somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেয়ার শুডবি মিডটার্ম ইলেকশন

১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্ষিয়ান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক এসেছিলেন পৃথিবীর একমাত্র ভাসমান শহর ইতালির ভেনিসে। সঙ্গে ছেলে এবং ছেলের বউও এসেছিলেন। ভেনিসের গ্রানক্যানেল ছোঁয়া একটি পাঁচতারা হোটেলে ছিলেন তিন দিন। ভেনিস সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তারা নিশ্চই জানেন, ভেনিসের সৌন্দর্য খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হলে বেশ একটু শক্তি-সমর্থওয়ালা হতে হয়। রফিক-উল-হকের বয়স এখন আশির কোটায়। মানসিক শক্তিতে তিনি এখনও অনেক যুবকের কান কাটলেও শরীর তা মানতে চায় না। ভাসমান ভেনিসের শত শত সেতু ভাঙ্গা তার পক্ষে শুধু কষ্টসাধ্যই নয়, অসম্ভবও বটে। তার পরেও তিনি হোটেলে বসে থাকেননি, সেপ্টেম্বরের হালকা শীতে গায়ে ওভারকোট চাপিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছেন লাঠিতে ভর করে। এক সন্ধ্যায় তিনি আমাকে এবং আমার দুই বন্ধুকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানালেন। আমরা হোটেল ওয়েস্টিনের রেস্টুরেন্টে বসলাম। ভেনিসের বিখ্যাত সামুদ্রিক মাছের বিভিন্ন পদের সঙ্গে অলিভ তেলে ভেজানো রুটি আর পাস্তা খেতে খেতে অনেক গল্প হয় তার সঙ্গে। তিনি জানালেন, প্রায় ৪০ বছর আগে একবার ভেনিসে এসেছিলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিসহ অনেক কিছু নিয়ে কথা হয় আমাদের মধ্যে। হাসতে হাসতে বললাম, দেশের বর্তমান দুরবস্থার জন্য সকল দায় আপনার। ওয়ান ইলেভেনের সময় আপনি যদি দুই নেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত না করতেন তবে দেশের অবস্থা বর্তমানের মতো নাও হতে পারতো। তিনি কিছুই বললেন না, অনেকটা হাসলেন মাত্র। রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে বেশ সতর্ক মনে হলো ওনাকে।
তিনি ভেনিসের রেডিও বাঁজের বাংলা অনুষ্ঠানে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে বেশ খোলামেলা এবং তার স্বভাবসুলভ কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরছি।


দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো মন্দ দুইই আছে, তবে দেশ ভালোর দিকে যাচ্ছে। আমরা যতোই ক্রিটিসাইজ করি, গত ১০ বছর আগের কথা ভাবেন আর আজকের কথা ভাবেন, দেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে, পহেলা জানুয়ারিতে ৩ কোটি বই বিনা পয়শায় দেয়া কী সম্ভব আপনি বলেন! অথচ দেশের সমস্ত স্কুলে ঠিক পহেলা জানুয়ারির মধ্যেই বই পৌঁছে যায়। তার পরে পদ্মা সেতু হচ্ছে, কয়েকটা হাইওয়ে হয়েছে। সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করছে। বিশেষ করে আমাদের কম্যুনিকেশন মিনিস্টার ওবায়দুল কাদের খুবই ভালো, খুবই রি‌্যজনেবল লোক। ভালো কাজ করলে ভালো কথা বলে, ভুল করলে মাফ চায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা, তিনিও খুব ভালো কাজ করছেন। আফটারঅল তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা এইটুকু ভুলে যাবেন না। বেগম জিয়া সরকারকে ক্রিটিসাইজ করছেন। পার্টি অপজিশন হলেই তো আমাদের অভ্যাস যা সরকার করবে সেটাকে অপোজ করা, আর অপজিশন যা করবে সরকার সেটাকে অপোজ করবে। এই মনোবৃত্তি আমাদের সরাতে হবে, আমাদের নিজেদের মধ্যে মানসিক পরিবর্তন আনতে হবে। একে অপরের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পিনচিং কথা বলে কোনো লাভ নেই। এটাই আমি সব সময় মনে করি- দুই পক্ষকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা প্রয়োজন আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়া উচিত। কারণ আমাদের কনস্টিটিউশন বলছে, থ্রি হানড্রেড এমপি শুডবি ডাইরেক্টলি ইলেকটেড বাই দা ভোটার্স। কিন্তু এরা তো ডাইরেক্ট ইলেকটেড না। ওয়ান ফিফ্টি ফোর তো ইলেকটেডই হয়নি, আনঅপজড হয়েছে। যে পার্লামেন্টে ওয়ান ফিফ্টি ফোর আনঅপজড হয়, সেটা পার্লামেন্ট কী করে হলো? সুতরাং আমি মনে করি এবং সিরিয়াসলি চিন্তা করি- দেয়ার শুডবি মিডটার্ম ইলেকশন। এবং এটা হবেই, হতে হবে। তা না হলে অনেক অসুবিধা হবে।
প্রফেসর ইউনূস সম্পর্কে রফিক-উল-হক বলেন, সম্মানি ব্যক্তিকে যদি সম্মান দেখান হয় তাতে নিজের সম্মান বাড়ে। সেদিন একটা মিটিং হলো ঢাকায়, সেখানে একজন আমেরিকার লেকচারার বললেন- আমেরিকার আছে স্টাচু অব লিবার্টি, প্যারিসের আছে আইফেল টাওয়ার আর বাংলাদেশের আছে প্রফেসর ইউনূস। চিন্তা করে দেখেন ইউনূস সম্পর্কে তারা কী ভাবে। আর আমরা সেই ইউনূসকে নিয়ে ছেলেখেলা করছি। ইউনুস আমাদের সম্মান এনেছে, দেশের সম্মান এনেছে- উই ফিল প্রাউড ইউনূস বাংলাদেশি।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা উচিত কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি এখন তারেক রহমান দেশে ফিরে আসতে পারে। তার বেল বোধহয় আমিই করে দিয়েছিলাম। দেশে এসে আবার বেল নিলেই হবে। এখন পলিটিক্সে তার মার সঙ্গে থাকা দরকার।
প্রবাসী আয় দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাকে কিছুটা নার্ভাস মনে হলো। তিনি বলেন, এটা ঠিক না। আপনারা কী টাকা পাঠান যে অবকাঠামো হচ্ছে না! পদ্মা সেতুতে যে টাকা লাগবে আপনারা ১০ বছরে সেই টাকা রেমিট করতে পারবেন? মেইন ইস্যু তো হচ্ছে সেতু! পদ্মা সেতুতো ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই শুরু করেছে। আপনাদের রেমিটেন্স যা আসে তাতে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন অনেক বেশি, ২২ বিলিয়ন না যেনো কতো ডলার হবে। রিজার্ভ বেশি থাকা তো ভালো না।
http://www.shaptahik.com/v2/?DetailsId=9655
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×