somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পান্থজন জাহাঙ্গীর
আমি পান্থজন জাহাঙ্গীর নিতান্তই শাদা মনের মানুষ। যার কারণেই প্রথম দর্শনে যে কাউকে আপন করে নিতে চায় মন। এই জন্য মানুষ সহজেই আঘাত দেয়। ব্যক্তিগত জীবনে আমি বিবাহিত। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। দর্শণ নিয়ে অধ্যয়ন করলেও আমি সাহিত্যের একজন সমঝদার মানুষ। শিক্ষকতার পাশ

ক্ষমা করো প্রিয়তমা

০১ লা মে, ২০১১ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



“এই এই ফুলগুলি মাড়াইসনে! জানিস,ফুলগুলি মাড়িয়ে যখন সবাই চলে যায় তখন আমার খুব কষ্ট হয়,মনে হয় যেন তারা আমার বুকের ওপর দিয়ে যাচ্ছে। ”প্রতিদিন খুব ভোরে সে উঠত। তারপর র্ফাস্ট ট্রেনে একেবারে ক্যাম্পাসের জারুল তলায়। বুদ্ধিজীবী চত্তরে জারুল গাছের বিশাল চাদোয়া। জারুফোটা দিনে এই চত্তর যেন কোমল পুষ্পশয্যা। সারারাত ধরে শিশির সমেত যে ফুলগুলি টিপ্ টিপ্ করে ঝরে পড়তো তা সকালেও শেষ হতো না। ভোরের পাখি বেলি কেউ মাড়ানোর আগেই সেই অপরুপ দৃশ্য লুপে নিতে সেখানে গিয়ে হাজির হতো। তারপর কাঁধে বেগ ঝুলিয়ে গোলাপি চাদরটা জড়িয়ে আমার জন্য অধীর প্রতীক্ষা। সেকেন্ড ট্রেন পৌঁছলে আমরা একসাথে চাকসুতে নাস্তা সেরে ক্লাসে যেতাম। সাহিত্য আড্ডার সূত্র ধরে বেলির সাথে আমার প্রথম পরিচয়। তরুন কবি হিসেবে তখন কবিতার প্রতি ছিল আমার টান টান উত্তেজনা। ল্যাটিন সাহিত্য নিয়ে আমরা সবসময়আড্ডায় বসতাম। প্রথমবর্ষ থেকেই বোদলেয়ার বোর্হেস জন দেরিদা নিয়ে বেলির আগ্রহ ছিল উত্তুঙ্গে। তাছাড়া সে ছিল সাহিত্যের ছাত্রী।
থার্ড ইয়ারে কির্য়েকেগাদ নীটশে র্সাত্রে ইত্যাদি অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের নিয়ে সে কি তুমুল বিতর্ক। ক্যাম্পাসে কখন যে সন্ধ্যা নামতো টেরই পেতাম না। বেলি কে আমি সবসময় উৎসাহ দিতাম। বেশিভাগ ক্ষেত্রে ক্যাম্পাস ত্যাগের সময় তার ইচ্ছাকে প্রধান্য দিতাম। বেলির যেদিন প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল সেদিন তার কি উত্তেজনা। রাতে সে ঘুমাতে পারে নি। সকালে আমি তাকে জীবনান্দ সমগ্র দিয়ে অভিনন্দন জােিনয়েছি লাম। বেলির সাথে সবচে মজার স্মৃতি হচ্ছে-মাঝে মাঝে সে হঠাৎ আড্ডার ফাঁকে সে আমার বুক পকেটে হাত ঢুকিয়ে আমাকে চমকিয়ে দিত। তারপর আমি যে কবিতাগুলো তাকে না দেখাইতে চাইতাম সেগুলিসে জোরে পাঠ করতো আর মজা করতো। আর তার কবিতাতো প্রথমে আমাকে পড়তেই হবে। এভাবে আমরা এতই কাছকাছি চলে এসেছি যে বেলির যেমন আমাকে ছাড়া চলেনা তেমনি আমারও বেলিকে ছাড়া চলেনা। সকালেই উঠেই বেলির সাথে দেখা তারপর সারাদিন কাটিয়ে বাসায় ফেরা। কবিতা,গান, নাটক,আড্ডা,বিতর্ক,শিল্পকলা,ডিসিহিল,থিয়েটার ইত্যাদিতে আমরা একেবারেই মজে গেলাম। ফিরতে দেরি হলে মাঝে মাঝে বেলির মা নিজেই চলে আসতো। জীবনান্দ ছিল আমাদের দুজনেরই খুব প্রিয়। আকাশলীনা, বনলতা সেন, আটবছর একদিন পরে আর সোনালী কাবিনের সনেটগুচ্ছ সে রাত জেগে মোবাইলে শুনাতো। তাকে এগুলো মাদকের মতো টানতো। চন্দ্রমল্লিকা ছিল তার সবচে প্রিয়। আমি বর্ষায় ফোটা কদম ফুলসহ তাকে সব সিজনাল ফুলগুলি দিতাম। কিন্তু চন্দ্রমল্লিকা দেয়ার মতো সে খুশি হতো না। একদিন বোটানিকেল গার্ডেন থেকে চন্দ্রমল্লিকা চুরি করতে গিয়ে চারশ এক টাকা জরি মানা দিতে হয়েছিল। কিন্তু একথা কোনদিন তাকে বলিনি। কারণ সে আমাকে অসম্ভব রকম ভালোবাসতো। আমি কোনদিন তাকে কষ্ট দিতে চাইনি। মাঝে মাঝে বেলি আমার জন্য বাসা থেকে বিভিন্ন ধরণের পিঠা তৈরি করে নিয়ে আসতো। সেদিন সকাল থেকেই বেলিকে খুব হাশি খুশি দেখাচ্ছিল। খুব ইয়ার্কি করছিল সে। হঠাৎ সে ফাস্ট ট্রেনে যাওয়ার জন্য জেদ ধরল। যুক্তি ছিল সামনে মাস্টার্স পরীক্ষা তাই থাকলে সময় নষ্ট হবে। আমি আর জোর করলাম না। অনার্সের সার্টিফিকেট তোলার জন্য চলে গেলাম। আমর মনে কেমন জানি কু ডাকতে লাগল। আমি সময় নষ্ট করলাম না। দ্রুত কদম ফেলেই কাটাপাহাড় দিয়ে স্টশনে এসে দেখি বিশাল লোকের কুন্ডলি। ভিড় টেলেই দেখি আমার বেলি।“তাড়াড়ি উঠতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ছে!”
শুধু রক্তেরঞ্জিত বেলির মুখের দিকে একবার তাকালাম। তারপর আমি সেন্সলেস হয়ে গেলাম। আমার স্বপ্নের কবি, আমার স্বপ্নের চন্দ্রমল্লিকা বেলুমণি সেদিন সবাইকে ছেড়ে চলে গেল। যে ট্রেনে করে সকাল সকাল ক্যাম্পাসে চলে আসতো সেই ট্রেনই তার সারা জীবনের লালিত স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমারে করে দিল । ক্ষমা করো বেলু আমি তোমাকে বাঁচাতে পারিনি।




৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×