দুপুরে মা ঘুমিয়েছিল। অনেক ক্লান্তির ঘুম। মায়ের মাথাটা ছুঁ ছুঁ করছিল। এর মধ্যে আবার কাকের ডাক। কাকটি সকাল থেকে কা কা করছিল। তারপরও মা বিরক্ত না হয়ে অনেক সংযমী হয়ে বল্ল‘, ও কাক মরা-সরার খবর নিয়ে যা।’ তারপর মা পাশ ফিরে শুইল। এ রকম দুপুরে কাক ডাকলে, মায়ের কাছে একটা শোকের আবহ তৈরি হয়। মায়ের মনটা কেমন জানি উতাল-পাতাল হয়ে যায়। কিছুক্ষন পর কাকটি আবার কা.. কা .. রবে ডেকে ওঠল। কাকটি এবার এমন করুনসুরে ডাকলো যেন মায়ের কাছে শোকের আবহটা গভীর থেকে আরো গভীরতর হল। কাকের ডাকে পরিবেশটা যেন ভারী হয়ে উঠল। এইবার মা ঘুম থেকে একেবারেই উঠে গেল এবং উঠানে গিয়ে দু’টো তালি দিয়ে কাকটিকে অবশেষে তাড়াল। রুমানা মায়ের পাশে শুয়েছিল। মায়ের ছটফটানি দেখে আধাঘুম থেকে সেও জেগে ওঠল। সে মাথার চুলগুলোতে আঙ্গুল চালাচ্ছিল। কাক পক্ষী নিয়ে মায়ের এই আধ্যাতিœকতা সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেনা। মার কথা অনুযায়ী কাক নাকি মৃত্যুর খবর নিয়ে আসে। আর মৃত্যু মানে আতœীয় স্বজনের মৃত্যু। তাই মায়ের ছটফটানী বেড়ে যায়। মায়ের মনটা দুরদুর করে। বাতাসে তিনি মৃত্যুর গন্ধ খুঁজে পায়। আকাশে শোকের বীণ। শিরিষ গাছের পাতাগুলো যেন মৃত চোখের মতো কাফনের কাপড়ের অপেক্ষায় নুয়ে রয়েছে। মাঝে মাঝে বাতাসের ঝাপটায় বাঁশবনের ফাঁক দিয়ে যেন কার কান্নার বিলাপ ভেসে আসছে। মাটিগুলো কেমন জানি শুষ্ক হয়ে আছে। মায়ের এরকম কল্পনা মাঝে মধ্যে রুমানার মনটাকেও ধাক্কা মেরে যায়। কল্পনার জালে তখন সেও আটকা পড়ে যায়। অবিশ্বাসের মধ্যে কেমন জানি একটা বিশ্বাসের টান চলে আসে। মা বলে তার সব কথা কি বিশ্বাস করতে হবে? কিছুক্ষন পর কাকটি আবার এসে শিরিষ গাছের ডালে বসল। এবার রুমানা খাট থেকে উঠে বসল। তারপর ওড়নাটা মাথায় দিয়ে বের হলো। দেখে শিরিষ গাছে ইয়া বড় একটা দাড় কাক বসে আছে। মায়ের ভাষায় এটি হচ্ছে ভূত কাউয়া। রাতের আধারে গ্রামের ভূতগুলো নাকি এই কাকের ছদ্ধবেশ ধারণ করে। ঠোট লম্বা, সামনে সুচালো। দু’পায়ে লম্বা ধারালো নখর। গাঢ় কালো চোখ। লম্বা গলা। মোটা-সোটা দেহ। অদ্ভুত চাহনী। যখন রুমানার মুখোমুখি হলো তখন ওপর থেকে লম¦া গলা নিচু কওে, চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চঞ্চু টেনে অদ্ভুত প্রখর দৃষ্টিতে এমনভাবে তার দিকে তাকাল। যেন তার সামনে গভীর অ›ধকার রাতের এক চিলতে ভৌতিক দৃশ্যের অবতারণা হলো। তাই দিন-দুপুরেই তার মনে একটু ভয় লেগে গেল। ‘এ তো ঢোর কাক,ডাইনী ’ বলে রুমানা তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে গেল। ভর দুপুরে সে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করল। যখন চোখে একটু-আধটু ঘুম লেগে গেলো তখন বাইরে থেকে হঠাত মায়ের চিৎকার ভেসে আসলো ‘রুমানা.. ও রুমানা..ওরে ওঠ.. তোর বেটকা নানা (রফিকের বাপ) নাকি শহরে মারা গেছে! লাশ আনতাছে।
১৮০৮১২
পান্থজন জাহাঙ্গীর
শিক্ষক, ইউসেপ-সি.এফ.এস.ডি-১
ফোন:০১১৯০২২০৭০০
ই-মেইল:ফযঁশশর@মসধরষ.পড়স

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


