somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলোর মেলায় অশ্রুবিন্দু

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভেবেছিলাম, এবার আর পহেলা বৈশাখ নিয়ে কিছু লিখব না। নিরবে আসুক, নিরবেই চলে যাক। কিন্তু সে আর হল না। তবে, এতটা হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে যে লিখতে বসতে হবে, তাও ভাবিনি। সবাই যখন সুন্দর সুন্দর ছবি আপলোড করছে, সেই সময় এসব কাঠখোট্টা কথা লিখতে আমারও ভালো লাগে না। তবুও লিখছি।

ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ টি.এস.সি, রাজু ভাস্কর্য, শাহবাগ এলাকা জুড়ে ১৯টি সি.সি.টি.ভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিল, যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া যায়, সেখানে ছিল গোয়েন্দা সংস্থার সচেতন নজরদারী। টি.এস.সি, রাজু ভাস্কর্য- এসব এলাকা তো রাজধানীরও রাজধানী, দেশের শিল্প-সংস্কৃতি, বিপ্লব-চেতনার সবথেকে বড় আশ্রয়স্থল। এসব এলাকায় তো সারা বছরই নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকে। আর বইমেলা, পহেলা বৈশাখের মত দিনগুলোতে নিরাপত্তার বাড়াবাড়িতে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে যাবে-এমনটাই স্বাভাবিক।

যদি কেউ দয়াকরে বিগত পনের বছরে দেশের এই প্রাণকেন্দ্রে প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে ঘটে যাওয়া অপরাধগুলো হিসাব করে বসেন, আমি নিশ্চিত, অবাক হয়ে যাবে গোটা জাতি। এমনটি অবাক হবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। কিন্তু পহেলা বৈশাখের পবিত্র দিনে সন্ধ্যে ৬টায় ৩০-৩৫ জন বখাটে যুবক প্রকাশ্য রাস্তায় সবার সামনে যা ইচ্ছে তাই করে চলে যাবে, মেয়েদেরকে আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলে রাখবে, আর আশেপাশের সবাই ভুভুজেলা বাজাবে, কেউ এসব দেখবে না, পুলিশ শুনেও না শোনার ভান করে থাকবে- এই ব্যাপারগুলোকে আমি পরপর ঠিক সাজাতে পারছি না। এমনটা কি করে হতে পারে?

পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম, ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী গেটে যখন এই ঘটনা ঘটছিল, তখন সেখানে মাত্র দুজন পুলিশ ছিল। টিএসসির ডাচ-বাংলা বুথের দিকে বেশ কয়েকজন পুলিশ ছিল। আমরা তাদের এগিয়ে আসতে বললে তারা তখন রাজি হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে আমরা দুজনকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ পরে তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে জানতে পারি।’ (সূত্র: প্রথম আলো)

উপরের কথাগুলো বিশ্বাস করতে আমার ভয় হয়। আবার বিশ্বাস না করেও বা উপায় কি? অভিজিৎ রায়কে যখন হত্যা করা হয়, তখনও পুলিশের লোকজন আশেপাশেই ছিল। কিন্তু তারা এগিয়ে আসে নি। এমনটি অপরাধীদের ধরতেও পারেনি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় মেয়েদেরকে উত্যক্ত করা যে একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে, এমনটা স্বীকার করার মানুষের অভাব নেই। অথচ এসব এলাকায় সবসময়ই পুলিশের টহল থাকে। অপরাধীরা যদি পুলিশকে ভয় না পায়, বরং পুলিশ অপরাধীদের ভয় পেয়ে পালিয়ে থাকে, তাহলে লোক দেখানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার দরকার কি?

দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, খবর পাওয়ার পর সেখানে গিয়ে অপরাধের সাথে যুক্ত কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় নি। এছাড়া তাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগও করতে আসে নি!(সূত্র: দি ডেইলি স্টার)

এটা খুবই স্বাভাবিক যে, অপরাধীরা অপরাধ করার পর ধরা দেবার জন্য বসে থাকবে না। তাই এমন বক্তব্যের কোন মানে হয় না। হাইকোর্ট পুলিশের আইজিপি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর বরাবর আদেশ জারি করেছে আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে এই ঘটনার রিপোর্ট দেবার জন্য।পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে অপরাধীদের দ্রুত ধরা হবে। সেদিন গোটা এলাকায় ১৯ টি সিসিটিভি লাগানো ছিল। তাই, সদিচ্ছা থাকলে অপরাধীদের ধরে ফেলাটা মোটেও কঠিন হবে না।

আমরা চাই, অপরাধীরা দ্রুত ধরা পড়ুক, ওদের শাস্তি হোক। তবে এখানে আমি একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রশাসনের কাজ শুধু অপরাধী ধরে শাস্তি দেয়াই নয়, তাদের কাজ অপরাধ ঠেকানোও। অপরাধ হয়ে যাবার পর অপরাধী ধরেও কি ক্ষতিপূরণ করা যায়? যেমন, এখন যদি অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীকে ধরে ফেলা যায়ও, তবু কি আমরা অভিজিৎ রায়কে ফিরে পাব? সেদিনের ওই দুর্বৃত্তগুলোকে পুলিশ ধরে ফেললেও কি আর আমরা অত্যাচারের শিকার হওয়া নারীদের বিভৎস স্মৃতি মুছে দিতে পারব?

অভিযোগ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর এর নামেও। কিন্তু এত অভিযোগ চালাচালি করে কি লাভ। দোষের পিঠে দোষ চাপিয়ে কতটুকু আর পাওয়া যায়। আমাদের প্রশাসন আমাদের কতটা নিরাপদে রাখে, ভাবলে বেশ হাসি পায়। সেদিন ওই বখাটেগুলো শুধু ওই মেয়েদের উপর নয়, আমাদের গোটা সংস্কৃতির উপরই আঘাত হেনেছে। কিন্তু এমন একটি ঘটনার পর যতটা প্রতিবাদ আশা করেছিলাম, সে তুলনায় কিছুই দেখছি না। দেশে নারী অধিকার, নারী আন্দোলন নিয়ে এত কিছু। তার সবই কি লোক দেখানো? শরীরে বাহরি রঙ্গের শাড়ি, ঝলমলে অলংকার, ভুভুজেলার শব্দ আর উল্লাসের আড়ালে যদি কেউ কেঁদে কেঁদে মরে, তবু কি আমরা শুধু উৎসব নিয়েই মেতে থাকব। যে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের এত অহংকার, যে কৃষ্টির ডানায় ভর করে আমাদের প্রতিবছর এই রঙ্গিন বর্ষবরণ, সেই শিল্প-সংস্কৃতি-কৃষ্টিকে যদি কেউ আঘাত হানে, পদদলিত করতে চায়, তবুও কি আমরা চুপ করে থাকব? আমরা কি আমাদের মৌলিকত্বের চেয়ে বর্ণিলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:১৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×