
এবারের ইদে কোথায় যাবো,ঠিক করে ভেবে পাচ্ছিলাম না ৷ শেষে আবারও শ্রীমঙ্গল যাওয়ার ভুত চাপলো মাথায় ৷ প্রাথমিক চিন্তা হামহাম যাওয়ার হলেও অতিরিক্ত বর্ষার জন্যে একটু পরিবর্তন আনলাম ৷ যাবো আমার স্বপ্নের পাংতুমাই,বিছানাকান্দি তে ৷
ইদের পর দিন রাতে আমরা চারজন হানিফ এন্টারপ্রাইজ এর বাস এ করে রওনা হই শ্রীমঙ্গল এর পথে ৷ পরদিন ভোর ৫ টায় আমরা পৌছায় শ্রীমঙ্গল এ ৷ নেমেই আমরা আগে থেকে ঠিক করা হোটেল আর-রহমান এ উঠি ৷ কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে আমি বের হয়ে সারাদিনের জন্যে একটা সিএনজি ঠিক করলাম ৷ সকালের নাস্তা শেষে আমাদের প্রথম গন্তব্য শমসেরনগর বিমান বন্দর এর দিকে ৷ প্রায় ২০ কিমি রাস্তা অতিক্রম করে যখন আমরা বিমানবন্দর এর সামনে,তখন হতে হলো আমাদের হতাশ ৷ ভিআইপি থাকার কারনে আজ আমরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারবোনা ৷ তো হতাশা নিয়েই আবার ফিরতি পথে আমরা ৷ মনের মধ্যে একটাই ভাবনা মাধবপুর লেক যেনো আমাদের নিরাশ না করে ৷ কমলগঞ্জ এ অবস্থিত মাধবপুর লেক এক কথায় অসাধারন ৷ বিশাল আঁকাবাঁকা লেকটিকে ঘিরে আছে অসংখ্য চা পাতার টিলা ৷ লেকের সর্বোচ্চ টিলা থেকে লেক টি আরও সুন্দর মনে হয় ৷ তার থেকেও সুন্দর ছিলো অল্প দূরত্বের ত্রিপুরার পাহাড় গুলো ৷ ইচ্ছা ছিলো একপাশ থেকে শুরু করে অন্যপাশ দিয়ে বের হবো,কিন্তু প্রচন্ড রোদ এ বাধা ৷ অর্ধেক গিয়ে আবার ঐ রাস্তা দিয়ে ফিরলাম ৷ যাক মনটা অনেকখানি তৃপ্ত ৷
শহরে ফিরতি পথে পুরোনো সৃতি কে তাজা করার জন্যে ঘুরে এলাম জেরিন টি গার্ডেন,ইস্পাহানী তে ৷
জেরিন টি গার্ডেন থেকে যখন বের হই তখন দুপুর ৷ ফিরলাম আমরা হোটেলে ৷ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারও বের হবো ৷ এবারের গন্তব্য এমন একটা যায়গা যেখানে হয়তো আগে কেও কখনো যায়নি ৷
আমার একটা অভ্যাস হলো কোথাও যাওয়ার হলে গুগল ম্যাপ্স এ বসে আশেপাশের যায়গার নাম ও দূরত্ব জানতে চেষ্টা করি ৷ সেই প্রচেষ্টাতেই আমার সামনে ধরা দিলো সিন্দুরখান উপজেলার খেজুরীছড়া চা বাগানে ৷ বিকেল ৩ঃ৩০ এর দিকে আমরা রওনা হলাম সিন্দুরখান এর উদ্দেশ্যে ৷ শ্রীমঙ্গল থেকে ১৫ কিমি দূরে গ্রাম রাস্তা ধরে পৌছালাম সিন্দুরখান ৷ কিন্তু এবারের বাধা হলো অবিরাম বৃষ্টি ৷ তাই সিএনজি তে বসেই দেখতে থাকলাম সিন্দুরখান এর অপরূপ চা বাগান আর গাছে ঘেরা রাস্তা ৷ এখান থেকে ত্রিপুরা বর্ডার খুব বেশী দূরে নয় ৷
বৃষ্টিস্নাত অবস্থায় আমরা প্রবেশ করলাম নীলকন্ঠ টি কেবিন এ ৷ সবকিছু সেই আগের মতোই আছে মানে চা এর দাম আরকী!!
চারজন এ চারটা সাত রঙা চা পান করে ফিরলাম শহরে ৷ তখন প্রায় সন্ধ্যা, সিএনজির টাকা মিটিয়ে আমরা হোটেলে ফিরলাম ৷ রাতে শহর টাকে হেটে হেটে দেখলাম ৷ সঙ্গী ছিলো লটকন!! আধ কেজি লটকন চোখের পলকেই খতম করে দিছিলাম আমরা ৷
এবার ঘুমের পালা,পরদিন সকাল সকাল উঠতে হবে তো ৷
কিছু ছবিঃ
১)সেলফি

২)মাধবপুর লেক




৩)বিনয়

৪)শরীর টাকে ঠান্ডা করার প্রচেষ্টা

৫)তানভীর ভাই


৬)এই পথ ত্রিপুরা যায়

৭)জেরিন টি গার্ডেন এ তানভীর ভাই ও বিনয়


৮)আমরা চারজন সিন্দুরখানে




৯)সিন্দুরখানের চা বাগানে আমি


১০)নীলকন্ঠ টি কেবিন



১১)শ্রীমঙ্গলের সকাল

১২) শমসেরনগর আর হতাশা

১৩) হবিগঞ্জ এর ভোর

১৪)অপরুপ সিন্দুরখান

১৫)মাধবপুর লেকে শাপলা

চলবে.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

