somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলে গেলেন জার্মান লেখক গুন্টার গ্রাস

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ১৩ এপ্রিল পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন
নোবেলজয়ী এক সাহসি জার্মান লেখক গুন্টার
গ্রাস। এক অসাধারন প্রতিভাবান লেখক যিনি তার
লেখায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন সাহসিকতার
সাথে। যিনি জোড়ালো কন্ঠে সমালোচনা করেছেন
পশ্চিমাদের অন্যায় যুদ্ধ নীতির।
২০১২ সালে গুন্টার গ্রাস ইসরাইল আর পশ্চিমাদের
সমালোচনা করে ‘হোয়াট মাস্ট বি সেইড’ নামের
একটি গদ্য-কবিতা লেখেন।

অন্য দিগন্তে পাওয়া সায়ীদ আবুবকর অনুদিত
কবিতাটি নিম্নরূপ:

যা বলতেই হবে

কেনই বা নীরব থেকেছি এতকাল, করেছি কেবলি
ইতস্তত
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার বিষয়ে, যে খেলা প্রকাশ্যে খেলেই
চলেছে সব বিশ্বময়,
যে খেলার শেষে আমাদের যারা টিকে
থাকবে সভ্যতার
শুধু পাদটীকা হয়ে?
এটা তো প্রথম আঘাতের অভিযুক্ত অধিকার,
যা ধ্বংস করে দেবে পুরোপুরি ইরানি জাতিকে,
যাকে পরাভূত করতে চায়একটি উচ্চকণ্ঠ,
তার সাথে এসে মিলিত হয়েছে তার সাঙ্গপাঙ্গরা,
কারণ তার ক্ষমতার
চৌহদ্দির মধ্যে তারই বিরুদ্ধে বানানো হয়ে যেতে
পারে একটি অ্যাটোম বোমা।
তার পরও আমি কেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি সেই দেশের
নাম নিতে, যে ইতোমধ্যে
বানিয়ে ফেলেছে পারমাণবিক বোমা যদিও তা
আড়াল করে রাখা হয়েছে
পৃথিবীর নজর থেকে তার সেই ক্রমবর্ধমান শক্তির
ওপর কারো হস্তক্ষেপ নেই,
যাচাই-বাছাই করার কোনো ব্যাপারও নেই,
নেই পৃথিবীর মোড়লদের তদন্ত করে দেখার
মাথাব্যথাও।
এইসব বিষয়ের প্রতি সাধারণ নীরবতা, যার সামনে
আমার নিজেরই নীরবতা
নুয়ায়ে দিয়েছে তার শির, আমার কাছে মনে
হয়েছে একটি সমস্যা উদ্রেককারী
চাাপিয়ে দেয়া মিথ্যে, যা টেনে নিয়ে চলেছে
বিশ্বকে একটি শাস্তির দিকে,
ইহুদিবিরোধী মতবাদ তাতে ফুঁসে উঠতে পারে
সহজেই।
কিন্তু আমার নিজের দেশই, যাকে তার অতীতের
অপরাধকর্মের জন্য
প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে বারবার, সেই কিনা যখন
আরেকটি সাবমেরিন
সরবরাহ করে বসে ইসরাইলে (যেটা কিনা স্রেফ
ব্যবসায়িক লেনদেন
ছাড়া কিছু নয়, যদিও বলা হয়েছে যুদ্ধের
ক্ষতিপূরণস্বরূপ দেয়া হচ্ছে
ইসরাইলকে), এমন একটি রাষ্ট্রকে, যার অঢেল ক্ষমতা
রয়েছে আণবিক
যুদ্ধ চালানোর এমন এক জনপদে যেখানে একটিও
অ্যাটোম বোমা আছে
বলে প্রমাণিত হয়নি আজও, তাদের ভীতবিহ্বল
অস্তিত্বই প্রমাণ করে
দেয় তা, তখন আমাকে বলতেই হবে আমি যা বলতে
চাই আজ।
কিন্তু কেন আমি নীরব হয়ে আছি আজও?
তার কারণ, আমার মূল উৎস, যা মলিন হয়ে হয়ে গেছে
এমন এক রঙে, যা কিছুতেই মুছে ফেলা যাবে না;
তার অর্থ হলো, আমি কখনো প্রত্যাশা করিনি
ইসরাইল,
যার সাথে আমি সংশ্লিষ্ট থেকেছি সারা জীবন,
তার বিরুদ্ধে
এমন একটি সত্য প্রকাশিত হয়ে যাক।
তা হলে কেন এখন, যখন আমি বৃদ্ধ, আমাকে বলতে
হচ্ছে :
ইসরাইলের পারমাণবিক শক্তি বিপন্ন করে তুলেছে
ভঙ্গুর বিশ্বশান্তিকে?
কারণ আমাকে এ বলতেই হবে
কারণ আগামীকাল আমার জন্য ফিরে নাও আসতে
পারে
কারণ একজন জার্মান হিসেবে আমি খুবই
ভারাক্রান্ত
যখন একটি অপরাধের জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছি
আমরা
যার দ্বারা সমস্যার সমাধান হবে না কিছুই, বরং
বাড়বে।
আমি আমার নীরবতা ভেঙে বের হয়ে এসেছি
কারণ পাশ্চাত্যের ভণ্ডামি আমাকে অসুস্থ করে
ফেলেছে
এবং আমি আশা করি আমার মতো আরো অনেকেই
বের হয়ে আসবেন
নীরবতা ভেঙে
এবং আশা করি আমরা যারা প্রকাশ্য বিপদের
মুখোমুখি, তারা দাবি জানাবেন
না, কোনো শক্তি প্রয়োগ নয়
দাবি জানাবেন যে, ইরান ও ইসরাইল উভয়ই
আন্তর্জাতিক শক্তিকে অনুমতি দিক উভয় দেশের
আণবিক শক্তি ও
সামর্থ্য বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত
করার।
বাহিরের কোনো ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতাই
ইসরাইল কি প্যালেস্টাইনের জন্য
কিংবা তাদের জন্য যারা শত্র“তার মধ্যে বাস করে
তাদের চারপাশে
এমনকি আমাদের কারো জন্য শান্তি বয়ে আনবে না,
আমি নিশ্চিত।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×