আজকে ঘন্টাখানেক আগের কম্পনে প্রথমটায় ছিল ৭.১ মাত্রা। দ্বিতীয়টায় ৭.৪।
আল্লাহ না করুন, যদি এমন ভূমিকম্পের কেন্দ্র ঢাকার একশো কিলোর মধ্যে থাকে, মৃতের সংখ্যা কোটির বেশি হবার শঙ্কা।
এখনি সময় বাংলাদেশের ভবিষ্যত দুর্যোগের জন্য প্রতিবেশীদের মন জয় করার। এখনি সময়, রেসপন্স টাইম এর নতুন লিমিট সেট করার।
ভূমিকম্পটা কিন্তু শুধু নেপালের নয়, বাংলাদেশেরও। প্রথমবার ছিলাম রাজশাহীতে। সেদিন টের পেয়েছি যা ঢাকার মানুষ টের পায়নি। এবার ঢাকায় থেকে প্যানিক দেখলাম।
এই ভূমিকম্প আমাদেরও। এতে আমরা যেমন সাড়া দিব, আমাদের কোন দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে প্রতিবেশীরা ঠিক সেই মাত্রায় সাড়া দেবে।
বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বুরো নেপালের সাথে ক্লোজ কন্ট্যাক্টে কাজ করে। অথচ যতদূর জানি, প্রথম ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের ফায়ার-উদ্ধারকর্মীদের বাংলাদেশ ছাড়ার সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করতে ৪৮ ঘন্টার মত লেগে গিয়েছিল। এটা কোন শুভ লক্ষণ নয়। ভূমিকম্পের ৪৮ ঘন্টা পর মানুষ বাঁচানো যায় না, লাশ সরানো যায়।
বাংলাদেশ সরকারের জন্য অনন্য হবে, যদি আমরা এখনি সমস্ত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করে সেসব বোঝাই করে দেশ থেকে ফায়ার-আর্মি-পুলিশ-বিজিবি'র উদ্ধারকর্মীদের পাঠাই। যদি এখনি আমরা সামরিক ট্রান্সপোর্ট বিমানগুলোর সমস্ত শিডিউল বাতিল করে সেগুলো বোঝাই করে উদ্ধারকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, ইকুইপমেন্ট পাঠাই- যাতে বিদ্ধস্ত নেপালের উপর উদ্ধারকর্মীদের খাদ্যের জন্য চাপ না পড়ে।
লোক দেখানো ত্রাণ কার্যক্রম হওয়া উচিত দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনের উদ্যোগ। কেননা, এখন আগামী দুদিন মানুষ না খেয়ে মরবে না, বরং চাপা পড়ে মরবে। আর দুতিনদিন পর তখন ত্রাণটা আজকের উদ্ধারের মত জরুরি হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশের এ কাজটা করা উচিত নিজের স্বার্থের দিকে চেয়েও। হায়, যদি একটা এমন কিছু এদেশে হয়, আমরা পাতালে চলে যাব। সেখানে উদ্ধারের আশায় থেকে থেকে মরব, অথচ উদ্ধারকারী এলে বাঁচতেও পারতাম। ভবিষ্যতের নেপালি উদ্ধারকারীদের পথ দেখান, সমস্ত অভ্যন্তরীণ সামরিক-বেসামরিক উড্ডয়ন ক্যান্সেল করে নেপালে উদ্ধারকারী ও সরঞ্জাম পাঠান... সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও আট ঘন্টার জন্য ডিলে করে দিন।
(সিদ্ধান্তদাতাদের কাছাকাছি পৌছে দিন)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


