somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পান্থজন জাহাঙ্গীর
আমি পান্থজন জাহাঙ্গীর নিতান্তই শাদা মনের মানুষ। যার কারণেই প্রথম দর্শনে যে কাউকে আপন করে নিতে চায় মন। এই জন্য মানুষ সহজেই আঘাত দেয়। ব্যক্তিগত জীবনে আমি বিবাহিত। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। দর্শণ নিয়ে অধ্যয়ন করলেও আমি সাহিত্যের একজন সমঝদার মানুষ। শিক্ষকতার পাশ

আটকুমারী

২০ শে মে, ২০১১ রাত ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক রাজার ছিল চার মন্ত্রী। একদিন রাজা তার মন্ত্রীদের মধ্যে একটি গল্প বলার প্রতিযোগিতা দিলেন। তারপর বললেন, তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে সুন্দর গল্প শুনাতে পারবে তার বেতন প্রতি মাসে যাবে বেড়ে এবং পুরস্কার হিসেবে পাবে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা। মন্ত্রীগণ উল্লাসে ফেটে পড়ল। হঠাৎ রাজসভায় গল্প বলার প্রতিযোগিতা চালু করায় মন্ত্রীগণ রাজাকে বিশেষ ধন্যবাদ দিলেন। তারপর প্রথম মন্ত্রী বলল হুজুর আমার মতো সুন্দর গল্প আশা করি কেউ শুনাতে পারবেনা। দ্বিতীয় মন্ত্রী বলল হুজুর আমি রাজ্যের সেরা গল্পটিই আপনাকে শুনাবো যে গল্প আপনি কোনদিন শুনেন নি। তৃতীয় মন্ত্রী বলল অনেকে অনেক কথাতো বলল তবে আপনাকে একটাই কথা বলব আমি সুন্দর গল্পের জন্যে আপনার রাজ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করবো কারণ আমি আপনাকে সেরা গল্পটিই শুনাতেই চাই চতুর্থ নিরব রাজা চার মন্ত্রির প্রত্যেককে চারদিন করে সময় দিলেন মন্ত্রিরা যার যার মতো করে রাজ্যে বের হয়ে পড়ল কেই গেল শহরের পুরানো বস্তিতে কেউ গেল নদীর ধারে সমুদ্র সৈকতে আবার কেউ গেল অজ পাড়া গায়ে বন-জঙ্গলে তিন দিন গত হয়ে গেল রাজা তার বিশ্রাম কক্ষে পায়চারি করতে থাকল এবং চিন্তা করতে লাগল কে তার চার মন্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর গল্পটি শুনাতে পারবে হঠাৎ ঢোলের আওয়াজ ঝনঝনিয়ে বেজে উঠল রাজা কান খাড়া করল এবং দেখলেন এক মন্ত্রী প্রসাদে প্রবেশ করল রাজার কাছে এসে বসে পড়ল। তারপর বলল হুজুর আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি শুরু করতে পারি অনুমতি দেওয়া হল। মন্ত্রী এবার একটু গলা পরিষ্কার করলো এবং বলতে শুরু করল হুজুর মন দিয়ে শুনেন এমন জায়গায় গিয়েছিলাম যেখানে দেখলাম এমন একটি নলকুপ পানি শুধু উপরের দিকে উঠছে আর উঠছে। তামাম জমিন পানিতে ভেসে যাচ্ছে আর পানির প্রতিটি ফোটা মুক্তা দানার মতো পরিষ্কার আর মধুর চেয়েও মিষ্টি তাই নাকি? হ্যাঁ হুজুর কিন্তু হুজুর এই পানি কেউ পান করছেনা। রাজ তোরণে আবার ঢোল তবলা বেজে উঠল
দ্বিতীয় মন্ত্রী প্রবেশ করল। হুজুর আমার গল্প মনপ্রাণ দিয়ে শুনেন। আরে বল বল। এক আজব প্রাণী হুজুর আচ্ছা তার তিনটি মাথা, পাঁচটি চোখ, সাতটি কান, আচ্ছা তারপর তবে কিন্তু একটি লেজ,একটি পেট একটি নাক, তিনটি পা। আচ্ছা তারপর। কিন্তু হুজুর প্রাণীটির একটিই শিং। সুচালো। ইয়া বড় উপরের দিকে তারপর? তার গায়ের রং যে এমন বিচিত্র যে আপনি পৃথিবী যত প্রাণী আছে তার সব রং তার গায়ে দেখতে পাবেন। আচ্ছা তারপর? প্রাণীটা সবার দিকে থাকিয়ে আছে। তার চোখ দিয়ে আগুনের ফূলকি বের হচ্ছে। তারপর আমি চলে আসলাম।

রাজদরবার আবার গরম হয়ে উঠল তৃতীয় মন্ত্রীর প্রবেশ। হুজুর এক আজব গল্প শুনেন। বহুদিন পর সমুদ্রে চর জেগেছিল। আচ্ছা তারপর? তারপর সেই চরে এলাকাবাসী চাষাবাদের প্রেরণায় একটি মেলার আয়োজন করল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিত্য নতুন জিনিস নিয়ে মেলায় পসরা সাজালো। মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্টানেরও আয়োজন করা হল সবার অংশগ্রহণ ও আনন্দ উললাসে মেলা যখন জমে উঠছিল ঠিক সেই মূহুর্তে সমুদ্রের চর সমুদ্রের মাঝেই ডুবে গেল। কি বলছো তুমি? হ্যাঁ হুজুর বিশ্বাস করূন। একটা মানুষও বেঁচে নেই। সবাই ডুবে মরল। এই শোকে আমি দ’ুদিন কান্না করেছি। শেষমেষ এক সমুদ্র বিশেষজ্ঞের নিকট গেলাম। আমি জানি আপনি এর একটি উপয্ক্তু ব্যাখ্যা চাইবেন তাই? তিনি কি বললেন? তিনি বললেন যে এটি নাকি চর ছিলনা। এটি ছিল একটি নীল তিমির পিঠ। যে টি জোয়ারের বেলায় মোহনায় আটকা পড়েছিল। আর ভাঠির বেলায় তার পিঠে বালির আস্ততরণ পড়েছিল । আবার যখন জোয়ার এল তখন সে টুপ করে সমুদ্রে ডুবে গেল।
তৃতীয় মন্ত্রী গল্প শেষ হতে না হতেই চতুর্থ মন্ত্রীর প্রবেশ। সবাই অধির আগ্রহে তার গল্প শুনার জন্য অপেক্ষা করছিল। তারপর রাজা বলল। মনে হচ্ছে তুমিই সবচেয়ে সেরা গল্পটি উপহার দিবে। হ্যাঁ হুজুর আমিই সেরা গল্পটি শুনাবো। এবার শুনুন হুজুর মনপ্রাণ দিয়ে। আপনার রাজ্যে যেতে যেতে আমি অনেক দূর চলে গিয়েছিলাম। দেখি গ্রাম আর গ্রাম। তারপর গ্রামের ভিতর দিয়ে যেতে যেতে আরো অনেক কিছুদূর চলে গেলাম। তারপর সারি সারি বাগান। প্রথম বাগানে দেখলাম এক পাল হাতি। তারা মনের সুখে ঘাস চর্বন করছে। তারপর আরো ভেতরে ঢুকে গেলাম। এই বাগানে দেখলাম রাজ্যের যত সব পাখী। যাদের প্রত্যেকে গাছের ডালে বসে বিরহের সুর তুলছে। মনটা আমার বিষাদে ভরে গেল। এরপরে আমি বামে ঘুরে ডানে মোড় নিয়ে আরো ভেতরে ঢুকে গেলাম। তারপর যা দেখলাম তা বর্ণনার বিষয় নয়। আরে বলো বলো। জানি, এই বর্ণনা না শুনে আপনি আমাকে ছাড় দিবেন না। তো সেই বাগানে দেখলাম চার জোড়া রাজকুমারী বসে আছে। তাদের মুখে কোনা ভাষা নেই। তারপর? তারা দামী অলংকারে সুসজ্জিত হয়ে বসে আছে। তাদের এত রুপের ঝলকানীতেও বিরহে মগ্ন থাকতে দেখে আমার মনটা মোচড় দিয়ে উঠল। অবশেষে আমি বহু অনুনয় বিনয় করে তাদের এই অনশনের কারণ জানতে চেয়েছিলাম। তারা বলল তারা নাকি সবাই এক রাজার রানী হতে চায়। রাজা প্রশ্ন রাখতেই না রাখতেই রানী মহাক্রুদ্ধে চিৎকার করে উঠল। তারপর বলল, ‘রাখো। অনেক হয়েছে। তোমার এই বানোয়াট গল্প আর শুনাতে হবে না। তোমার কত স্বর্ণ মুদ্রা দরকার তুমি নিয়ে নাও। তবুও এই মিথ্যে গল্প থেকে রেহাই দাও।’ এরপর রাজা বলে উঠল,
-কি বলছো তুমি ?
- হ্যাঁ, আমি যাই বলছি তাই সত্যি।
এই আনোয়ারের বাচ্চা জানোয়ার এতখোন যা বলছে তা ডাহা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়।
-আমি বলছি এই গল্প সত্যি।
- আমি বলছি মিথ্যা।
এরপর রাজা মন্ত্রীর দিকে তাকালেন। তারপর বললেন মন্ত্রী তুমি কি বলো? মন্ত্রী রানীর ধমক খেয়ে এতখোন চুপ ছিল। রাজা তার পক্ষ নিয়েছে দেখে মন্ত্রী¿ বুকে সাহস নিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, হুজুর একদম সত্যি।’ এবার রাজা ঘোষণা দিল, ‘হ্যাঁ আগামীকাল সকালেই আমরা ঘোড়া ছুটিয়ে ঐ রাজ্যে রওয়ানা হবো। আটকুমারী কে এই প্রাসাদে হাজির করেই আমি প্রমাণ করবো আমার মন্ত্রী কখনো মিথ্যা বলেনা। রানী রাগে দাঁত কড়মড় করে তার রুমে ঢুকে গেল। পরের দিন রাজা মন্ত্রীকে নিয়ে আটকুমারীর স›ধানে বের হয়ে গেল।






৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×