মননশীলতা মূলত কি? এর সংজ্ঞ্যা আমি এখনো নিরূপন করতে পারিনি। তবে আমার ধারনায়, মননশীলতা হলো মানবিক জায়গার সেই স্তর, যেখানে পৌঁছালে মানুষ সত্যি সত্যি সামাজিক হয়ে উঠে। তাহলে সেই স্তরটা'ই বা কি? এর প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন করাটা একেবারই অযৌক্তিক নয়। উত্তরটা আমার জানা নেই, তবে এ প্রকাশনার(পোস্ট) উদ্দেশ্য হলো তা খুঁজে বের করা।
উত্তরাধুনিক এই সমাজে আমার দেখায় অনেকেই আধুনিক হতে পারিনি। আধুনিক প্রসঙ্গটা তুলে আনাটা এখানে আবশ্যক। কারন হিসেবে মনে করি 'মননশীলতা' এখানে খুব ভালোমতোই জড়িত। আমার ভাবতেই খুব অবাক লাগে, আধুনিকতার সাথে অনেকেই অশ্লীলতা জড়িয়ে ফেলেন। আমার প্রায়ই সময় মনে হয়; 'আধুনকিতা' এই শব্দটা দুই দল লোক দুই ভাবে ব্যবহার করেন। রক্ষনশীল মানুষেরা সবসময়ই এই শব্দটা ভালোভাবে দেখেন নি। তারা পূর্ব সংস্করন আঁকড়ে ধরে রাখতে চান। এমন কি কোনো সংস্কার যদি জীবন যাত্রা বিপন্ন করে দেয়, সেটাও তারা পরিবর্তনে অনাগ্রহী। কারন এটা তাদের নিজেদের দোষ ভেবে অপরাধীর জীবন বয়ে যেতে দ্বিধাবোধ করে না। মানুষের মুক্ত চিন্তায় তাদের যত ভয়! কিন্তু আমার ধারনায়, তারা যে সংস্কার মেনে চলছেন সেটাও কারো না কারো নিয়ম ভাঙ্গা চিন্তার ফসল। যেমনঃ সতীদাহ প্রথা, মিলাদ মাহফিল, দরগা শরীফ, মাজারে সেজদা দেওয়া, প্রতীমা মূর্তি পূজা ইত্যাদী। এখানে একটা বিবাদের বিষয় আছে, আমরা যে অর্থে মুক্ত চিন্তা বুঝি বাস্তবে তেমনটা লক্ষ পাইনা। যেমন কোনো একজন ব্যক্তি তার সুবিধার জন্য একটা প্রথা চালু করলেন, সেটা হতেই পারে দরগা শরীফ, মাজার, অথবা ভিন্ন কিছু। তাহলে সে, সমাজের প্রচলিত ধারার চিন্তার বলয় ভেঙ্গে নতুন ভাবে, কিংবা তার মতো করে মুক্তভাবে চিন্তা করলেন। আর এধরনের চিন্তার ধারাকে কখনোই মুক্ত চিন্তা ভাবনা বলা চলে না। চিন্তার মুক্তি ঘটলেও আদর্শিক কিছূ ঘটেনি। তাই সত্যিকার অর্থেই মুক্ত চিন্তা বলতে, সেই চিন্তা ধারাকে বুঝতে হবে যা আদর্শিক এবং মানুষের প্রয়োজন সাপেক্ষ।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


