somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগুনের ধর্ম জ্বলা আর মানুষের ধর্ম হউক মানবতা!!!

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন নতুন হিসেবে অনেকগুলো লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছে। মনযোগ আকর্ষন করেছে আস্তিকতা ও নাস্তিকতা বিষয়ের লেখাগুলো। যখন দেখলাম সমাজে প্রচলিত তথাকথিত ধর্মের নামে মানুষ জীবনও দিতে প্রস্তুত একটি প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক করছে, স্রষ্টা কি চান যে মানুষ আত্নঘাতী হউক, যারা ধর্মে বিশ্বাস করে?

''মানুষকে ভালোবাস'' অনেকই এই আচরনের উচ্চপ্রশংসা করে থাকেন। এই ধর্মগুলো যদি একে অপরের প্রতি ভালোবাসার বিষয়ে শিক্ষা দিতে সফল হতো, তা হলে মানুষ একে অপরের নিকটবর্তী আর একতাবদ্ধ হতো। আসলে একতার ক্ষেত্রে তথাকথিত ধর্ম কি জোরালো প্রভাব রাখতে পেরেছে? সম্প্রতি, জার্মানীতে এক সমীক্ষায় এই প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ''ধর্ম কি লোকেদের এক করে নাকি তাদের পৃথক করে বলে মনে করে?'' উত্তরদাতাদের মধ্যে ২২% ব্যক্তি মনে করে যে ধর্ম এক করে আর অন্যদিকে ৫২% ব্যক্তি মনে করে যে, তা বিভক্ত বা পৃথক করে।

বিগত ১০০ বছরের ইতিহাস- ধর্ম লোকেদের একে অপরের নিকটবর্তী করার পরিবর্তে বরং তাদেরকে পৃথক করেছে। কোনো কোনো ঘটনায়, ধর্ম এমন এক আবরন হয়ে এসেছে, যার আড়ালে সব চেয়ে মারাত্নক নৃশংসতা সম্পাদিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, বলকান অন্চলের রোমান ক্যাথলিক ক্রোয়েশীয় এবং অর্থোডক্স সার্বীয়রা একে অপরের বিরুদ্ধে হিংস্র লড়াই এ মেতে উঠেছিল। উভয় দলই যীশুখ্রীষ্টকে অনুসরন করত বলে দাবী করেছে। যিনি তা্ঁর অনুসারীদের প্রতিবেশীদের ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাদের লড়াই এমন দিকে পরিচালিত করেছিল, যা ইতিহাসের সবচেয়ে আতঙ্কিত এক বেসামরিক বেপরোয়া হত্যাকান্ড হিসেবে পরিচিত। ৫লক্ষ্ রও বেশী নারী-পুরুষ এবং শিশুর মৃত্যুতে বিশ্ববাসী ভীতবিহ্বল হয়ে পরেছিলো।

১৯৪৭সালে ভারত উপমহাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০কোটি - পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকর প্রায় ২০ভাগ - মূলত হিন্দু, মুসলমান এবং শিখ। ভারত যখন ভাগ হয়ে যায় তখন ইসলামি রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্ম হয়। সেই সময় ধর্মের কারনে পর পর কয়েকটা বেপরোয়া হত্যাকান্ড উভয় দেশের লক্ষ লক্ষ শরনার্থীকে পুড়িয়ে মারা হয়, মারধর করা হয়,অত্যাচার করা হয় এবং গুলি করে মারা হয়।

উপরের চাঞ্চল্যকর উদাহরন ছাড়াও, নতুন শতাব্দীর সূচনা সন্ত্রাসবাদের আতঙ্ককে আলোচনার র্শীষে নিয়ে আসে। আজকে, সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছে এবং অনেক সন্ত্রাসীদল দাবী করে যে তারা ধর্মের সাথে যুক্ত। ধর্মকে একতার প্রবর্তক হিসেবে দেখা হয় না। এর পরিবর্তে, এটা প্রায় দৌরত্ন্য ও অনৈক্যের সাথে সংযুক্ত। জার্মান সংবাদপত্রিকা 'ফোকুস' - ইসলাম, খ্রীষ্টান, কনফুসিয়াস,বৌদ্ধ, যিহুদী ও হিন্দু ধর্মকে বারুদের সাথে তুলনা করেছে।

যদিও কিছু ধর্ম একে অপরের সাথে যুদ্ধ করে কিন্তু অন্যরা নিজেদের মধ্যে কলহে জর্জরিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তথাকথিত ধর্ম মতবাদ সংক্রান্ত
বিষয়গুলো নিয়ে তর্কবিতর্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রন কি অনুমোদনযোগ্য? গর্ভপাত সমন্ধে কি বলা যায়? সমকামীতার প্রতি কেমন দৃষ্টি ভঙ্গি থাকা উচিত? একজন মহিলার কি শাসক নিযুক্ত হওয়া উচিত? যুদ্ধের প্রতি কি ধর্মের অনুমোদন থাকা উচিত?এই ধরনের নানা মতনৈক্য দেখে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে - ''যে ধর্ম কিনা এমনকি নিজ সদস্যদের এক করতে পারে না, সেটা কিভাবে মানবজাতিকে এক করবে?''

স্পষ্ট্তই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্ম একতার এক জোরালো প্রভাব হতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন কোনো ধর্ম কি আছে, যা ভিন্ন __ যা মানব জাতিকে এক করতে পারে???





সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:১০
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×