
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে এক লজ্জার রেকর্ড গড়েছিল তারা। আমেরিকান সামোয়া কখনও কোনো ম্যাচ জেতে নি, এমন কী কোনো গোলও দিতে পারে নি। এমন এক ভাঙাচোরা দলকে সামলাতে আসেন কোচ থমাস রনগেন (মাইকেল ফ্যাসবেন্ডার)। সে বেচারার নিজের জীবনেও তখন খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল।
এখানে আছে তৃতীয় লিঙ্গের খেলোয়াড় জায়া সায়েলুয়ার সত্যি গল্প। সামোয়ান সংস্কৃতিতে তার মতো মানুষদের বলা হয় "fa'afafine"
আশ্চর্যের বিষয় হলো ট্রান্স পিপলদের নিয়ে তাদের কোন সংকোচ নেই। শত শত বছর ধরে পলিনেশিয়ান সমাজ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছে তাদের। কোচ রনগেন জায়াকে দেখে অবাক হলেও সামোয়ানদের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তাদের কথা হলো, “ফুল ছাড়া কি পৃথিবী বাঁচে? সে আমাদের ফুল”। জায়া ছিলেন জাতীয় দলে খেলা প্রথম ট্রান্স খেলোয়াড়।
এক ম্যাচে ৩১ গোল হজম করা গোলকিপার নিকি সালাপুর গল্পও আছে এখানে। বেচারা ৩১ গোল খাওয়ার বেদনা ভুলতে এক্সবক্সে অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলে প্রতিবার ৩২ গোল দিয়ে তবেই ক্ষান্ত হতো। সে কি কামব্যাক করতে পেরেছিল?
আমেরিকান সামোয়ার পরের ম্যাচ প্রতিবেশী দ্বীপ টোঙ্গার সাথে। তাদের সাথে এক ঐতিহাসিক শত্রুতা বিদ্যমান। এতদিন তারা লক্ষ্য নিয়েছিল কোনোমতে এক গোল করে ‘ইতিহাস’ গড়ার। কিন্তু রনগেন এসে তাদের মধ্যে জেতার মানসিকতা তৈরি করেন। শেষতক কি তারা পেরেছিল লক্ষ্যপূরণ করতে?
সিনেমাটা তাইকা ওয়াইতিতির বানানো। হাসি-কান্না মেশানো তার সিগনেচার উষ্ণ আমেজ পুরো ছবিতেই জুড়ে ছিল। কিছু মেলোড্রামা আর ফরমুলাটিক এলিমেন্ট আছে, সেটা সাচ্ছন্দ্যে ইগনর করেছি আমি।
সিনেমাটা সবাইকে দেখতে রেকমেন্ড করব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

