somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক্তার সাহেবের ব্যবহার

২৭ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সরকারী হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগী দেখার সিডিউল অনুযায়ী ডাক্তার সাহেব আসলেন।
এসেই নির্দেশ দিলেন রোগী ছাড়া ওয়ার্ডে রোগীর সাথে অবস্থানরত সকলকে বাইরে বের হতে, নির্দেশ পেয়ে স্টাফ'রা দ্রুত সকলকে বাইরে বের করায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
মজার বিষয় হলো মানুষগুলোকে এমনভাবে বের করা হচ্ছিল যেন একটা হট্টগোল বেঁধে গেলো, যে যেদিকে পারছিল ছুটে বেরুচ্ছিল। যদিও ভাইরাসজনিত কারনে এই সচেতনতাটুকু সবসময়ই প্রয়োজন কিন্তু সারাদিন কোনভাবে সচেতন না করে একমাত্র ডাঃ সাহেব আসলেই এই কাজটুকু করা হচ্ছে। এতে কি ডাক্তার সাহেব নিরাপদ হয়ে গেলেন?

আমিতো দেখছি আরও বেশী বিপদের আশংঙ্কা!
১। এমন হুরমুরিয়ে সব মানুষগুলো চলার কারনে ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা!
২। মানুষের মনে একটা ভ্রান্ত ধারণা জন্ম নেয়া, যেমন: বড় ডাক্তার মানে এমন ব্যাপার যে রোগীর সমস্যা বলার জন্যও তার সামনে থাকা যাবেনা। একটা বাঘ বাঘ ব্যাপার আরকি! তাদের যা বলার ভয়ে ভয়ে (সাবধানে) বলতে হবে।

অথচ ' ডাক্তার হওয়ার কথা রোগীর সবচেয়ে ভালো বন্ধু'

এরপর ডাক্তার সাহেব যথারীতি তার নিয়মিত কাজ রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ শুরু করলেন। কোন রোগীর ভুল দেখলেই গম্ভীর স্বরে কথা বলছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধমকও দিচ্ছেন!

ডাক্তার রোগী দেখা শেষ করে বাইরে বেরুতেই রোগী এবং রোগীর সাথে থাকা লোকেরা বলাবলি শুরু করলেন এই ডাক্তার টা অনেক রাগ দেখায়, ভাব নিয়ে থাকে আর না বুঝে না শুনেই রাগারাগি করে।

জৈনিক সচেতন ব্যক্তি ডাক্তারের কাছে গিয়ে কথোপকথন শুরু করলেন...

জৈনিক ব্যক্তি: ডাক্তার সাহেব কেমন আছেন?

ডাক্তার: জি ভালো, আপনি কে?

জৈনিক ব্যক্তি: জি আমার নাম জৈনিক।

ডাক্তার: জি বলেন কি বলবেন?

জৈনিক ব্যক্তি: কথাটা হলো, এইযে আপনি রোগীদের দেখতে গিয়ে তাদের সাথে গম্ভীর স্বরে কথা বলেন এতে তো তারা মনে খুব কষ্ট পায়।

ডাক্তার: তাহলে আমি কি করতে পারি?

জৈনিক ব্যক্তি: আপনি কি করতে পারেন বলতে, রোগীদের সাথে ডাঃ হিসেবে অন্তত আন্তরিকতা বজায় রাখাটা উচিৎ আপনার।

ডাক্তার: আমি কার সাথে কিভাবে আচরণ করবো তা আপনার কাছে এখন শিখতে হবে? কাজের কোন কথা আছে কিনা তাহলে বলেন।

জৈনিক ব্যক্তি: আসলে কাজের কথা হলো, ডাক্তারের কাছে মানুষ আসে সুচিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে কিন্তু আপনি গিয়ে তাদের সামনে যে ধরণের আচরণ দেখাচ্ছেন তাতে তারা তো উল্টো চিন্তা রোগে আক্রান্ত হবে। এতে মূলত আপনার কোন ক্ষতি নেই। ক্ষতি হলো__ ডাক্তার নামটার, ক্ষতি হচ্ছে__ মানবিকতার। কারন দুনিয়াতে আল্লাহ্'র পরে যদি কেউ জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারে, তাহলে সে হলেন ডাক্তার।

আর হ্যা বাংলাদেশের অবস্থা বিবেচনায় রোগীর সেবা দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত জনবল গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি তাই ডাক্তারদের অনেক বেশী পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তা তো বুঝি আমরা যারা সচেতন'রা আছি। সবাই তো তা বুঝবে না। এটাও মাথায় রাখা উচিৎ।

অতএব, আমরা যে যেই পেশায়ই নিয়োজিত থাকিনা কেন, প্রথমে আমাদের সৃষ্টিকর্তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি'র মূল্যায়ণ করতে হবে নিজেকে একজন আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে। তবেই আমরা আমাদের কর্মকে সৃষ্টির সেবা হিসেবে রুপান্তর করতে সক্ষম হবো।।

মোঃ পলাশ খান
২৫/০৪/২০২১ইং
ছবি: গুগল হতে সংগৃহীত__
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ৩:০৩
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×