somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিরে এসো মালঞ্চ

১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(১)
আজ থেকে ৩৩ বছর আগে বিটিভিতে বাল্যবিবাহ বিষয়ক সচেতনতামূলক একটি অ্যাড দেখানো হতো। কুদ্দুস বয়াতী চুল নাড়িয়ে, নেচে নেচে ছেলেমেয়েদের নিয়ে গান গাইতেন,
“আম খাইও জাম খাইও তেঁতুল খাইও না
অল্প বয়সে বিয়া বসলে প্রাণে বাঁচতা না”
আমার মনে পড়ে না সেই গানের বিপরীতে কট্টরপন্থী অথবা মডারেট মুসলমান, কেউ একটা কথা বলেছিল। মনে পড়ে না এটা নিয়ে কোনো আলেম ফতোয়া দিয়েছিলেন, অথবা ইসলামি বক্তারা হুংকার ছেড়েছিলেন। আমার একটা স্মৃতি মনে পড়ে, একদিন দুপুরে আমাদের কলোনির একদল ছোট ছেলেপিলে শিট পাইলের(Sheet pile) ওপর বসে খুব আনন্দ করে গানটা গেয়েই চলছিল একটানা। হয়ত সেইসময় কলোনির বয়স্ক কেউ টুপি মাথায় দিয়ে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। তিনি হয়ত তাদের দুষ্টুমী দেখে প্রশ্রয়সূচক হাসি হেসেছিলেন। কেউ তাদেরকে বলেনি যে গান গাওয়া হারাম, কেউ বলেনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা ইসলামবিরোধী।

(২)
সেদিন হঠাৎ করে ইটিভির একটা স্ট্রিট শো দেখছিলাম। ২০০১.০২ এর দিকে দেবাশীষ বিশ্বাসের উপস্থাপনায় প্রচারিত হতো এটা। আমাদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ছিল। দুই যুগ আগের সেই অনুষ্ঠানে একটা জিনিস খেয়াল করলাম, মেয়েরা কেউ হিজাব পরে নেই! এখন কি এই দৃশ্য দেখা সম্ভব? হিজাব পরা অবশ্যই যার যার নিজের ব্যাপার, এবং কেউ যদি হিজাব পরে নিজের মতো চলে, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, এই এত বছর পরে মডারেট মধ্যবিত্তদের মধ্যে হিজাব ব্যাপকভাবে আসার পাশাপাশি আরো এসেছে-
“গান-বাজনা হারাম”
“টিকা নেয়া হারাম”
“ওড়না ঠিকভাবে না পড়লে হ্যারাজ করা দোষের নয়”
“বাল্যবিবাহের বিপক্ষে বলা হারাম”
“বিধর্মীদের অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়া হারাম”
“গরুর মাংস খেয়ে মুসলমানিত্ব দেখাতে হবে”

-এ্মন নানাবিধ আচরণ।

প্রতিটা বাসায় আগে হারমোনিয়াম আর তবলা থাকত। গানের টিচারদের বেশ কদর ছিল। আবৃত্তি আর নাচ শিখত বাচ্চারা।

সব ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়েছে এখন। এখন মধ্যবিত্তরা গানের স্কুলে না পাঠিয়ে পাঠায় মাদ্রাসায়। ফেসবুকে রিল দেখতে দেখতে বাবা-মা সন্তানের কাঁধে চড়ে বেহেশতে যাওয়ার শর্টকার্ট উপায় খোঁজে।

(৩)
তাই বলছি কী, কট্টরপন্থীদের আস্ফালন আর সরকারের লাজুক নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে, কিংবা বোমা ফাটলে “এই ইসলাম আমার নবীর ইসলাম নয়” না বলে বরং সেই পরিণতি ঠেকাতে বাসায় হারমোনিয়ামটা ফিরিয়ে আনুন। বাচ্চাদের আবৃত্তি শেখান। ফেসবুক নবীদের কন্সপিরেসি থিওরি আর এনার্কিস্ট তত্ত্ব না গিলে একটু বই টই পড়েন, এবং বাচ্চাদেরও পড়ান। বোমা-চাপাতির ভয়ে জবুথবু না হয়ে যেটা ভালো লাগে একটু মন খুলে বলেন। এই পথ দীর্ঘ, এই পথে কিছু কোলাটেরাল ড্যামেজও হতে পারে, কিন্তু আমাদের বাসায় একবার হারমোনিয়াম, তবলা আর দুপুর বেলায় অলস শুয়ে থেকে পড়ার জন্যে গল্পের বই ঢুকে গেলে ‘ওদের’ যাবতীয় আস্ফালন আর ‘তাদের’ আশকারা মিইয়ে যাবে।

(৪)

আমরা সন্ধ্যেবেলায় আজানের ধ্বনি শুনে খেলা সাঙ্গ দিয়ে বাসায় ফিরেছি। আমাদের মায়েরা মাগরিবের নামাজের পর আমাদের ডেকে বুকে ফুঁ দিয়ে দিয়েছেন। সন্ধ্যায় মুড়ি মাখানো খেতে খেতে দেখেছি আধুনিক গানের অনুষ্ঠান ‘মালঞ্চ’। তারপর সবাই মিলে রাতের বেলা দেখেছি বিপাশা হায়াতের নাটক, আর শুতে যাবার সময় পড়েছি কাজি আনোয়ার হোসেন।

আমরা যদি চাই, সেই মিথস্ক্রিয়াময় এবং সহাবস্থানের ধৈর্যে আমোদিত জীবন আবার ফিরে আসবে নিশ্চয়ই। আমরা চাইলে কেউ ঠেকাতে পারবে না, এই বিশ্বাস রাখুন।


সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:০৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×