somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লালনের পরিচিতি নির্মাণ ও রাজনীতি

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শুরুতেই বলি- পড়তে বিরক্ত লাগলে শুধু বোল্ড করা অংশগুলোতে একবার চোখ বুলালেও টের পাবেন কাহিনী.
লালন নিজেকে কোনো গানে শাহ্ বলেননি, সিরাজ সাঁইকেও শাহ্ বলেননি
হিন্দু বলেননি, মুসলমানও বলেননি
বাউল বলেননি, সূফীও বলেননি
লালনের পরিচিতি নির্মান তাই অত্যন্ত জটিল ভাবে এগিয়েছে। বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন ১/২টা যায়গা থেকে লালনকে নিয়ে জানতে গেলে সেটা ‘অন্ধের হাতি দর্শন’ হয়ে যায়. আর অনেক যায়গা থেকে জানতে গেলে বোঝা যায় যে লালনকে নিয়ে কত ধরনের রাজনীতি হয়েছে, যে যেভাবে পারে লালনকে নিজের পক্ষে দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছে. এই লেখায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের মতামত- বিশ্বাস ও বক্তব্যকে তুলে ধরা হলো, এসব পড়লে আশা করি পাঠক নিজেই বুঝে নিবেন যে এই পরিবেশনের রূপটা কেমন. তাই আমি আর বেশী ব্যাখ্যা দিতে গেলাম না, তবে এমন ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম যাতে প্রহসনটা নিজেরাই টের পান. কিন্তু লালন খুবই সহজ ভাবে বলেছেন- লালন বলে জাতের কি রূপ দেখলামনা এই নজরে.
উল্লেখ্য যে, লালনের সাধন সঙ্গীনি বিশখা ফকিরানী’র পরিচয়ও কিন্তু প্রকাশ করে যাননি তিনি, তবে ওনার বিষয়ে গবেষকদের তেমন আগ্রহ পেলাম না, কিন্তু ওনাকেও লালনের সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে, কারণ- বাউল সাধনায় নারী- পুরুষ কেউ কারো চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ন নয়.


জীবনী ও ধর্ম কেন্দ্রিক পরিবেশন ও পরিচিতি নির্মাণ:
২০০৪ এ বিবিসির শ্রেষ্ঠ বাঙালীর তালিকায় ১২তম স্থানে আছে লালনের নাম। কিন্তু এর ভিত্তিতে আছে শ্রোতাদের ভোট। এবং শ্রোতারা লালনের এই পরিচিতি নির্মানের রাজনীতিতে লালনে কে কতটুকু চিনতে পারে সেটা প্রশ্ন।

অনেকে মনে করেন- ‘লালন’ তিন অক্ষরের রূপক এক নাম ! ‘লা’ মানে ‘না’, 'the no', মহাশূন্য, আধ্যাত্মিকতার শেষস্তর, ‘লা’ কে যিনি লন তিনিই লালন; অর্থাৎ যে সাধক বস্তুবিশ্বের ভিড় ছাপিয়ে দেহমনে মহাশূন্যতাকে গ্রহণ করেন! মানবীয় ক্ষুদ্র ‘আমিত্ত্ব’ অর্থাৎ ‘হ্যা’ কে যিনি সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়েছেন।
(ফেইসবুকে গ্রুপ লালন গীতি থেকে)
বাংলাপিডিয়ায় আছে-
'Lalon Shah (1774-1890) Baul guru, and singer and composer of baul songs. According to tradition, he was born into a kayastha family in the village of Bhandara in Kushtia. As a young boy, Lalon caught smallpox and was abandoned in a critical condition. Siraj Sain, a Muslim fakir, picked up the child and nursed him back to health. Lalon was later inducted as a Baul fakir. He set up an akhda at Chheuriya, where he lived with his wife and a few disciples.’
উইকিপিডিয়ায় আছে-
‘লালন শাহ বা লালন ফকির (১৭৭৪- অক্টোবর ১৭, ১৮৯০) ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একাধারে বাউল সাধক, বাউল গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। তাঁকে ‘বাউল সম্রাট’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিলো।’
লালনকে নানাজন নানাভাবে নানা উদ্দেশ্যে পরিচিত করেছে, লালনের পরিচিতি নির্মানে অংশ নিয়েছে। লালনের শিষ্য সংখ্যা দশ হাজারের উপর বলে পাওয়া যায়। (চক্রবর্তী ১৯৯২) লালনের এই পরিচিতি নির্মাণে অংশ নিয়েছেন কাঙাল হরিনাথ, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ নানা সাহিত্যিক, মোল্লা মৌলবী, লালনের এই শিষ্য সকল এবং লালন নিজেও, যে যার অবস্থান থেকে।
লালনের ‘জীবনী’ ও ‘জাত’ সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য ও বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণকে শুধু ‘লোকশ্রুতি’ বা ‘বিদ্বজনের বক্তব্য’ হিসেবে দেখলে নৃবৈজ্ঞানিক বোঝাপড়ায় ঘাটতি থেকে যায়। তাই এগুলোকে প্রেক্ষাপট বিচারে দেখতে হবে। আগে দেখা যাক এ ব্যাপারে বিভিন্ন বক্তব্য কেমন-
বই, পত্রিকা ও সিনেমা থেকে:
লালনের জীবনীকে নানাজন নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যার যার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। এর কিছু উদাহরণ-
লালনের জীবদ্দশায় ১৮৭২ সালে কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত পত্রিকা ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’তে ‘জাতি’ নামের রচয়িতার নাম ছাড়া এক লেখায় প্রথম লালন সম্পর্কে প্রথম কিছু মুদ্রিত হয়-
‘লালন শা নামে এক কায়স্থ আর এক ধর্ম্ম আবিষ্কার করিয়াছে। হিন্দু মুসলমান সকলেই এই সম্প্রদায়ভুক্ত।’
উল্লেখ্য যে এটি পূর্ব বাংলার প্রকাশিত প্রথম আঞ্চলিক পত্রিকা।
১৮৯০ সালে লালনের মৃত্যুর ১৫ দিনের মধ্যেই মীর মোশাররফ হোসেন সম্পাদিত ‘হিতকরী’ পত্রিকায় লেখা হয়-
‘সাধারনে প্রকাশ লালন ফকীর জাতিতে কায়স্থ ছিলেন। কুষ্টিয়ার অধীন চাপড়া ভৌমিক ইহার জ্ঞাতি। ইহার কোনো আত্মীয় জীবিত নাই। ইনি নাকি তীর্থগমন কালে পথে বস্ত রোগে আক্রান্ত হইয়া সঙ্গিগণ কর্তৃক পরিত্যাক্ত হয়েন। মুমূর্ষু অবস্থায় একটি মুসলমানের দয়া ও আশ্রয়ে জীবনলাভ করিয়া ফকির হয়েন। ইহার মুখে বসন্তরোগের দাগ বিদ্যমান ছিলো।... ইহার জীবনী লিখিবার কোনো উপকরণ পাওয়া কঠিন। নিজে কিছুই বলিতেন না। শিষ্যেরা হয়ত তাঁহার নিষেধক
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৫
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×