somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাল থেকো ভালোবাসা।।

১৯ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিমু খুব নিরব প্রকৃতির মেয়ে। তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় আমাদের বাসার ছাদে। একদিন বিকালে সে ছাদে বসে বই পড়ছিল। আমি খুব একটা ছাদে যাইনা কিন্তু ওই দিন কেন জানি ছাদে যাই। ছাদে গিয়ে দেখি একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বই পড়ছে। মেয়েটির পরণে চশমা। আমি পাশে গিয়ে বললাম, আপনি তিন তলার?
হুম।
তো কিসে পড়ছেন?
ইংলিশ লিটারেচার।
বাহ চমৎকার। আপনি তাহলে সাহিত্যের মানুষ।
ওই আছি। আপনি কিসে আছেন?
ফিজিক্সে আছি। ফাইনাল ইয়ার।
খুব সহজেই তার সাথে আমার পরিচয়। আমাদের পরিচয়েরর সময় কোন জড়তা ছিল না। একটি ছেলে ও মেয়ের প্রথম পরিচয়ে যদি জড়তা না থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে তাদের মধ্যে কোনদিন প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক হবেনা কিন্তু আমাদের বেলায় এটা ভুল প্রমাণীত হলো।
পরিচয়ের পর দিন থেকেই নিয়মিত ছাদে গিয়ে কিছুক্ষণ তার সাথে কথা বলা যেন অভ্যেসে পরিণত হয়ে গেল।
ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি আমার খুব টান ছিল আমি তার কাছে থেকে কবিতার বই এনে পড়তাম এবং কবিতার বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করতাম।
একদিন শিমু আমাকে বলল, আচ্ছা কবিতার মতো জীবন যদি ছন্দময়ী হতো তবে কেমন হতো?
তাহলে পৃথিবীর মানুষেরা মানব কবিতা নামের নতুন সাহিত্য পেত।
তাই?
হুম।
আচ্ছা আপনি কি কখনো প্রেম করেছেন?
শিমুর কাছ থেকে এই প্রশ্ন শুনে আমি যেন থমকে যাই। কি বলব তাকে? প্রেম যে জীবনে একেবারে আসেনি তা কিন্তু না তবু আমি তাকে মাথা নেড়ে বললাম, না।
সে আর কিছু না বলেই অকস্মাত বলে উঠল, আপনার আমার মধ্যে কি প্রেম হতে পারে?
তার মুখে এই কথা শুনে আমার হাত পা কেমন জানি কেপে উঠল। আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হলোনা। সে ম্লান হেসে বলল, ভয় পাওয়ার কিছু নেই ভেবে চিন্তে উত্তর দিও। প্রেম খুব স্বাভাবিক জিনিস নয় এবং এটি সাধারনের জন্যও নয় তাই সাধারণভাবে এটি নিয়ে ভাবা যায়না । এক সপ্তাহ সময় দিলাম আপনাকে, আপনি ভেবে চিন্তে উত্তর দিবেন।
এরপর শিমুর সাথে আর কথা হয়নি। আমি ছাদে গিয়েছি কিন্তু তাকে পাইনি। তার কোন ফোন নাম্বার নেই কারন সে ফোন ব্যবহার করেনা। তার মতো অতি সাধারন একটি মেয়ে আমার জীবনে খুব দরকার ছিল। তাই তার ভালোবাসার প্রস্তাবের উত্তর দিতে আমার সময় নেওয়ার কোন প্রয়োজনও ছিল না তবুও সময় নিয়েছিলাম।
আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেছে। আজ শিমুর সাথে দেখা হলে আমি আমি আমার উত্তর জানাব। তার উত্তর নিয়ে আমি কখনোই ভাবিনি আমি ভেবেছি তার সাথে প্রেম করার দিনগুলি কেমন হবে? সে কি সারাজীবন আমার হয়ে থাকবে? আমি কেমন জানি নস্টালজিক হয়ে পড়ছিলাম। সারাক্ষণ শুধু তাকে নিয়ে ভেবেছি। আজ শুধু সে সামনে আসলে আমি আমার মনের কথাগুলো তাকে খুলে বলব।
অনেকক্ষণ হলো বসে আছি শিমু আসার নাম নেই। আর একটু অপেক্ষা করেই নিচে নেমে যাব। আকাশটা খুব মেঘলা। মেঘলা দিনগুলো কেমন জানি বেদনাদায়ক হয়।
চলে যাব ভাবতেই দেখি শিমু এসে হাজির। তার পরণে আসমানি রঙের একটি শাড়ি। সে আজ আমার সাথে দেখা করবে বলে শাড়ি পরবে তা আমি আশাও করিনি। কি অপূর্ব লাগছে আজ তাকে। এই সাধারন মেয়েটার মাঝে কি এমন আছে যা তাকে অসাধারণ বানিয়ে রেখেছে। সব মেয়েদের চেহারায় অসাধারণ কিছু গুণ থাকে যা কোন না কোন ভাবে একজন পুরুষকে আকর্ষণ করে।
আজ আর কোন কথা বলে সময় নষ্ট করবনা। আজ আমি বলব আমার মনের কথা।
আমি বলা শুরু করতেই শিমু কেঁদে ফেলল। আমি এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে শিমু বলল, আমার বিয়ে হয়ে গেছে। আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও।
শিমু আর দাঁড়িয়ে থাকেনি। শিমু চোখ মুছতে মুছতে আমার সামনে থেকে চলে যায়।
আমার পাষাণ পুরুষ হৃদয় এক ফোটা অশ্রু বিসর্জন দেয়নি কেবল অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম। কারন পুরুষরা কাঁদতে জানেনা কান্না তাদের জীবনে অমাবশ্যার চাঁদ।
আমি শুধু বিড়বিড় করে বলেছিলাম, ভালো থেকো ভালোবাসা।

লেখকঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান
এম সি কলেজ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১:২৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×