সুনসান নীরবতা। কোথাও একটা দু'টা পাখির চি চি ছাড়া সবই থেমে আছে৷ ফজরের আযান হলো। মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত হলো। এই বাড়ি থেকে একজন, ঐ বাড়ি থেকে একজন, সেই বাড়ি থেকে দুইজন করে করে মসজিদ মুখে মানুষের মিছিল শুরু হল। পথের কোথাও কুকুর শুয়ে আছে, কোথাও বিড়াল দৌঁড়ে রাস্তা পার হচ্ছে। আকাশে আবছা আলো জানান দিচ্ছে সূর্য সমাগত। গাড়ি নেই, দোকান নেই, কোলাহল নেই। নেই কারও ব্যস্ততা। পূন্যবান মুসল্লীরা হেঁটে চলেছেন।
মসজিদে চার পাঁচজন বসে আছেন। দুই একজন সুন্নাত পড়ছেন। একজন এমাথা-ওমাথা হনটন করে মৃদুস্বরে কুরআন পড়ছেন। একটা লাইট জ্বলছে আপন মনে। কিছু ফেন ঘোরছে। সবাই যার যার মতো মগ্ন। পরিবেশটা উপভোগ্য।
রাতের ঘুম যেন আল্লাহর পরম মায়া। সারাদিনের বিভিন্ন ব্যস্ততায় মানুষের হার্ডডিস্ক স্লো হয়ে যায়। অগনিত অ্যাপ্লিকেশন চালু হয়ে যায়। কিছুই ভালো লাগে না। আল্লাহর রহমতে মনুষ্য ডিভাইসের শাটডাউন হয়। ভোরে তারা জেগে উঠে এক অন্য মানুষ হয়ে। যেন কালকের জনে আজকের জনে কোনো মিল নাই। এক প্রশান্তি অনুভব হয়। সবকিছু ভালো লাগে।
মুয়াজ্জিন ইকামত দেন। ভালো লাগে। সন্ধ্যায় তো সেই ইকামত দিয়েছিলেন, এতো মধুর তো লাগে নি! হয়তো তখন ভালো লাগা কারে কয় সেটাই বুঝা হয় নি। ইকামত শেষ হল, ধ্বনি প্রতিধ্বনির রেশ রয়েই গেল। মনে এক উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘোরের উপস্থিতি প্রবলভাবে উপলব্ধি হয়। ভালো লাগার শেষ হয় না। ভালো লাগাটা চাপা পড়ে যায় আরেকটা ভালো লাগায়। ইমাম সাহেবের কেরাত, যেন তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলছেন। কেউ কি শুনেছ, প্রেয়সীর সাথে লোকে কিরকম মিষ্টি সুরে কথা বলে? দেখেছ কি কেউ, "আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে" বা "ফোন ধরা হয় নি" অপরাধগুলো ঘুচাতে কত তালবাহানা করে? আত্মভোলা কত কথা বলে?
আমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভালোবাসি। আমরাও সারাদিন অপরাধ করি। নামাজে দাঁড়িয়ে তাঁকে খুশি করার জন্যে অনুনয় বিনয় করি। যে আল্লাহকে যতটা ভালোবেসে মন থেকে নামাজ পড়ে আল্লাহ তার প্রতি ততটা খুশি হন। ক্ষমা করে দেন।
নামাজের পর সবাই গুনগুনানি সুরে মাসনুন দু'আ জপে। ভালো লাগে। যেন ফুল বাগিচায় ভোমরার আনাগোনা। সবাই যখন মসজিদ থেকে বের হয় যেন নিস্পাপ, নিস্কলঙ্ক, ভালো মানুষদের এক একটি কাফেলা......
এভাবেই শুরু হয় একজন মুসলিমের প্রতিটি দিন —এভাবেই শুরু হওয়া উচিত...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




