somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধার্মীকরা শুনুন

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতি বছর হজ্বে লাখ লাখ মানুষ যায়। এই পুন্যের কাজের সাথে জড়িয়ে আছে নানান রকমের ব্যবসা। আমার বাবার আদম ব্যবসা, সেই সুবাদে এসব সম্পর্কে কিছুটা জানা আছে। যদিও বাবা হজ্বের ব্যবসাটা করেন না। তার নানা কারণ আছে। সেই ফিরিস্তি দিতে চাইছি না এখন। আপনারা মনে হয় জানেন এক সময় এদেশে অনেকেই হজ্বে লোক পাঠানোর নামে মানুষ পাচার করতো। বিশেষ করে রোহিঙ্গা। এছাড়া হজ্বে যারা যায় তাদের সবার কোরবানী কোন একটা নির্দিষ্ট এলাকায় দেয়া হয়। আমাদের মতো গলিতে গলিতে হয় না। তাই কোরবানীর সাথে অনেক হাজীর সম্পৃক্ততা থাকে না। সেই কোরবানীর টাকা অনেকই মেরে দিতো। এখন এ বিষয়গুলো অনেকটাই কমেছে। তবে ততদিনে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। হ্জ্ব করেন প্রতি বছর।

অনেকেই বলতে পারে এই গুটি কয়েক মানুষের জন্য তোমরা ইসলাম ধর্মকে কেনো গালি দাও। না আমি এই গুটি কয়েকের জন্য ধর্মকে গালি দিতে চাই না। শুধু বলতে চাই, মুসলিম ব্রাদারহুড কোথায়? গুটি কয়েকের চাইতেতো ভালো মানুষ বেশি। তাইতো দাবি করছেন। তাহলে প্রত্যেকে দেশে ফিরে হজ্বের বানী কি পৌছাতে পারছেন? এলাকার চোর তো আরো বড় চোর হচ্ছে। আপনাকে দেখলে হাজী সাব বলে চেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে। এতে আপনি এতোই খুশি হন যেনো এই জন্যই হজ্ব করেছেন। তাই সারা জীবন নামের পাশে হাজী টাইটেলও থাকে। তবে উল্টোও ঘটে, অনেক সাদামাট মানুষকে আজ চোর কিসিমের হাজী সাহেবের জন্য চেয়ার ছেড়ে দিতে হচ্ছে। আর এমন হাজীই বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু দেখলাম তাদের সতর্ক করা, বা ঠিক পথে চলার জন্য কোন দিক নির্দেশনা মনে হয় মুসলিম ব্রাদারহুড সমাজে নাই। শুধু নাস্তিক কতলের নির্দেশই আছে।

এতো গেলো একদিক। আমার আব্বা আম্মা দু'জনই হজ্ব করেছে। অন্যদের নিয়ে বললে ধর্মানুভুতি টানবে। তারচেয়ে নিজের কথাই বলি। তারা আমাকে বুঝালেন পাপ মোচনে গেছেন। কোন সমস্যা নাই। সেখানে গিয়ে পাপ মোচন হলে আমি নিজেও যাবার ইচ্ছা পোষন করি। কিন্তু আমার প্রশ্ন ছিলো যদি পাপ করেই থাকেন, তবে আপনাদের অনেক ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ পাপের ভোক্তভুগি অনেকেই হয়েছেন। তাহলে আপনি না হয় পাপ মুক্ত হলেন। কিন্তু যার ক্ষতি হবার সেতো এখনো উঠে দাঁড়াতে পারে নি। সে কি করবে?

একজন ডেভেলাপার, আদম ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পাইকার, সচিব, অধ্যাপক, নেতা, সাংবাদিক, ডাক্তার, উকিলসহ আরো অন্যান্য পেশায় কি পরিমান জোচ্চুরি তা কে না জানে? এসব বললেই বলে ভাই জেনারেলাইসড করবেন না। সবাই করে না। আমি বলি উল্টা, সবাই করে, কেউ কেউ করে না। কেউ কেউ দিয়ে আলোচনাও চলে না। এই বাটপারগুলাকেই দেখেছি, হজ্ব করে, দেশ বিদেশ ঘোরে। এলাকায় ঈদে, পূজা পার্বনে যায়। আপনারা সকলে মসজিদ, এতিম খানা, মাদ্রাসার টাকা নেন তাদের কাছ থেকে। একটাবার জিজ্ঞেস করেন না ভাই আপনার টাকা কোথা থেকে এলো।

আপনারা রুহ আফজা মাগরিবের আজান অথবা প্রান লাচ্ছি ইফতারের সময়সূচি হজম করতে পারেন। পিএএচপি এরাবিয়ান হর্স কোরআনের আলো দেখতে পারেন। হজ্ব নিয়েই ব্যবসা হচ্ছে। হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন অনেকে। সব হজম করতে পারেন। খালি আপনাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে কিছু দেখিয়ে দিলেই আপনাদের আঁতে ঘা লাগে। অথচ আপনার যখন ঘরে বসে ছিলেন তখন, তারাই ফিলিস্তিন, মায়ানমার, মিশর, তিউনেশিয়া, লিবিয়িা বা পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে যেখানে মুসলীমদের উপর নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে তার প্রতিবাদ করেছে রাস্তায় নেমে। এমন কি আপনাদের চরম ঘৃনার বস্তু "ব্লগে"। এই প্রতিবাদের মাধ্যমে তারা বুঝাতে চেয়েছে ধর্ম বড় নয়, ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কেউ তার সাম্রাজ্য স্থাপন করতে চায় পুরো মধ্যপ্রাাচ্য অথবা আমার এই এশিয়া জুড়ে।

আমি এসব বিষয় নিয়ে কখনোই কথা বলতাম না। খুব আতেল কিসিমের আহ্বান ছিলো। ধর্মের নামে হানাহানি করো না। কিন্তু দিন দিন এই বঙ্গে ইসলাম পন্থিদের এক ধরনের জোর করে নিজের ধর্ম অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া, আলোচনা না করা, এবং এতো খুন আমাকে নতুন ভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। আমি ভাবতে থাকি আমরা কি এতোটাই কট্টোর ছিলাম কখনো? হয়তো ছিলাম। না হয় লাল শালূ উপন্যাস হয় কি করে? আবার গতকাল দেখলাম সঙ্গীত শিল্পী আনুশেহ কে কি করে ধার্মীকরা সুন্দরবন এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে। কোন পরিবর্তন হচ্ছে কি আদতে? দেখা যাবে একজন ইঞ্জিনিয়ারও এসবের বৈধতা দিচ্ছেন। আবার মাদ্রাসার ছাত্রও দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে মতপার্থক্য কম পাচ্ছি আজকাল। আবার দেখছি যার স্বার্থে আঘাত লাগছে সে আবার তখন তার মতো করে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

যারা আল কায়দা, আইএস, হরকাতুল জিহাদ অথবা জেএমবি তারা এসব করবেই। তারা এসাইন্ড। এদের কাজ ইসলাম না, অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। কিন্তু আপনি, যে মানুষ শিক্ষিত সে কি করে এ ধরনের হামলা জাসটিফাই করেন? কার সমর্থন বাড়ে? আইএস আল কায়দা, জেএমবি কোথা থেকে সাহস পায়? আপনি খুন করতে নাও পারেন কিন্তু আপনার এই শুকনো ধর্মানুভুতি যা কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই জানে না, জানে কেবল নাস্তিক মারার বৈধতা দিতে সেই ধর্মানুভতি আদতে জঙ্গীবাদকেই প্রশ্রয় দেয়। সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস থাকলে তার কাছেই প্রশ্ন ছুঁড়ুন, আমাদের সবার রক্তের রঙ ভিন্ন নয় কেনো? যতোবার কতল করলেন বা বৈধতা দিলেন সেই একই রক্তই তো দেখলেন। ভিন্ন কিছু কি দেখলেন?

(০৪ এপ্রিল ২০১৫, পল্টন)

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:২১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×