somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমাজে প্রচলিত ভুল ধারনা ( সচেতনতামূলক পোষ্ট ) ১৮+

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

* প্রথমেই এই লেখাটার একটা শানে নুজুল দিয়ে নেয়া দরকার। গল্পটির মূল কথক স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ডাক্তার। স্ত্রী পোস্টেড ঢাকা মেডিকেলে, স্বামী বাংলাদেশ মেডিকেলে। স্ত্রী গাইনেকোলজিস্ট, স্বামী মেডিসিন। আমি লেখকের অনুমতি সাপেক্ষে এবং সচেতনতা তৈরীর জন্য এখানে শেয়ার করছি। *



# (ডাক্তারনীর জবানীতে) #

গতকাল পার্টি থেকে ফিরে আমাদের দুজনেরই মনে হচ্ছিল এই ঘটনাটা আমাদের দেশের সকল অবিবাহিত যুবক-যুবতীর জানা থাকলে কতোই না ভালো হতো।

সাড়ে তিন বছর আগের ঘটনা। সকালের আউটডোর আর একটা সিজারিয়ান শেষ করে বাসায় ফিরে খেয়ে চেম্বারে যখন ঢুকলাম তখন পাচটা বাজতে পাচ। ঢুকতেই পথ আটকালো এক দীর্ঘাঙ্গী। মাথাটা তুলেই একটা ধাক্কা খেলাম। এই মেয়ে থ্রি-পিছ পরে মাথায় ওড়না তুলে রেখে তার রূপের তেমন কিছুই ঢাকতে পারেনি। বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগীতায় গেলে টপটেনে থাকতো। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই অপরাধী এবং আবেদনের সুরে বললো, ‘আমার সিরিয়াল অনেক পেছনে। আমি এ এলাকায় থাকি না। আমার হাজবেন্ড জানে না আমি ডাক্তারের কাছে এসেছি। ও অফিস থেকে ৬:৩০ এর মধ্যে ফিরে আসবে। এর আগে যদি আপনি আমাকে একটু সময় দিতেন।’ কি মনে হলো, উপস্থিত রোগীরা দেখি তাকিয়ে আছে। একটু উচু গলাতেই বললাম, একে দশ মিনিট সময় সবার আগে দিলে কেউ কিছু মনে করবেন কি? কাছে যারা ছিল তারা বেশ সহজেই সায় দিল। ঢুকে গেলাম রুমে। বসতে বসতে মেয়েটাকে ভালো করে দেখলাম। একহারা গড়ন। ঘন কালো চোখে পড়ার মতো চুল। ঠিকমাপের স্বাস্থ্যের অধিকারী। জিজ্ঞেস করলাম, কি সমস্যা?
উত্তর এল, ‘আমার পিরিয়ড নিয়ে ট্রাবল হচ্ছে’
কমন প্রবলেম।
- নাম আর বয়েসটা বলেন আগে।
- ........ মিলি (কাল্পনিক)। ২২-এ পড়লাম গতমাসে।
- কি করেন?
- ডিইউ-তে পড়ি। (ইয়ার/সাবজেক্ট বললাম না, সাথের অনেকেই চিনে ফেলবে)
- পিরিয়ডে কি ট্রাবল?
- অনিয়মিত, যা আগে ছিল না। ব্লিডিংও ফ্লো উল্টাপাল্টা। তাছাড়া পিরিয়ডের সময় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাথা করে। শরীরটা অ-নেক খারাপ লাগে।
- লাস্ট পিরিয়ড কবে হয়েছে?
মানসিকভাবে প্রেসক্রিপশন লেখার জন্য তৈরি হয়ে গেলাম।
- পরশু শেষ হয়েছে। সমস্যা আরেকটাও হচ্ছে। আমার ঘুম কমে গেছে। সারাক্ষণ খালি অস্থির লাগে। ঘুম আসে না। খালি এপাশ ওপাশ করি। পিরিয়ডের সময় তো আরো খারাপ থাকে।
থেমে গেলাম, আরেকটু বুঝতে হচ্ছে।
- ম্যারিড কতদিন?
- প্রায় পাচ মাস।
- কন্ট্রাসেপটিভ কি ব্যবহার করেন? পিল না কনডম?
থেমে গেল মেয়েটা। মুখটাও একটু কেমন যেন হয়ে গেল।
- কিছু না।
- মানে? কিছুই না?
ভাবলাম বাচ্চা নিতে চাইছে হয়তো।
- আসলে কিছু ব্যবহার করা লাগে না।
লাগে না? থমকে গেলাম – এ সময়ই আমার ‘বিগার হাফ’-এর ফোন এল। ওর বন্ধুর বেবি হবে। কয়েকদিন বাকি মাত্র, কিছু কম্প্লিকেশন হচ্ছে। কথা বলবে।

মেয়েটাকে ইশারা করলাম বেডে উঠে যেতে। শুয়ে পড়ার পর তলপেট যখন উন্মুক্ত হলো হাজারো মেয়ের সব দেখা আমিই ফোনে কথার মাঝে থমকে গেলাম। ইর্ষনীয় সৌন্দর্য। বেসিক চেকআপেই বুঝলাম এতো সুন্দর অঙ্গটার কোন ব্যবহারই হয়নি আজ পর্যন্ত। অন্যমনস্ক হয়ে গেলাম। এই মাপের সুন্দরী এতোটা বছর অনাঘ্রাত থাকলো কিভাবে এই দেশে তাই ভাবছি। এদেশে শকুনের তো কোন অভাব নেই। ফোনে আমার হাবি শেষমেশ জিজ্ঞেসই করে ফেলল, তুমি কি ‘অন্য কিছু’তে ব্যস্ত নাকি? এটা ওর একটা বিশেষ জোক। ‘সুন্দর সুন্দর মেয়েরা যখন কাপড় খুলে ফেলে তখন মাথা ঠান্ডা রাখো কিভাবে?’ আমারও বাধা উত্তর, রাতে তোমার উপর শোধ তুলি। কিন্ত সেরকম কিছু বললাম না, ‘পেশেন্ট দেখছি’।

আবারো মেয়েটার মুখের দিকে তাকালাম। ফোনের কথার হু-হা উত্তর দিচ্ছি আর বোঝার চেষ্টা করছি মেয়েটাকে। অসাধারণ সুন্দরী, কিন্তু ঝাঝালো নয় – খাটি মাপের মিষ্টি। উপরওয়ালা তার ফ্রি সময়ের অনেকটাই খরচ করেছেন এর পেছনে। অনেক প্রশ্ন জমা হতে থাকল মনের ভেতরে। ফোনের কথা শেষ হতে অনেকটা সময় লেগে গেল। এর মধ্যেই অ্যাটেনডেন্ট মুখ দেখিয়ে বুঝিয়ে গেল বাইরের অপেক্ষমানরা খানিকটা অধৈর্য হতে শুরু করে দিয়েছে।

- বাসা কোথায় বলতে প্রবলেম আছে?
- নাহ, আপনাকে থাকবে কেন? ...... রোডে।
- আপনি তো ডিইউতে? ক্লাস থাকে কখন?
- আপনি তো আমার সিনিয়র আপু। তুমি বলেন। আর আমার ক্লাস একটার মধ্যেই সাধারণত শেষ হয়ে যায়। একটা দশ বা দেড়টার বাস ধরি।
- কাল বা পড়শু ক্লাস থাকলে ক্লাস শেষ করে ঢাকা মেডিকেলে চলে আসেন। আপনার যে সমস্যাটা আমার সন্দেহ হচ্ছে তা নিশ্চিত হতে গেলে আরো একটু কথা বলা লাগবে। আমার একটু বোঝা দরকার। আজ বেশি সময় দেয়া যাবে না। প্লাস আপনারও এখন রওয়ানা করা উচিত।
- আমার সমস্যাটা কি খুবই খারাপ?
- খারাপ না, বাট গুরুতর সমস্যা বলেই মনে হচ্ছে।
বলে হেসে ফেললাম। সুন্দর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।
- ঘাবড়াবার কিছু নেই। আপনার কোন অসুখ হয়নি বোধহয়, তবে সমস্যা হয়েছে একটা।

একটা কার্ড বের করে সবসময় খোলা থাকা নম্বরটা দাগ দিয়ে বললাম, এটাতে ফোন করে চলে আসবেন। মেয়েটা বেরিয়ে যেতে বেলটা বাজালাম। শুরু হলো আমার স্বাভাবিক কাজকর্ম।

রাতে বিছানায় হুটোপুটির পর আমার ও’কে খুলে বললাম সব। শুনে বলল, তোমার আমার ডায়াগনোসিস মিলে যাচ্ছে। বাট, পুরোটাই হাইপোথেসিস। অনেকগুলো প্রশ্ন আছে। পুরো ব্যাপারটা কারেক্ট এন্ড ক্লিয়ার করে জানতে হবে। শুধু কেমিক্যাল মেডিসিনে কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। আমি হুম বলে হারিয়ে গেলাম ওর বুকের মাঝে।

পরের দিন কল এলো না, আমিও ব্যস্ততায় কিছু মনে করতে পারি নি। কল এলো তার পরদিন। আসতে বললাম। ডক্টরস লাউঞ্জের এক কোনায় বসলাম মেয়েটাকে নিয়ে। বসেই খুব বিব্রত ভঙ্গিতে বলল, ‘আজ টাকা নিয়ে বের হতে খেয়াল নেই, ব্যাগে যা ছিল তার অনেকটাই শীট ফটোকপিতে চলে গেছে। আপনার ভিজিট পুরোটা নেই আমার কাছে। আপনাকে ফোন দিয়ে বোকা হয়ে গেছি। সরি আপু।’

- এখানকার এই দেখাটা আমি করতে বলেছি, এর জন্য ভিজিট লাগবে তো বলিনি।
- আপনি কিন্তু আমাকে তুমি বলবেন। আপনি বললে আমার কেমন জানি লাগে।
- ঠিক আছে। শুরুতেই তোমাকে একটা কথা বলে রাখি। ডাক্তার আর উকিলকে কিছু লুকাতে নেই। বিশেষ করে ডাক্তারকে। একটা ভুল তথ্যে ভুল ডায়াগনোসিসে জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার ঘটে যেতে পারে। যদি বলতে না পারো তবে কথা শুরু করে কোন লাভ নেই।
- আপু, আমি বাইরে যতই সাহসী দেখাই না কেন, ভেতরে ভেতরে আমি খুবই লাজুক। কিন্তু পরশু আপনার সামনে অতো সহজে আমি যেভাবে কাপড় খুললাম, তাতে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেছি। আপনার সামনে তেমন খারাপ বা লজ্জাও লাগেনি।।
- আমার সময় মাপা, আবার বসতে হতে পারে পুরো বিষয়টা বুঝতে। একবারে বেশি সময় দিতে পারবো না।
- আমার তো কোন সমস্যা নেই। আপনি যে নিজে থেকে টাইম দিচ্ছেন এই তো আমার কাছে কতো বড়।
- বেশ, যে প্রশ্নগুলো করব তার সরাসরি এবং ঠিক উত্তর দিবা। ঘোরানো প্যাচানো চলবে না। লুকানো বা এড়ানো চলবে না। যেটা বুঝবা না সরাসরি জিজ্ঞেস করবা।
- জি।

হ্যান্ডব্যাগ থেকে একটা প্যাড বের করে নিলাম। সংগে মোবাইল বের করে ভয়েস রেকর্ডারটা অন করে জিজ্ঞেস করলাম -
- রেকর্ড করলে সমস্যা নেই তো?
- না না। আপনার তো আর বাজারে ছাড়ার ইচ্ছা নাই।
হেসে ফেললাম।
- এ্যারেঞ্জ মারেজ নিশ্চয়ই?
- হ্যা
- আগে চিনতে হাজবেন্ডকে?
- বিয়ের এগারো দিন আগে ফার্স্ট দেখি। ভাইয়ার এক ফ্রেন্ডের সিনিয়র ফ্রেন্ডের ছোট ভাই।
- কি করেন?
- একটা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ফার্মের এজিএম।
- কে কোথায় বড় হয়েছ?
- আমার বাবা কলেজের প্রফেসর, জেলা শহরগুলো ঘুরে বেরিয়েছি। শেষ করেছি কিশোরগঞ্জে। আমার শশুর ডিসি অফিসের প্রটোকল অফিসার ছিলেন। একই অবস্থা বলা যায়। ও অবশ্য রাজশাহী ইউনিতে পড়েছে।
- শশুর-শাশুরী এখানে থাকেন?
- নাহ। ঘরে আমরা দুই প্রানী। মাঝে মাঝে ওর এক বড় চাচাতো ভাই আসেন শুক্রবার। আমার শাশুড়ীর পাঠানো দেশী ফল আর সবজি নিয়ে।
- হুমম। হাজবেন্ড দেখতে কেমন? লজ্জা পাবার কিছু নেই। পাবলিক স্ট্যান্ডার্ডে বল।
আমার উদ্দেশ্য ছিল ওর রিএ্যাকশনটা দেখা। উত্তরে বুঝলাম সেখানে সমস্যা নেই। গালটা অবশ্য লাল হয়ে গেল।
- লম্বা, দেখতে মোটামুটি ফর্সা। একটু শুকনো অবশ্য। ইদানিং অবশ্য আরো শুকাচ্ছে।
- স্বামীর সঙ্গে বয়সের পার্থক্য কতো?
- ছয় হবে
- প্রথম চুমু খেয়েছ কবে?
হঠাৎই হামলা করলাম। আসল প্রশ্নটার আগে একটু ইজি করে নেব ভাবছিলাম। মাথা নিচু করে উত্তর এল।
- আমি জানি যে আপনি সব বুঝে গেছেন পরশুই। না বোঝার কথা না।
- চুমু...
- প্রথম রাতেই।
খেয়াল করলাম চোখটা টলটল করছে। চুপ করে ওকেই বলতে দিলাম।
- অনেক ক্লান্ত ছিলাম। আমার শশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজন অনেক। মিষ্টি-দুধ খাইয়ে আধমরা করে ফেলেছিল। দরজা বন্ধ হতে অনেক টাইম নিয়েছিল। ও এসে কপালে একটা চুমু দিয়ে নামাজ পড়তে বলেছিল। সেই কপাল থেকে আজ পর্যন্ত নিচে নামেনি।
টপটপ করে পানি ঝড়ছে চোখ দিয়ে।
- কখনোই কি তোমার দিকে আগ্রহ দেখায়নি?
- সেখানেই তো সমস্যা আপু। ঔ একটা বিষয় ছাড়া আমার জীবনের প্রত্যেকটা খুটিনাটির দিকে ওর এতো খেয়াল যে মাঝেমাঝে বিশ্বাস হতে চায় না যে, একটা মানুষ এতো কিছু মনে রাখে কিভাবে। আমি পারি না ওর সাথে এই দৌড়ে। আমার খাওয়া-পড়া, ঘুম, পোষাক, বেড়াতে যাওয়া, এমনকি নখ কাটা পর্যন্ত খেয়াল থাকে তার। এতো ব্যস্ততার মাঝেও ঠিকই খোজ নেবে সে। কতো কি রেডি করে দেবে!
- কি মনে হয় তাহলে, সমস্যাটা কোথায়?

ভাঙ্গা গলায় উত্তর এলো, জানি না। অনেক চেষ্টা করেছি বোঝার। বিশ্বাস করেন, একটা অসভ্য মেয়ের মতো বাথরুমে উকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। লুঙ্গি কিনে দিছি। কিন্তু রাতে ঠিকই ট্রাউজার পড়ে ঘুমাবে। ঘুম পাতলা ওর, নাকি সারারাত জেগেই থাকে আল্লাহই জানে। কোমরের উপরে হাত দিয়ে দেখেছি, ঘুম ভাঙ্গে না। কোমরের নিচে এক রাতে নামতে গিয়ে যে ভয় পাইছি। ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করে, কিছু বলবা? আমিতো শেষ। আর ট্রাই করি নাই।
- এ ঘটনা কবে? বাই দ্য ওয়ে এসব করে একটা মেয়ে অসভ্য হয়ে যায় না।
- মাসখানেক আগে। আপনার কি মনে হয় এসব কারনে আমার পিরিয়ডে প্রবলেম?
- তাই তো মনে হচ্ছে। তোমার ফিজিক উপরওয়ালা খুব ভালো রেখেছেন। বিয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই হরমোন সিক্রেশন বেড়ে যায়। শরীর এখন কনজাম্পশন এক্সপেক্ট করছে। সেটি না হবার কারনেই উল্টাপাল্টা রিঅ্যাকশন হচ্ছে।
- বিয়ের আগে আমার খুব ভালো ঘুম হতো। নাক ডাকা ঘুম।
- নাক ডাকো নাকি তুমি?
একটু হালকা করার চেষ্টা করলাম। একটু হেসে বললো, নাহ। কিন্তু আমার ঘুম খুব পরিষ্কার ছিল। একদম ডীপ স্লিপ হতো আমার। এখন ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করেই উঠে যাই।
একটু থামলো মিলি। কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,
- তবে ওর আচরনে সবসময়ই একটা জিনিস মনে হয় যে, ও আমার প্রতি কোন অপরাধ করে ফেলেছে। বড় কোন অপরাধ। সবসময় সেই বিষয়টা মেটানোর চেষ্টা করে। আমার তো প্রথম অন্য কিছু মনে হয়েছিল।
- কি?
- আর সব মেয়েদের মতো মনে করেছিলাম, অন্য কোন মেয়ে আছে বা ছিল তার জীবনে। চিহ্ন-টিহ্ন খুজেছি অনেক। কিন্তু কিছুদিন আগে সেই ভুল ভাঙছে।
- কিভাবে?
- সকালে ঘুম ভেঙে গেলেও ধীরে চোখ খোলার অভ্যেস আমার। আমার যে ঘুম ভেঙে গেছে বোঝে নাই বোধহয়। দেখি আস্তে আস্তে হাত বোলাচ্ছে আমার গায়। খুব পছন্দের জিনিস আমরা আদর করি যেভাবে। অন্য কেউ থাকলে বা সেরকম কিছু হলে মুখের চেহারা অমন হবার কথা না। এবং সেদিনই তার মধ্যে পুরুষটা টের পাই আমি।
ভুরু কুচকে তাকালাম। মাথাটা তুলে আমার দৃষ্টি দেখে আবার মুখটা নামিয়ে নিল।
- হাতটা একটা পুরুষের মতোই ঘুরছিল। কতক্ষন একভাবে সজাগ থাকা যায় বলেন। একটু যেই নড়েছি হাতটা পালিয়ে গেল। এই প্রথম এই শেষ। অন্তত আমার দেখা। যদিও আমার মনে হয় না ওইদিন প্রথম ছিল।
- মনে একটু আশা জাগল। এরপর ইন্টারনেটে ফ্রিজিড মানুষ নিয়ে অনেক খোজাখুজি করলাম। অনেক লেখা পড়ে নিজে একটু আগাবার চেষ্টাও করলাম।

ঘড়ি দেখলাম। সময় শেষ হয়ে আসছে। কিন্তু বুঝতে পারছি কথার এই ফ্লো ধরে রাখতে পারলে খুব ভালো হতো। অন্য ফোনটা হাতে নিয়ে কলিগকে একটা টেক্সট পাঠিয়ে দিলাম, ওয়ার্ডে আসতে দেরি হবে এই বলে।

মিলি বলে যাচ্ছে-
- আমি সাজতে খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু একদিন খুব করে সাজলাম। আগেই ফোনে জেনেছি ওর দিনটা বেশ ইজি গেছে। একটা কথা আপু, ফোনে কিন্তু সে খুব ইজি আমার সঙ্গে। মাঝে মাঝে মনে হয় কত বছরের প্রেম আমাদের! সামনাসামনি অন্য মানুষ। সেদিন বেল বাজার আগেই খুলে দিলাম দরজা। আমাকে দেখে প্রথমে তার চোখে প্রশংসা ফুটে উঠলো, কিন্তু এক সেকেন্ডের জন্য। পরক্ষনেই সেই আগের মানুষ। জিজ্ঞেস করল, কোথাও যাচ্ছো নাকি। বললাম, না, এমনিই সাজলাম। বলল, তোমাকে দারুন লাগছে। চলো কোথাও বেরিয়ে আসি। একরকম ধরে-বেধেই বাইরে নিয়ে গেল। অনেক ঘুরিয়ে হাটিয়ে ভালো মতন ক্লান্ত বানিয়ে বাসায় নিয়ে এল। ক্লান্ত থাকলেও সারারাত ঘুমাতে পারিনি।
- সরাসরি জিজ্ঞেস করনি কেন?
- কি বলব? এমনিতেই আমার লজ্জা অনেক বেশি। আর এইসব নিয়ে ভাবলে নিজেকে শুধু অসভ্য মনে হয়। আমি যে আপনাকে কিভাবে এইসব বলতেছি আল্লাহই জানে। আম্মু জিজ্ঞেস করছে কয়েকবার এই বিষয়ে ঘুরায়া-ফিরায়া। বলছি সব ঠিক আছে।

ফোন বেজে উঠল। ওয়ার্ডে যেতে হবে তাড়াতাড়ি। মিলিকে বললাম, তোমার হাজবেন্ডের নাম-ঠিকানাটা দাও তো।
- কিন্তু ও জানে না যে আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি। আমি যে ওকে না বলে কিছু করি না।
- ভয় নেই, আমি কিছু করলে তোমাকে আগে জানিয়ে নেব। আমার আগে তোমার স্বামী সম্পর্কে কিছু জানা দরকার। তারপরে কথা। ঘাবড়াবার কিছু নেই।
প্যাডে একটা ক্যালশিয়াম আর একটা ক্লোনাজেপামের নাম লিখে দিয়ে বললাম, এগুলো খাও আপাতত। এর পরের মিটের জন্য আমিই কল করব তোমাকে। আগে তোমার স্বামী সম্পর্কে খোজ নিয়ে নিই।
- কিন্তু আব্বা ওর সম্পর্কে ভালোভাবেই খোজখবর করেছিল। বিয়ের আগে অন্তত কোন ঝামেলা ছিল না ওর।
- না না, তেমন খোজ না। একটু অন্যরকম খোজ। তোমার বেশি আপত্তি থাকলে করব না।
- না, আপত্তি আর কি।

আবারও ফোন বেজে ওঠায় তাড়াহুড়ায় বিদায় দিলাম মিলিকে।

রাতে আমারজনকে সব বললাম। শুনে বলল, ভেরি কমন কেস। প্রবলেম হচ্ছে আগ বাড়িয়ে কিছু করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। খোজাখুজি কি করবা? তুমি বরং মেয়েটাকে দিয়ে কায়দা করে তার স্বামীকে আমার চেম্বারে আনতে পারো কিনা দেখ। তারপর তুমি ওকে নিয়ে আরও কিছু দেখতে চাইলে দেখো। আর আমি ব্যাটার সঙ্গে কথা বলে দেখি।

দু’দিন পরে মিলিকে লাঞ্চ টাইমে ফোন করে কুশলাদির পর বললাম, তুমি সেদিন বলছিলা যে তোমার হাজবেন্ড খানিকটা শুকিয়েছে। তুমিও শুকাচ্ছো। ঘুমের সমস্যার দোষ দাও। তারপর আমার হাজবেন্ডের নাম নিয়ে বল যে, তোমার ভার্সিটির এক আপুর পরিচিত। তারপর সময় করে তার কাছে নিয়ে আসো। ও তো মেডিসিনের, আনতে প্রবলেম হবে না।

শুক্রবার সময় দিলাম, সঙ্গে আসবার একদিন আগে অবশ্যই আমাকে জানিয়ে দিতে বললাম।

সেই সপ্তাহে না, তার পরের সপ্তাহে টাইম বের করল মিলি। এমনও কপাল! ঠিক শুক্রবার সকালে আমার আরেক পেশেন্টের দুম করেই পেইন উঠে গেল। আর আমাকে দৌড়াতে হল সেখানে। হাবি জানাল, চিন্তা কোরো না। আমি ম্যানেজ করে নেব।




# (ডাক্তারের জবানীতে) #

ওই শুক্রবার চেম্বারে আগে আসতে চেয়েছিলাম। পাচটার জায়গায় চারটায় ঢুকবো, মেয়েটাকে টাইম ৪:১৫তে দিয়েছিলাম। ঢুকতে দেরি হয়ে গেল। শুক্রবারও ঢাকায় যে জ্যাম পড়ে! চেম্বারের সামনে যেতে যেতেই সামনে মুখটা পড়ল। এবং তখনই বুঝলাম ও কিছুই বাড়িয়ে বলেনি। মেয়েটাকে কয়েকশ’ মেয়ের মাঝে আলাদা করা খুব একটা কঠিন কিছু হবে না। এর মাঝে একটা অন্যরকম আকর্ষন আছে। ভয়াবহ টাইপের মিষ্টি। নিজেকে কিছুটা ধমক এবং কিছুটা বাহবা দিলাম। বাহবা এই কারনে যে, এই ঝামেলার মধ্যে নিজেকে জড়িয়েছি। ধমক, ডাক্তারকে বেহায়া হতে নেই। আমার নিজের পার্সোনাল সুন্দরীতো একটা আছেই।

রুমে বসে পিয়ন দিয়ে দুজনকে ভেতরে ডাকলাম।
সালাম দিয়ে ছেলেটা বলল, স্যার আমি আরমান। আমার ওয়াইফের সঙ্গে আপনার কথা হয়েছিল বোধহয়।
- আমার অফিসের কথা হয়েছিল।
মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বেশ কয়েক সেকেন্ড সময় ব্যয় করলাম। সামলে নিলাম নিজেকে। মেয়েটা বেশ টেনশনে আছে বোঝা যায়। হয়তো এই সেটআপ নিয়ে ভয়ে আছে। বারবার চোরা চোখে তাকাচ্ছে আমার দিকে। এবার খেয়াল করলাম ছেলেটার দিকে। বিধাতার এই সুন্দর সৃষ্টির সঙ্গে রাত কাটাবার সুযোগ যে পেয়েছে তাকে তো একবার দেখতেই হয়।

পাচফুট দশ-এগারো হবে হাইট। ফর্সা, বেশ ফর্সা, ভালো ফিগার, একটু শুকনো, তাতে বরং বেটার লাগছে।
- আমার ওয়াইফের আর আমার দুজনেরই আসলে ঘুমে একটু সমস্যা হচ্ছে। আর এর মাথায় ঢুকেছে আমি নাকি শুকিয়ে যাচ্ছি। তাই আসা।
দুজনারই সাধারণ বডি চেকআপ করলাম। ডায়েট শুনলাম। মেয়েটাকে দেখার সময় বেশ সতর্ক রাখলাম নিজেকে। মেয়েদের একটা ভয়াবহ টাইপের সিক্সথ সেন্স থাকে। এই মেয়ে আমার বউকে শ্রদ্ধা করে। সেটা নষ্ট করা ঠিক হবে না। তবে ফিগারটা বেশ- স্বীকার করতেই হয়। {এই কথাটা বলার সময় মিসেস ডাক্তার বলল, এরকম চোখ পাকিয়ে বোলো না। আমারই লজ্জা লাগছে। তার উপর মেয়েটা তোমাকে দেবতার মতো মানে। মিস্টার ডাক্তারের ভাবলেশহীন উত্তর – দেবতার চোখই মানুষের চেয়ে বেশি খারাপ}

একটা ফোন এল। ধরতে গিয়ে দেখলাম সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। ফোন ছেড়ে জিজ্ঞেস করলাম, বিয়ের কতদিন হল?
মিলি চুপ, ছেলেটার কাছ থেকেই উত্তর পেলাম।
- কন্ট্রাসেপটিভ কি ব্যবহার করেন?
বেশ খানিকটা থেমে থাকলো দুজনে। আড়চোখে খেয়াল করলাম মেয়েটা ঘামতে শুরু করে দিয়েছে এসির মধ্যে।
- তেমন কিছুই করছি না।
- তেমন কিছুই মানে?
- না মানে কন্ট্রাসেপটিভ হিসেবে কিছু নিচ্ছি না আপাতত।
বুঝলাম এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসায় এজিএম হয়েছে ভালো যোগ্যতায়। এড়িয়ে যাচ্ছে ঝামেলার প্রশ্ন। বারবার স্ত্রীর দিকে তাকাচ্ছে। মেয়েটার মাথা নিচু। মেয়েটাকে বললাম, আপনি একটু বাইরে অপেক্ষা করুন। আপনার হাজবেন্ডের সঙ্গে একটু কথা বলি আমি।
- কোন সমস্যা ডক্টর?
- দেখুন আপনাকে সরাসরিই বলি আমি। কন্ট্রাসেপটিভের কথায় আপনার উত্তরে একটু সন্দেহ হওয়ায়ই আপনার স্ত্রীকে বাইরে অপেক্ষার জন্য পাঠিয়েছি আমি। বাচ্চা নিতে চাইলে কাপলরা সাধারণত সরাসরিই বলে ডাক্তারকে। আপনার কথায় সেরকম কিছু মনে হয় নি আমার।
- না... মানে... আসলে....
- আরমান সাহেব, আপনি আমাকে যা যা বলবেন তা সবই গোপন থাকবে। আপনি চাইলে আপনার স্ত্রীও জানতে পারবেন না। আপনি যদি কথা এড়িয়ে বা সরে যেতে চান, পারেন। কিন্তু আপনি যে সমস্যাটা নিয়ে আমার কাছে এসেছেন তার অনেকটাই অন্য ধাচের মনে হচ্ছে আমার কাছে।
- অন্য ধাচের মানে?
- দেখুন, আপনি শেয়ার করতে না চাইলে, সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।
তিরিশ সেকেন্ডের মতো চুপ করে থাকলো ছেলেটা।
- আমার সমস্যাটার ইতিহাস অনেক লম্বা। আপনার শোনার সময় হবে না।
- শুরু তো করুন। আজ শেষ না হলে কাল আসবেন। আপনাকে আলাদা সময় দেব আমি।
মাথা নিচু আরমানের।
- আসলে আমি আমার ইয়থে নিজেকে অনেক অ্যাবিউজ করে ফেলেছি।
- ফিজিক্যাল রিলেশন?
- হুমম...
- কজন?
- ......... একজনই।
- গার্লফ্রেন্ড?
- ...... না। পাশের বাসার আপু। ............... তাও একবারই।
- সেটা ‘অ্যাবিউজ’ হলো কিভাবে?
- ......... সেটা আসলে মেইন অ্যাবিউজ না।
- তাহলে?
- এর শুরু আমি যখন ইন্টার পড়ি তখন। মফস্বল শহরে অনেক বাসাতেই তো গোসলের জায়গা আলাদা থাকে। সেখানে বাসার ছেলে মেয়ে সবাই গোসল করে। আমাদের বাসা ছিল দোতলা। পেছনের বাসার পেছন ছিল আমাদের দিকে। এখানে যারাই গোসল করতে আসতো তাদের পুরো গোসল দেখতে পেতাম আমি। আমাদের ওই দিকের জানালা বন্ধ করাই থাকতো। একটা সময়ে আমার অভ্যেস হয়ে গেল ওই জানালার ফাক দিয়ে পেছনের বাড়ির মেয়েদের গোসল দেখা এবং...
- এর মাঝে আমি আন-ন্যাচারাল কিছু পাচ্ছি না। (সহজ করা এবং উৎসাহ দেবার জন্য বললাম আমি)
- আমি অনেক বেশিবার করতাম।
- কত বেশি?
- দিনে কখনও দু’তিনবারও, এবং প্রতিদিন।
- কতদিন চলেছে এমন?
- প্রায় বছরখানেক। তারপর বাসা চেঞ্জ হয়ে যায়।
- এখন কি তাতে সমস্যা হচ্ছে?
- সমস্যা সেসময় বুঝিনি।
- কিন্তু একটা অপরাধবোধ কাজ করতো, তাই তো? ইন্টারনেট যুগের মানুষ হয়ে তো আপনার বোঝার কথা যে মাস্টারবেশন কোন খারাপ জিনিস না। আপনার ক্ষেত্রে রেশিও টা একটু বেশি হয়ে গেছিল হয়তো। কিন্তু তাতে পার্মানেন্ট কোন সমস্যা তৈরি হবার কথা নয়।
- সমস্যা সেখানে হয় নাই। নতুন যে বাসায় গেলাম সেখানে যাবার কয়েকমাস পর আবিষ্কার করলাম যে পাশের বাসার আপুদের বাথরুম দেখা যায় আমার পড়ার টেবিল থেকে। ঐ বাথরুম দেখা থেকেই..... লং স্টোরি শর্ট এক বিকেলবেলায় পাশের বাসার আপু আমার বাসায় আসে। আমার মা তখন তার মা’র সঙ্গে গল্প করছেন। এভাবে সেভাবে করে উনি আমাকে বিছানায় নিয়ে যান। কিন্তু সেদিন আমি কিছুই করতে পারি নাই। মানে কিছুই না। আমি আসলে তৈরিই হতে পারি নাই।
- এটাই কি আপনার ভাষার ফিজিক্যাল রিলেশনটা?
- এরপর ওই আপু একটু বাকা হাসি দিয়ে চলে গেছিল।
মাথা নিচু আরমানের। বলতে সুযোগ দিলাম।
- আমি বিয়েই করতে চাইনি। একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করে লাভ কি? কিন্তু এই লাস্ট প্রমোশনের পরে পরিবার কোন সুযোগই দেয়নি। এরকম সুন্দরী মেয়েদের জীবনে কতো সমস্যার হিস্ট্রি থাকে। আমার মিসেসের তেমন কিছুই নাই। ফুল ক্লিন। এবং আমার মা-র ভাষায় ‘লক্ষী-বউ’। এরকম একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করার কোন অধিকার আমার ছিল না।
- আপনি কি এখনও মাস্টারবেট করেন?
- ......... মাঝে মাঝে।
- যখন মাথা ঠিক থাকে না, তাই না? ইউ আর এ লাকি গাই, এমন ভালো একজন জীবনসঙ্গী পেয়েছেন, যার প্রশংসা আপনি নিজে করতে পারছেন মন খুলে। ইটস আ গুড থিং।
- ......... হুম।
- আপনি যে রোগে ভুগছেন তা এক ধরনের ইরোটোফোবিয়া বা সেক্সুয়াল পারফর্মেন্স অ্যাংজাইটি। বেশ কমন একটা রোগ। আমাদের মতো সোসাইটির জন্য আরো বেশি কমন। আমার মনে হয় না, আপন ফিজিক্যালি কোন সমস্যায় আছেন।
- কিন্তু সেদিন?......
- সেদিন ওই ঘটনা ঘটার অনেক কারন থাকতে পারে। আপনার মাথার মধ্যে কাজ করেছে আপনার সামাজিক বেড়ে ওঠা, ঠিক-বেঠিকের চিন্তা, একটা ইলিগ্যাল রিলেশন, সর্বোপরি আপনার এতো দিনের মাস্টারবেশন আপনার মধ্যে একটা অপরাধবোধ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া হঠাৎ করেই আনএক্সপেক্টেডভাবে সামনে একটা ন্যুড মেয়ে দেখলে একেকজনের একেক রকমের রিয়্যাকশন হয়। আপনারও হয়েছে। আপনি সেদিন উত্তেজিতই হতে পারেন নি হয়তো। আর এই ঘটনাই আপনার মধ্যে এই অ্যাঙজাইটিটাকে স্থায়ী করে দিয়েছে। যার ফলে এতো বড় আকর্ষন সামনে থাকার পরও আপনি সাহস করে আগাতে পারছেন না।

দেখুন আপনি ঠান্ডা মাথায় শুনলে আপনাকে কিছু কথা বলি। আমাদের আজকের এই সাক্ষাৎটা খানিকটা প্ল্যানড।
- মানে???
- আপনার স্ত্রীর মাসিক অনিয়মিত হচ্ছে যা আগে ছিল না। প্লাস রিলেটেড অনেক কম্প্লিকেশন তৈরি হচ্ছে যা আগে ছিল না। এবং এসব সমস্যা আগে থাকলেও বিয়ের পরে উল্টে ঠিক হয়ে যাবার কথা।
- ওর কি বড় কিছু হয়েছে নাকি?
গলায় উৎকন্ঠাটা ফিল করে বেশ ভালো লাগলো। সময়টা বৃথা যাচ্ছে না।
- নাথিং আনকিউরেবল। উনি আপনাকে না জানিয়ে, বলা যায় জানাতে না পেরে একা আমার স্ত্রীকে দেখাতে যান। আমার স্ত্রী-ই আপনার স্ত্রী-র গাইনীর ডাক্তার। তার পরামর্শেই আজ আপনি এখানে।
ধোকা দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বলে তাকে খানিকটা আহত মনে হল।
- আপনার স্ত্রীর জায়গায় থাকলে আপনিও একই কাজ করতেন। দেখুন আমরা ডাক্তারদের একটা বিশেষ সেন্স থাকে। আপনার স্ত্রীকে আমি আগে দেখিনি। তবে একটু দেখায় এটুকু বলতে পারি উনি আপনাকে আপনার চেয়ে কম পছন্দ করেন না।

- আরমান সাহেব, কাজের কথা বলি। আপনার সমস্যাটি আমাদের দেশের হিসেবে খুবই কমন সমস্যা। এই সেক্সুয়াল পারফর্মেন্স অ্যাংজাইটি এদেশের অনেকেরই আছে। বেশিরভাগেরই মাস্টারবেশন থেকে তৈরি হয়। এদেশের বলি কেন? বিশ্বের সব পুরুষেরই একটু আধটু থাকে। আপনার একটু বেশিই আছে। এটাকে কাটিয়ে উঠতে হবে। এবং তা আপনি নিজেই পারবেন। আর এক্ষেত্রে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবেন আপনার স্ত্রী। তার সাথে সব শেয়ার করুন। অফিস থেকে ছুটি নিতে পারলে হানিমুনে চলে যান। দেখবেন প্রকৃতিই সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আগেও হয়তো ব্যবস্থা করেছে, আপনি উল্টো হেটেছেন। এরপরও যদি কোন সমস্যা হয়েই যায় স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে ফেস করবেন। প্রয়োজনে আমরা তো আছিই। তবে কোন সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। মাস্টারবেট যেহেতু এখনও করছেন ঠিক মতোই।

নিচু মাথায় মুখের কোনায় এক টুকরো হাসি দেখতে পেলাম আমি।

- আর হ্যা, এখন বাচ্চা নিতে না চাইলে কনডম ব্যবহার করবেন। ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল এখনই না নেয়া ভালো। বাচ্চা একটা নেবার পরে পিলের চিন্তা করতে পারেন। খাবারদাবার একটু ভালো খাবেন। কোন ঔষধই দিলাম না আমি। আপনার স্ত্রীকে ক্যালশিয়াম আর রিলাক্সেন্ট দেয়া আছে। রিলাক্সেন্ট বাদ দিয়ে দিতে হবে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঘুমের ঔষধ হল সেক্স, যা আপনাদের দুজনেরই প্রয়োজন।

বেল বাজিয়ে পিয়নকে দিয়ে মেয়েটাকে আসতে বললাম।

- ডক্টর... প্লিজ এইসব ওকে কিছু....
- না, না, ঘাবড়াবেন না। ঝামেলা পাকিয়েছেন আপনি আপনার মনে মনে। ঠিকও করতে পারবেন আপনিই। ডোন্ট ওরি।
মিলি ঢুকতে বুঝলাম চরম উৎকন্ঠায় ভুগছে মেয়েটা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে মেয়েটাকে বললাম
- আপনাকে দেয়া ক্যালশিয়ামটা এক মাস খেয়ে যাবেন। বাকি রিলাক্সেন্টটা আমি বন্ধ করে দিলাম। বাসায় চলে যান। ভালো ভালো খাবেন আর হাজবেন্ডকে খাওয়াবেন।

মেয়েটা খানিকটা চমকে গেল। ওকে যে এভাবে ফ্লাশ করে দেব বুঝতে পারেনি।
- আমাকে এখন রেগুলার রোগী দেখা শুরু করতে হবে যে।
আরমান মানিব্যাগে হাত দিতেই বললাম, নো ভিজিট, আমার স্ত্রীর পেশেন্ট দেখেছি আমি। প্রতিবাদী গলায় কিছু একটা বলতে গেলে বললাম, বেশি প্রবলেম হলে আমাদের দুজনকে একবেলা থাই-চাইনিজ খাইয়ে দিলেই হবে। আসুন এবার।

হাত বাড়িয়ে আরমান বললো, ডক্টর, মে বি ইউ জাস্ট সেভড মাই লাইফ।
মিলি কি যেন বলতে যাচ্ছিল। থামিয়ে দিয়ে আরমান বললো, চলো অনেক সময় নিয়েছি আমরা, আরও অনেক রোগী আছে বাইরে।

দুজনে বের হয়ে যাবার সময়েই বোঝা যাচ্ছিল, সামথিং চেঞ্জড বিটউইন দেম।

----

গতকালের পার্টিটা ছিল আরমান আর মিলির মেয়ের প্রথম জন্মদিনের। পার্টিতে আরমানের বাবা-মা আর ভাই ছাড়া আমরাই অতিথি ছিলাম শুধু। মা হবার পরে মেয়েটার চেহারা যেন আরও সুন্দর হয়েছে। এখন বাসায় যাতায়াত দুই পরিবারের।

পরে একসময় আমার বেটার হাফকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দুজনার মিলটা হলো কিভাবে? হানিমুনে তো আর গেল না।

উত্তর এল, আরেকজনের বেডরুমের খবর জানতে চাও কেন? নিজের বেডরুম ঠিক রাখো। তাতেই হবে। তবে শুধু এটুকু জেনে রাখো, ইচ্ছা তো আর কারোরই কম ছিল না। অপেক্ষা শুধু আগুনের ফুলকির......
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:১২
২৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×