somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাস -বিশ্বাসঘাতকতা

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুলি হাত শক্ত শক্ত করে বক্স ধরল, অনেকটা এটেনশন হয়ে থাকা স্ট্যাচুর মত । যেন এতটা সাবধান না বক্সটা পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে যাবে ।


রিম্পা বুঝতে পারল না তার কি কিছু বলা উচিৎ কি-না । তার কাছে সব অলৌকিক অলৌকিক লাগছে । যে বোন স্কিন ক্যান্সার হওয়ার মত হাস্যকর অজুহাত দেখিয়ে কখনো মেকাপ নেয়নি,সে আজ আগ্রহ ভরে বলছে, 'রিম্পি, তোর মেকাপ এলিমেন্টসগুলো একটু দিয়ে যাস তো ! '


বিস্ময়ে রিম্পা কথা পর্যন্ত বলতে পারেনি । এর মাঝে তুলি আবার জিজ্ঞেস করে ফেলেছে, 'ফাউন্ডেশন কি রে ? আমায় শিখিয়ে দিবি একটু ? '

লিমন ভাইয়ের সাথে দেখা করার সময় এমন করে সাজেনি কখনো । তবে ? তাদের মধ্যে একটু মনোমালিন্য চলছে সেটা টের পায় রিম্পা, তবু জিজ্ঞেস করার সাহস পায়না । দু'দিন মনমরা থেকে আজ হঠাৎ সাজগোজের রহস্য কি? 'আপা,বাইরে যাবি ? '
-'নাহ । কেন বলতো ? '
-' না, মানে এমনি । তাহলে এত সাজছিস যে ? '

তুলি উত্তর দেয়না । হাসে ।
রিম্পা বলার মত কিছু না পেয়ে উসখুস দাঁড়িয়ে থাকে । 'কিরে,কিছু বলবি রিম্পা ? '

রিম্পা কিছু বলেনা । কিন্তু তার খুব জানতে ইচ্ছা করছে আপা কি ওই হাবলা ছেলেটার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে কিনা । যে ছেলেটার সম্পর্কে বাবা কাল খাবার টেবিলে বলছিল । কী ব্যাংকের ম্যানেজার না কি যেন।

বাবা বলতেই আপা টেবিল থেকে উঠে গিয়েছিল । সে ছেলের সাথে দেখা করার জন্য এত সাজসজ্জা ?

রিম্পা কিছু না বলে চলে যেতে লাগল । তার বোনটা রবীন্দ্রযুগের মেয়েদের মত অভিমানী হয়েছে । চোখে পানি টলটল করছে আর তার সামনে মুছতেও লজ্জা পাচ্ছে ।


দরজার কাছে একটু থেমে বলল,'আপু ভেজা চোখে কাজল দিতে হয়না । স্বামী অপঘাতে মারা যায়। '

রিম্পা চলে যাচ্ছে । তুলির ইচ্ছা হল ও কে ডেকে সব বলে দেয় । সব বলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল সে । 'রিম্পা শোন্ । আচ্ছা থাক্ যা । যাওয়ার সময় দরজা চাপিয়ে দিয়ে যা । '


তুলি খুব দ্রুত তার চোখ মুছে যাচ্ছে । চোখের পানি গালে মিশে টানটান লাগছে । চোখে অযথা পানি আসছে কেন ? তার তো মন খারাপ লাগছে না । তুলি মেকাপে মন দিতে চেষ্টা করল । টানটান গালে দ্রুত ক্রিম বসছে । এটাকে কি ফাউন্ডেশন বলে ? ফাউন্ডেশন না বিল্ডিং এটা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই । সে আজ নিজের মত করে সাজবে । শুধু নিজের জন্য । সবাই শুধু বাইরে বেরোলেই সাজে কেন ?


সাজা শেষ হলে আম্মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে কবে দেখা করতে হবে ?


দেখা না করেই সম্মতি দিয়ে দিলে কেমন হয় ? দেখাদেখি তো অনেক হল । না দেখেও যদি বিশ্বাস আসে,তবে দেখা করার দরকার নেই তার ।

বিয়ের কথা শুনলে রিম্পা নিশ্চয়ই অবাক হবে । তারচেয়েও বেশি অবাক হবে তার মা ।

লিমনের সাথে তার সম্পর্কের কথা সবাই জানে । যেটা জানেনা সেটা হল লিমনের সন্দেহ প্রবণতা । একজন ওথেলো সিন্ড্রোমে আক্রান্ত মানুষের সাথে আর যাই হোক ঘর করা যায় না ।

প্রত্যেকটা ফোন কল আর মেসেজের হিসাব দিয়ে আর কত চলা যায় ? গত তিন বছরের প্রত্যেকটা দিন কেটেছে কৈফিয়ত দিতে দিতে । প্রথম প্রথম কেয়ারিং মনে হত । তারপর বিরক্তি ।

স্কুলে পিকনিকে কার সাথে কেমনে ছবি তুলেছিল সেটা ও বের করে জেরা শুরু করল লিমন, যেন সেগুলোর বাঁকা কোন অর্থ আছে !

তার তো ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে একটা ব্যাপার আছে । তাই সরে যাওয়াই তার কাছে সঠিক মনে হচ্ছে । তারপরেও তার বড় বোনের পালিয়ে বিয়ে করার খোঁচা দিয়ে বংশের দোষ না দিলে হয়তো...


থাক,নতুন একজন কম জানবে, কম ভালবাসবে হয়তো । তবু বিশ্বাস তো করবে ।

চোখ দিয়ে খুব বেশি পানি আসছে । অনেক দিনের অনেকগুলো স্বপ্ন মুছে যেতে পানি একটু বেশিই লাগবে । সারা রাস্তা হেঁটে হেঁটে চিপস খাওয়া কিংবা এক আম দুজনে ভাগ করে খাওয়ার স্বপ্ন আর পোড়া ভাতের ডিনারের স্বপ্ন ধুয়ে যাচ্ছে ।


লিমনের বন্ধুরা কেউ কেউ তাকে বিশ্বাসঘাতক বলবে । বলুক । যেখানে বিশ্বাসই নেই সেখানে বিশ্বাসঘাতকতা হয় কিভাবে ?

তুলি সাবধানে চোখ মুছে দিচ্ছে যেন কাজল লেপ্টে না যায় । চোখের জলে কাজল আর ক্রিম মিলে কালচে শেড তৈরি হয়েছে । মেকাপ এলিমেন্ট হিসেবে চোখের জল খারাপ না । তুলি হেসে ফেলল ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×