
সেদিন নির্মুলেন্দু গুনের কবিতা পড়ছিলাম।
কিভাবে লিখলে তুমি? বিশেষ করে
আমাদের জন্য।
স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের কিভাবে হলো,
সেই রাত্রির কল্পকাহিনী এবং
আজ আমি রক্ত চাইতে আসিনি; কবিতা তিনখানি
আবৃত্তি করছিলাম আমার প্রিয়ার
ধূসর চোখের পাশে নিভৃত ওষ্ঠে।
আমার চারপাশের
অপ্রচলিত দেয়াল, প্রচলিত পর্দা বিভেদ করে
শুনতে পায়নি কেউ।
আমার প্রিয়ার কর্নকহুরে পৌঁছে দিচ্ছিলাম-
কবিতা আবৃত্তির নিঃশব্ধ তরঙ্গ;
বাতাসের শব্দজট, জলের জটায়ু
রুদ্ধ হয়ে গেছে গাঢ় সবুজ গাংচিল।
তেঁতুলিয়া ঘড়া থেকে জল পড়ে
উর্বর পলিতে ভরা নারীর বুক। পৌরুষের
বিদ্রোহী পাপ প্রকোষ্টে। নির্দোষ কান্নাগুলি
বেড়িয়ে আসছে চোখ ঠিকরে,
বঙ্গবন্ধু ,স্বাধীনতা মিলে বাংলাদেশ।
পচাত্তর আগস্টের পনের তারিখ
লুকিয়ে নিচ্ছে শুকুনি। ভয়াল আর্তনাদে
শাড়ির আঁচলে, চোখ আমার প্রিয়ার।
মুজিব, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ
সব মিলে এখনই কঠিন সময়।
বদলে যাচ্ছে চেতনা,
উৎসাহ হারিয়ে যাচ্ছেে
উজান পানির তোড়ে।
যমুনার ভাঙ্গনের পথে পথে
উড়ে বেড়ায় শকুন, পদ্মার উর্বর বুক।
তোমারই পান্ডুলিপি মারবে থাবা
মুক্তবিহঙ্গ বইয়ে রাখা পাতা, খেয়ে ফেলবে
সব কালো পংক্তিগুলি।
আমার প্রিয়ার উন্মুক্ত বসনা
হাতের আঙ্গুলে গুটিয়ে গুটিয়ে
চেয়ে আছে। মোর ঠোঁটের শব্দেরা
গাছের আড়ালে বনের কোঠরে কোঠরে।
মুজিব স্বাধীনতা বাংলাদেশ।
১৮জানুয়ারী’১৯৯৯খ্রীঃ

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




