somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"একজন খুনি রফিকুল আর বেঁচে যাওয়া নাজমুলের গল্প অথবা দুটো চিঠি...."(প্রথম পর্ব)

২৩ শে মে, ২০১৫ রাত ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
হয় ঢাকা ছাড়তে হবে কিছুদিনের জন্য, না হয় থাপড়াইতে হবে। এতে যদি একটা লোকও পাশে না থাকে সমস্যা নাই.। পৃথিবীর নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে যদি পরিচিত হই কোন আফসোস থাকবে না। ইনফেক্ট আমি একদমই ভালো মানুষ না। এতো এতো ভালো মানুষের ভিড়ে একজন খারাপ মানুষ হলে সমস্যা নাই। আমি নাজমুইল্লারে মারবোই। তার সাথে জোট বাঁধা শুয়োরের বাচ্চাগুলারেও। এইভাবে রফিকুল মনে মনে বলছিলো তার ক্ষোভের কথা। কিন্তু রফিকুল বুঝতে পারছে না, কবে এবং কখন কিভাবে এই থাপ্পড়গুলো সে দিবে। তার ক্ষোভ পুষে রাখতে রাখতে এতোটাই ক্ষিপ্ত যে একখন অনেকেই তাকে পাগলা কত্তা বলে। কিন্তু পাগলা কুত্তা বলুক আর যাই বলুক এতে তার কিছু আসে যায় না। তার একটাই কথা, বিনা দোষে তাকে কেনো দোষী করা হলো। এবং এর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত রফিকুলের এই ক্ষোভ দমবার নয়। যা সে পুষে আসছে বছরের পর বছর। সে এক প্রকার প্রতিজ্ঞা করে আছে, থাপ্পড় সে মারবেই নাজমুল গংদের। এসব ভাবতে ভাবতে রফিকুল দেখে একটা নিঃসঙ্গ কাক কার্ণিশে বসে আছে। যেনো বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে কাকটি। কাকটার কয়েকটা পালক এরই মধ্যে ঝরে পড়েছে। গত সন্ধ্যার তুমুল ঝড়ে তার শরীর আর শরীর নেই। বিদ্ধস্ত শরীর নিয়ে এক পলকে চেয়ে আছে সামনে দিকে। রফিকুল নিজেকে সেই কাক মনে করে। রফিকুলের মেয়ে অনন্যা বারান্দায় এসে বাবার হাত ধরে। তিনি ক্ষাণিকটা সময়ের জন্য সব ক্ষোভ ভুলে যান।

২.
দু'দিন পর রফিকুলে মাথা আবারো ভিষণ রকমের খারাপ হয়ে ওঠে। মুলতো খারাপ হবার কারণ একটা ছুরি। যে ছুরিটা সে আর তার মেয়ে খুব শখ করে কিনেছিলো ফল কাটবে বলে। বাবা মেয়ের সংসার। তেমন বেশি কিছু নেই তাদের। তাই সংসারের প্রয়োজনে নতুন কিছু কিনলেই এক ধরনের উচ্ছাস কাজ করে তাদের মধ্যে। অনন্যা বাসায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে। রফিকুলও অফিস যাবে বিকেল করে। খালি বাসায় হঠাৎ ডাইনিং টেবিলে ছুরিটা পড়ে থাকতে দেখে রফিকুলের এক ধরনের এটা ধরে দেখতে ইচ্ছা হয়। সে টেবিলের কাছে যায়।আবার যায় না। এক প্রকার উন্মাদনা কাজ করছে তার মধ্যে। সে বুঝতে পারছে না ছুরি দেখে হাত কাঁপার কি আছে? কিন্তু হঠাৎ সে আবিস্কার করে এই ছুরিই যেনো খুঁজছিলো গত ২৭ বছর ধরে। কাকে যেনো মারার জন্য এমন ছুরি তার প্রয়োজন ছিলো খুব। কিন্তু সে পায়নি। আজ ছুরিটা পেয়ে তার মনে হতে থাকলো, ছুরিটা দিয়ে মাত্র একটি আপেল কাটা হয়েছে। কাজেই ধার থাকতে থাকতে এর সঠিক ব্যবহার না করলে তার ব্যর্থতা ভরা জীবনের ষোল কলা পূর্ণ হবে। তাই সে আর দেরি করতে চায় না। সে ছুরিটা নেয় আর আলমারিতে খুব যত্ন করে লুকিয়ে রাখা লিস্টাটা বের করে। সবার প্রথমে দেখে নাজমুল নামটা। এবং সেখানে এদলা থুতু ছেটায় এবং বলে ওঠে, ফাইনালি আই এম কামিং।

রফিকুল গত সাতাশ বছর নিয়ম করে নাজমুলের কর্মস্থল এবং বাসার ঠিকানা খুঁজে রেখেছে। বাসা বা চাকরি যেটাই বদলাক না কেনো তার খবর রফিকুলের কাছে ঠিক ঠিক পৌছে যায়। এই সাতাশ বছরে নাজমুল মোট পাঁচটি চাকরি ছেড়েছে। তার সেই দালাল কিসিমের কিছু না বোঝা হাবাগোবা চেহারা এখনো ঠিক একই রকম। নাজমুলের সাথে কোন প্রতিষ্ঠানেরই কখনো বিরোধ চলতো না। কেবল মাত্র অন্যত্র ভালো বেতনের সন্ধান পেলেই নাজমুল চাকরি ছেড়ে যেতো। তো নাজমুলের চরিত্রের আরো গভীর বর্ণনা করতে একটা ছোট্ট গল্প না টানলেই নয়। বহুবছর আগে রফিকুল তার এক আদিবাসি বন্ধুর সাথে খাগড়াছড়ি যায় একটা অফিসের কাজে। বন্ধুটির বাড়ি খাগড়াছড়িতে হওয়ায় হোটেল বা সার্কিট হাউজে ওঠার দরকার পড়েনি তাদের। তো পাইচিং বহু মাসপর বাড়ি যাওয়াতে তার বাড়িতে থাকা কুকুরটি খুশিতে গদগদ হয়ে ওঠে। প্রভুভক্তি কাকে বলে তা রফিকুল সেদিন দেখে। দু’হাত উপরে তুলে পাইচিংকে আগলে ধরতে চায়। জিহ্বা দিয়ে চেটে পুটে একাকার। আবার কখনো মাটিতে শুয়ে নানান কসরত। এভাবে দেখেতে দেখতে মিনিট পাঁচেক। একসময় রফিকুলের মনে হয় পশু বলেই দৃশ্যটি দেখতে ভালো লাগছে। কিন্তু মানুষ এমন করলে কেমন লাগতো? রফিকুলের মেজাজ খারাপ হতে থাকে। সে ভাবে মানুষ হলে এক থাপ্পড় দিয়ে মাটিতে শুইয়ে দিতাম। কিন্তু পরোক্ষনেই তার সেই নাজমুলের কথা মনে পড়ে যায় এবং রফিকুল ভাবে মানবকুলেও এমন প্রভুভক্ত কুকুর সমেত কর্মচারি আছে। যারা মালিকের পা সব সময় চাটতে থাকে। আসলে গল্পের প্রয়োজনে নাজমুলের চরিত্র বর্ণনা করতে রফিকুল এর চাইতে আর কোন ভালো উদাহরণ দিতে পারেনি। তাই এখানে রফিকুলকে একা দোষ দেয়া ঠিক নয়। কারণ গল্পকার নিজেও আর কোন উৎকৃষ্ট তুলনা খুঁজে পাচ্ছিলো না। গল্পে ফিরে যাই।

৩.
রফিকুল আজ বেশ সকাল সকাল উঠেছে। আজই সে নাজমুলের উপর প্রতিশোধ নিবে বলে মনস্থির করেছে। রফিকুল ঠিক করেছে নাজমুলকে তার বাসার সামনেই ধরবে আজ। তাই বাসার সামনে চলে যায়। ঠিক সাড়ে আটটা বাজতেই রফিকুল দেখে নাজমুল তার আলিশান এপার্টমেন্ট থেকে বের হয়। কিন্তু যা দেখে সে আশাহত হয় তাহলো, গাড়ি। নাজমুলের চুলে মোটামুটি ভালোই পাক ধরেছে। কিন্তু আগের মতোই হালকা পাতলা গড়নের। রফিকুল এতো দিন এতো কিছু নিয়ম করে খোঁজ খবর রাখলেও সে এটা খেয়াল করেনি যে ২৭ বছর আগের মতো নাজমুল এখন আর টিফিন ক্যারিয়ার হাতে নিয়ে হাটতে হাটতে মোহাম্মদপুর থেকে অফিস করতে আসে না। গত সাতাশ বছের তার বেতন বেড়েছে প্রায় নয়গুন। কি করবে এখন রফিকুল তাই ভাবতে থাকে। (চলবে)

(২২ মে ২০১৫, পল্টন)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৫ রাত ১২:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×