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটির নাম শায়লা। আমি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম ঠিক এরকম একটি মেয়ের হাতে হাত ধরে হাটব, ফুচকা খাব, টং দোকানে বসে চা খাব কিন্তু এই স্বপ্নের মেয়েটির দেখা যে এত তাড়াতাড়ি পাব তা কখনো চিন্তাও করিনি। শায়লাকে আমি প্রথম যেদিন দেখি সেদিন আমার ভিতর কেমন জানি কেপে উঠে। আমি সেদিনই বুঝতে পারি শায়লার সাথে আমার কিছু হতে চলেছে।
একদিন ক্লাসে এসে দেখি শায়লা একা একা বসে আছে। আমিও ক্লাসে ঢুকে চুপচাপ বসে থাকি। সাহস করে শায়লার কাছে যেতে পারছিলাম না। হঠাত করে মাথায় ফন্দি আসল। আমি শায়লার কাছে খুব ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গিয়ে বললাম, আচ্ছা কালকের সীট টা তোমার কাছে আছে। শায়লা বলল, আছে তবে তোমাকে দেওয়া যাবেনা।
আমি বললাম, কেন?
কারণ ওটা আমার। আমার কোন জিনিস আমি কাউকে কখনো দেইনা। প্লিজ রিকোয়েস্ট করনা, রিকোয়েস্ট আমার পছন্দ না।
আমি সেদিনই বুঝতে পারি শায়লা কেমন মেয়ে। আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ এসে আমার জায়গায় বসে পড়ি।
ক্লাস শেষে শায়লা আমার কাছে বলল, চলো।
আমি খুব অবাক হলাম। কি অদ্ভুত ব্যাপার। মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। ভীষণ রাগি মেয়ে শায়লা তাই বেশি প্রশ্ন না করে আমি তার সাথে চলা শুরু করলাম। আজ হয়ত সেই মাহেন্দ্রক্ষন যা অনেক কাল থেকে শুধু কল্পনা করতাম। কিছু মেয়েরা খুব আবাল টাইপের ছেলেদেরকে পছন্দ করে থাকে , কিন্তু কেন করে তা কেউ জানেনা। শায়লার মত চমৎকার একটি মেয়ে আমাকে পছন্দ করার কোন প্রশ্নই উঠেনা। এসব ভাবতে ভাবতে শায়লার সাথে হাটছিলাম।
শায়লা বলল,কি ব্যাপার চুপচাপ কেন? নাকি কোম্পানি হিসেবে আমি ভাল না?
আমি খুব বিব্রতবোধ করলাম। শায়লা কি বলছে এসব?
আমি আর কিছু না বলে অনেক সাহস সঞ্চয় করে শায়লাকে বলে বসলাম, আচ্ছা তোমার প্রিয় রঙ কি?
নীল।
বাহ কি চমতকার। আমার প্রিয় রংটি তারও প্রিয়। আমি তাকে কিছু বললাম না। আবেগগুলো আমি চাপা রাখলাম।
হাটতে হাটতে আমরা কলেজ পেরিয়ে অনেক দূর চলে আসছি। শায়লা আমাকে কেন নিয়ে এসেছে তা জানিনা। সামনে একটা ফুচকার দোকান। হয়ত ফুচকার দোকানে নিয়ে গিয়ে বলবে, খুব খেতে ইচ্ছে করছিল তাই আসলাম, হুটহাট তোমাকে নিয়ে আসায় তুমি কিছু মনে করোনি তো।
আমি এই প্রশ্নের উত্তরও ঠিক করে রেখেছি। কাব্যিক ভাষায় কিছু বলব। কি বলা যায়?
আমি তাকে বলব, কিছু কিছু জিনিস হুটহাট করেই হয়/ যা হয়ত জানেনা কোন হৃদয়।
আমি আর উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছিনা। আর দু পা এগিয়ে গেলেই ফুচকার দোকান। আজ তাহলে আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরনীয় দিন হতে যাচ্ছে? ইস যদি শায়লা আমাকে ফুচকা খাইয়ে দিতে চায় তবে আমি কি করব? পরে যদি তাকে খিয়ে দেওয়ার জন্য আবদার করে বসে? মেয়েদের মন কখন কি চেয়ে বসে বলা যায়না। এসব ভাবতে ভাবতে হাটছিলাম হঠাত আমার ধ্যান ভাংল শায়লার চিতকারে।
ও হেলো কোন জগতে থাকো তুমি?
আমি খুব লজ্জিত ভংগিতে শায়লার দিকে তাকালাম। শায়লার দিকে তাকাতে আমার চোখ গেল দোকানে দিকে। আমি একটি ফটোকপির দোকানের ভিতর। শায়লা বলল,
তুমি না বলেছিলে, কালকের সীট টা তোমার দরকার। এখান থেকে কপি করে নিয়ে আমার সীট টা এখানে রেখে যেও। আমার বয়ফ্রেন্ড এসে সীট টা নিয়ে যাবে।
আমি আর কিছু বলতে পারিনি, শুধু বুঝতে পেরেছিলাম কোন এক অজানা কারণে আমার চোখ দুটি ভিজে উঠেছিল।

লেখকঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান
প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, এম সি কলেজ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০২
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×